
সেই কলেজ লাইফ থেকেই আমার মনে একটা জিজ্ঞাসা- বাংলাদেশের লক্ষাধিক রিকশাওয়ালা কি বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারেন? প্রয়োজন হলে তাঁরা কোথায় প্রাকৃতিক কাজ সমাধা করে থাকেন? দুটি প্রশ্নের উত্তর পেতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়। আমি একদিন বুঝতে পারি, ঢাকার রিকশাওয়ালারা বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারেন না। এঁর, প্রাকৃতিক কাজে রাস্তাই তাঁদের সম্বল!
সেই দিন থেকেই, আমার ইচ্ছা ছিলো- ঢাকার পথচারীদের জন্যে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করবো। এতো দিন সময় ও সুযোগ হচ্ছিলো না। শেষ পর্যন্ত এই জুলাই মাসের ১২ তারিখ বিশুদ্ধ পানির প্রোগ্রামটি শুরু করি।
খুবই সাধারণ একটি কাজ। লালমাটিয়ার একটি যাত্রী ছাউনীতে প্রতিদিন একটি করে আলপাইনের জার বসানো থাকে। প্রতি সপ্তাহে ৭ টা। সেখান থেকেই একটি ডীস্প্যান্সারের মাধ্যমে সাথে থাকা মগে ঢেলে পানি পান করেন পথচারীরা। আমি লক্ষ্য করে দেখেছি- তাঁদের বেশির ভাগই সমাজের খেটে খাওয়া শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ, বিশেষ করে রিক্সাওয়ালারা।
সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫.৩০-এর মাঝে প্রতিদিন একটি জারের পানি শেষ হয়ে যায়। আমার কেয়াটেকার সকাল ৯টায় জারগুলো বসায়, আর বিকালে খালি জার ফেরত নিয়ে আসে।
যখন দেখি এই ঠা ঠা গরমে কেউ জার থেকে পানি ঢেলে খাচ্ছেন, কি যে শান্তি লাগে বলে বুঝাতে পারবো না! আস্তে আস্তে, এই সি, এস, আর, প্রোগ্রামটি বিস্তৃত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা করছি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



