ইনস্টাগ্রামে স্ক্রল করার সময় দেখি প্রভা হাসিমুখে লেকের পাড়ে বসে আছেন। অনেকদিন পরে প্রভাকে দেখে সাত বছর আগে কলেজ জীবনের কথা মনে পড়ে গেলো। টিভি নাটক আর বিজ্ঞাপনে তখন তিনি ছিলেন ভীষণ পপুলার। ভারী গলায় তার আলাপ আর ভুবন ভুলানো রূপ দেখে কতবার যে প্রেমিকাদেরকে প্রভার সাথে তুলনা করেছি।
একদিন শুনি কিশোর পাড়ায় প্রভাকে নিয়ে ফিসফিসানি আর ঠাট্টাতামাশা চলছে। নিজেও সামিল হলাম সেই সস্তা তামাশায়। মনেমনে তার প্রতি যেই ভাল লাগাটি ছিল লোকের তামাশার ভয়ে সেটি ধীরেধীরে চাপা পড়ে গেলো। কারোর কাছে তখন আর সাহস করে বলতে পারিনি যে সাদিয়া জাহান প্রভার গোটা পঞ্চাশেক ফটোগ্রাফ নিজের সংগ্রহে আছে।
তারপর একদিন বড় হলাম। প্রভার কথাও মনে নেই আর। ভেবেছিলাম তিনি হয়ত দেশ ছেড়ে চলে যাবেন অথবা এতবড় চাপ না নিতে পেরে শেষপর্যন্ত সুইসাইড করবেন। অথচ কি আশ্চর্য প্রভা তার ক্যারিয়ার ধরে রাখলেন। একটু বিরতি দেবার পরে আবার নিয়মিত নাটক করতে লাগলেন। অনলাইনে প্রকাশ করা প্রতিটি ছবিতে হাজারবার বেশ্যা, মাগি সম্বোধন দেখার পরেও তিনি হাসিমুখে নিজের সুন্দর সুন্দর ছবিগুলো শেয়ার করলেন। না মরে গিয়ে বেশ্যা উপাধি নিয়ে হলেও বেঁচে রইলেন।
ঠিক এইখানেই একা প্রভা আর আমাদের পুরো সমাজটির মাঝে পার্থক্য। সমাজ চাচ্ছিল ঠাট্টার চাপে পড়ে প্রভা পালিয়ে যাক, প্রভা হারিয়ে যাক অথবা প্রভা মরেই যাক অথচ শত অপমান সহ্য করে হলেও তিনি বেঁচে থাকতে চাইলেন। তিনি সংসার করলেন। স্বামীর সাথে নিজের জীবন সাজালেন। নিজের সাথে হওয়া অন্যায়কে তিনি মোকাবেলা করলেন। একটু আগে ইনস্টাগ্রামে স্ক্রল করার সময় দেখি কিশোর বয়েসের ক্রাশ প্রভা হাসিমুখে লেকের পাড়ে বসে আছেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




