বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রর পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, “বিচারব্যবস্থার ওপর ক্রমশ বাড়তে থাকা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এমনিতেই সমস্যা জর্জরিত বিচার ব্যবস্থায় আরো সমস্যা তৈরি করছে এবং এতে বিরোধী দলগুলোর সদস্যদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সঙ্কুচিত হচ্ছে।”
এমন একটি সময়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ হল, যখন হরতালে বিস্ফোরণ ও গাড়ি পোড়ানোর মামলায় বিরোধীদলীয় শীর্ষনেতাদের কারাবন্দি হতে হয়েছে এবং তারা আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গুম, হেফাজতে মৃত্যু ও হয়রানিমূলক গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়ী। এছাড়া প্রায়ই ক্ষমতার অপব্যবহার করেন তারা।
“নাগরিকের ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন করে কর্তৃপক্ষ,” বলা হয় প্রতিবেদনে।
অবাধ বাকস্বাধীনতা না থাকা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে সাংবাদিক নির্যাতন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত সহিংসতা এখনো বাংলাদেশে সমস্যা হিসেবে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এতে আরো বলা হয়, ‘দায় মুক্তির’ ঘটনা অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
গুম
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে বাংলাদেশে গুম ও অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। এসব ঘটনার অনেকগুলোর পেছনেই নিরাপত্তা বাহিনীর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এই সময়ে গুম ও অপহরণের মোট কতটি ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি ওই প্রতিবেদনে।
“অধিকারের (দেশের মানবাধিকার সংগঠন) হিসাবে, এই সময়ে ৩০টি গুমের ঘটনার সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সম্úৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। আর ২০১০ সালে এ ধরনের নয়টি ঘটনার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি অভিযোগ ছিল।”
পুলিশ সাধারণত অকার্যকর এবং তারা ক্ষমতাসীন দলের কারো বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা তদন্ত করতে চান না বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।
“নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে দায়মুক্তি ব্যাপক মাত্রায় রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর নিপীড়নের ঘটনা তদন্তের বিধি থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ ঘটে না,” বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
সীমান্তে সহিংসতা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় সীমান্তে চলমান সহিংসতা এখনো একটি সমস্যা হয়ে রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে ৩১ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
“ফেলানির মৃতদেহ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আগে সীমান্তের কাটাতারের বেড়ায় পাঁচ ঘণ্টা ঝুলে থাকে তার লাশ।”
তথ্যসুত্র : বিডিনিউজ২৪.কম
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১২ সকাল ৯:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


