আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি সেখানে বসেই মাসুদ ভাইকে জানাই - আমি এই বইয়ের জন্যে কোন রয়ালটি চুক্তিতে যাবো না, অর্থাৎ, বই বিক্রয় থেকে আমি কোন লভ্যাংশ নিবো না।
আমার বইটি মূলত সর্বগুরু রুমী-হাফেজ-শেখ সাদীদের কিছু অনুবাদ। আর, সেই সাথে আছে আমার কিছু ফিলোসফিকাল লেখা। গ্রেট ব্রিটেনে থাকতে উপরেল্লিখিত গুরুদের বিভিন্ন লেখার উপর ভিত্তি করে কীভাবে কনটেমপ্লেশন করতে হয় তা শিখেছিলাম, যা সম্পূর্ণ বিনে পয়সায় ছিলো। সেই সময়ে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, যদি কখনো কীভাবে সুন্দর করে লিখতে হয় তা শিখতে পারি, আমি নিজ লেখা নিয়ে বই প্রকাশ করে তা সম্পূর্ণ ফ্রিতে বিলাবো।
দেশে আসার পরে সামুতে লেখালিখি করি। প্রথমে শুধুই ডিজিটাল 'গার্বেজ' উৎপাদন করতাম। একদম হাসবেন না, প্লিজ!!! নিজ পুরাতন লেখা পড়লে এখন নিজেরই হাসি পায়! এই সামুই আমাকে একজন লেখক হিসেবে প্রিন্টেড বই বের করার সাহস যুগিয়েছে। সেই সাহস নিয়েই ২টি বই বের করি, নিজ খরচায়। দুটিই বের হয় মওলা ব্রাদার্সদের ছোট ভাইয়ের উত্তরণ প্রকাশনী থেকে।
সামু থেকে লেখালিখি শিখতে আমার কোন পয়সা লাগে নাই। অন্য ব্লগারদের লেখা পড়ে পড়েই আমি একজন ব্লগার হিসেবে বিকশিত হয়েছি। সেজন্যই, এরকম বোধদয় হয়- যে জ্ঞান সম্পুর্ণ বিনে পয়সায় পেয়েছি, তা বেঁচে অর্থ নিবো কেন!
আমি মাসুদ ভাইয়ের রয়ালটি নেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বললাম, আমার বইয়ে লিখে দিবেন যে, প্রকাশনার অর্থ উঠে আসার পরে, এই বই বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশদের জন্যে খরচ করা হবে।
আমার মনে হয়, আজ যদি শামস তাবরীজি, রুমী, হাফেজ আর শেখ সাদীরা বেঁচে থাকতেন, তাঁরা এই খবর পেলে অনেক খুশি হতেন। আমার এই ১০ম বছরে সবাই আমার জন্যে বেশি বেশি প্রার্থনা করবেন যাতে আমি আরও ভালো কিছু দিতে পারি।
সামু দীর্ঘজীবী হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
.jpg)