somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

পথশিশুদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির মজাই আলাদা!

০২ রা আগস্ট, ২০২১ রাত ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আপনি হয়তো কখনোই সুখকে কিনতে পারবেন না, কিন্তু, দিলখুশ করা কিছু সুখী মূহুর্ত আপনাকে এমন কিছু কিনতে সাহায্য করবে যা অভাবীদের স্বপ্ন পুরণে সাহায্য করতে পারে। কখনো কোন দামী বিপনীবিতান, রেস্টুরেন্ট বা মার্কেটের আশেপাশে লক্ষ্য করেছেন কি? খেয়াল করে দেখেছেন কি কিছু পথশিশু বেলুন বিক্রি করছে? এমন হরহামেশাই দেখা যায়।

আমি বেশ কয়েক দিন এই পথকলিদের দিকে লক্ষ্য করে দেখেছি, এরা কখনোই দোকান হতে বের হবার পরে আমাদের হাতে ধরা ১০টা প্যাকেটের দিকে তাকায় না। বরং, কেন যেন, তাকিয়ে থাকে আমাদের মুখের দিকে। কেন? তাদের কি ইচ্ছা করে না ঐ ব্যাগে কি আছে তার দিকে একটু লোভাতুর নয়নে চেয়ে দেখতে? তাদের কি ঐ মূল্যবান কাপড়ের দোকান একবার ঘুরে আসতে সাধ জাগে না?

এমনই এক ভাবনা থেকে, গত ঈদের আগে, হঠাৎ করেই মনে হলো, পথশিশুদের এমন কোন দামী কাপড়ের দোকানে একসাথে দলবেঁধে ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের পছন্দমতো জামাকাপড় কিনে দেওয়া যাক! যেই ভাবা, সেই কাজ!

আমার স্ত্রীকে পরিকল্পনাটা বলাতেই, লাফিয়ে উঠলেন। খুব পছন্দ হলো তাঁর আমার এই ইচ্ছা। ঠিক করলাম, লালমাটিয়ার আড়ং-এ নিয়ে যাবো পথশিশুদের। তারপরে, কিনে দিবো বোনাসের টাকা দিয়ে তাদের নিজেদের পছন্দ করা কাপড়!

নির্দিষ্ট দিনে, আমি আর আমার সহধর্মীনী চলে এলাম আড়ং-এ। কিন্তু, হায়! ঐদিন একটা পিচ্চুসকেও পেলাম না! ধানমণ্ডি সাতাশ ঘুরে রাপা প্লাজার সামনে দিয়ে চক্কর দিলাম। নেই তো নেই! কেউ নেই!

কোথায় গেলো! খুঁজতে খুঁজতে বের করলাম, আসাদগেট নিউকলোনীর মাঠের বাজারে সব কয়টা ভিড় করে আছে! গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম- ''তোরা কয়জন এখানে?" সাথে সাথে ৩০-৩৫ জনের একটা দল দাঁড়িয়ে গেলো! সবাই পথশিশু। লাইন ধরিয়ে তাদেরকে হাঁটিয়ে নিয়ে গেলাম আড়ং-এ। যাওয়ার সময়ে সব্বাইকে মাস্ক পরান আমার স্ত্রী।

আড়ং-এর গেইট দিয়ে ঢোকার মূহুর্তে গার্ডকে ঘিরে হুড়োহুড়ি পড়ে গেলো। সবার হ্যান্ড স্যানিটাইজার চাইই চাই! বিশেষ করে সবচেয়ে ছোটগুলা 'আমারে দেন, আমারে দেন' বলে চিৎকার দিতে লাগলো! 'এঁদের নিয়ে কি যে করি' - সেটাই ভাবছিলাম। শেষে আমাকেই গিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হলো।

পিচ্চি-পাচ্চাগুলোকে নিয়ে কাপড় চয়েসের সময়ে খুব ঝামেলা হবে ভেবেছিলাম। কিসের কি! আড়ং-এঁর সেলস গার্লস আর ম্যানরা খুব সাহায্য করলেন। আড়ং-এ সেদিন বেশ ভিড় ছিলো। অথচ, একজন কাস্টমারকেও পথশিশুদের দেখে নাক সিটকাতে দেখলাম না। বরং, অনেকে ফোটো তুললেন তাদের সাথে! সঙ্গে আড়ং-এর কর্মীরাও!

সত্যিই, অভূতপূর্ব একটি দিন গিয়েছে সেদিন!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০২১ রাত ৩:২৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাংস পোলাও

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:০১



সেন্ট্রাল ঢাকার কথা মনে হলেই সামার সাহেবের মনে ও শরীরে শত সহস্র ক্লান্তি এসে ভর করে। রাজধানী ঢাকার সড়কে এতো এতো জ্যাম পেড়িয়ে সেন্ট্রাল ঢাকাতে যাওয়া সত্যি সত্যি এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে চিঠির কারণে ভারতীয় উপমহাদেশের ট্রেনগুলোতে টয়লেট বানানো হয়েছিলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:২১

অখিল বাবু অখণ্ড ভারতের আহমেদপুর স্টেশনে প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্যে ট্রেন থেকে নেমেছেন। হঠাৎ করেই গাড়ি ছেড়ে দিলো। এতে তিনি খুব অপদস্থ হোন। অখিল বাবু এরপরে রেল বিভাগের উচ্চ কর্মকর্তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবনিক-৩য় পর্ব (দ্বিতীয় খন্ড)

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৪৪


আগের পর্বের জন্যঃ Click This Link
লিনার সাথে এর মাঝে কয়েকবার দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে। দু-য়েকবার পার্কে আর বাকি সময় বাসাতেই। ওর মায়ের সাথে গল্প হয়েছে- তিনি একদিন আমাকে ঐতিহ্যবাহী বোরিশ স্যুপ রান্না করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়েলস রাজ্যে গমন, ভ্রমন এবং একটা ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:০৩



গত ১৭ তারিখ শুক্রবার সকালে অফিসে গিয়েই একাধারে দুঃসংবাদ এবং সুসংবাদ শুনলাম। আগে সুসংবাদটা বলি। সেটা হলো, সোমবার সকালে তিনদিনের জন্য আমাকে ওয়েলস যেতে হবে। আর দুঃসংবাদটা এক কথায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এর মধ্যে থেকে সেরা তিনটি ছবি নির্বাচন করুন

লিখেছেন অর্ক, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ১২:১৫

আপনার দৃষ্টিতে এই ছবিগুলোর মধ্যে সেরা তিনটি ছবি কোন তিনটি? ক্রমিক দিয়ে জানান। অল্প কথায় নির্বাচনের কারণ জানালে তো আরও দারুণ হবে। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। শুভকামনা সবসময়।

১.


Sharmishtha Bera

... ...বাকিটুকু পড়ুন

×