
করোনা পরিস্থিতিতে সবাই-ই ভয়ে আছেন। ডাক্তাররাও এর ব্যতিক্রম নন। বেশিরভাগ ডাক্তারই নিজেদের সুরক্ষা-জালে রেখে, সামাজিক দূরত্ব মেনে রোগীর সেবা করে যাচ্ছেন বলে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু, গর্ভবতী নারীদের প্রসব ব্যাদনা উঠলে ডাক্তারদের কাছে আসতেই হয়। সেই পরিবেশে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাটা সম্ভব হয় না। তাহলে এখন ডাক্তাররা কি করবেন? আর, গর্ভবতী নারীদেরই বা কি হবে যদি ডাক্তার কাছে আসতে অপারগ হোন?
এমনই এক পরিস্থিতিতেই আমি এবং আমার স্ত্রী পড়েছিলাম গত সপ্তাহে। গর্ভবতী অবস্থায় আমার স্ত্রী করোনাক্রান্ত হোন। তা প্রায় এক মাস আগে তিনি করোনা থেকে মুক্তি লাভ করেন। গত সপ্তাহেরই একদিন, পেটের বাচ্চা নড়া-চড়া করছিলো না প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে। ডাক্তারকে জানাতেই বললেন যে, অক্সিজেন দিয়ে বাচ্চার মুভমেন্ট ফিরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন। তা নাহলে, সিজার করতে হতে পারে। কিন্তু, যেহেতু, আমার স্ত্রীর একবার করোনা হয়েছে, সেহেতু টেস্ট ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা যাবে না।

২৭শে জুলাই। রাত তখন ৮-৯টা বাজে। ডাক্তারের পরামর্শ মতো আমার স্ত্রীকে হাস্পাতালে ভর্তি করলাম। অক্সিজেন দেওয়ার পরেও বাচ্চার নড়লো না। ডাক্তারকে খবর দিতেই বললেন একটা ইনজেকশন দিয়ে পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান, যদিও বিপদ হতে পারে। অথবা, নির্দিষ্ট ডেইটের এক মাস আগেই সিজার করাতে হবে। আমরা সিজারের পক্ষেই সায় দিলাম।
এবারে ডাক্তার জানালেন যে, করোনা টেস্ট করাতে। এরপরেই তিনি আসবেন! সাথে সাথে রেপিড টেস্ট করানোর ব্যবস্থা করা হলো। রিপোর্ট আসতে দেরী হচ্ছে, এর মাঝেই আমার স্ত্রীর প্রসব ব্যাদনা উঠলো। ডাক্তার আসছেন না। তাঁর করোনা টেস্টের রিপোর্টটা দরকার। এভাবে করেই রাত ৩টা বেজে গেলো। রিপোর্ট নেগেটিভ। ২৮শে জুলাই সুবেহ সাদেকের আগে ৩.০৫-এ জন্ম হলো আমার মেয়ের।
শহরাঞ্চল বা গ্রামগুলোতেও কি একই অবস্থা? গর্ভবতী মায়েদের এমন অবস্থায় কি ডাক্তাররা কাছে আসতে ভয় পাচ্ছেন? তাহলে তো বিপদ! এক্ষেত্রে কি করণীয় তা নিয়ে এখনই চিন্তা করতে হবে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ৩০ লক্ষ মহিলা আমাদের দেশে প্রতি বছর গর্ভধারণ করেন।
যারা গর্ভবতী, এইখানে দেওয়া নাম্বারে ফোন করে পরামর্শ নিতে হবে- https://corona.gov.bd/
অথবা, এই নাম্বারে মা টেলিহেলথে কল করে পরামর্শ নিতে হবে- ০৯৬৬৬৮৮৮৮৮৮ । ফোন করে একটু হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। তবে, ফোনে পরামর্শ পাওয়া যায়। আমি কল করেছিলাম। হেলথ অফিসার জানালেন যে- ১২-৩৩ সপ্তাহের গর্ভবতীরা টিকা নিতে পারবেন। ৮-৯ মাসের কেউ নিতে পারবেন কি না সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৩:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



