
সে সময় ইরান ও সৌদি আরবের রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ওপর ভর করে আমেরিকা এ অঞ্চলে ভারসাম্যমূলক নীতি বজায় রাখত।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাথিস বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে গেলে ইরানের বর্তমান ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি। তার ভাষায় "ইরানে গণতন্ত্রই নেই!!!
আমেরিকা যে কোনো উপায়ে ইরানের ইসলামী শাসন ব্যবস্থা উৎখাতের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের চেষ্টা, ইরানী যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস করা, তাবাস মরুভূমিতে কমান্ডো বাহিনী পাঠানো, ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে সাদ্দামকে সর্বাত্মক সাহায্য সমর্থন, কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বিরোধী জোট গঠন আমেরিকার ইরান বিরোধী কর্মকাণ্ডের কিছু উদাহরণ।

জনগণের রায়ের ওপর ভিত্তি করে ইরানে ইসলামী সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলেও আমেরিকার দৃষ্টিতে ইরান একটি অগণতান্ত্রিক দেশ। আমেরিকা কেবল ওই দেশকেই গণতান্ত্রিক বলে মনে করে কিংবা শত্রু মনে করে না যারা মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে। যেমন মিসর ও সৌদিআরবের মতন দেশগুলি অগণতান্ত্রিক হলেও সেখানে গনতন্ত্র নিয়ে আমেরিকার কোন উচ্চবাচ্য নেই, কেননা সেখানের অগণতান্ত্রিক সরকার মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করে চলছে।

ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের পর দেশটির জনগণ আমেরিকাসহ অন্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং স্বাধীনচেতা নীতি গ্রহণ করে।দেশটি এখন অন্য মুক্তিকামী জাতিগুলোর আদর্শে পরিণত হয়েছে। ইরানের এ আপোষহীন তৎপরতার ফলে একদিকে ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য নির্যাতিত জাতিগুলো আশাবাদী হয়ে উঠেছে অন্যদিকে ইসরাইল ও আমেরিকা তাদের অবৈধ স্বার্থকে বিপন্ন দেখতে পাচ্ছে। বিপ্লব বিজয়ের পর গত চার দশক ধরে ইরান তার অবস্থানে অটল রয়েছে এবং দেশটির শাসন ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হয়েছে।

সম্প্রতি নির্বাচনের সময় পশ্চিমা গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করছিল যে ইরানের জনগন ইরানী নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করবে অথচ নির্বাচনের দিন তাদের সংবাদেই প্রকাশিত হয়েছে ইরানের ৭৪% নাগরিক তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে যা পশ্চিমা দেশগুলোতেও বিরল!!!

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ১১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


