বাংলাদেশের বর্তমান সরকার চমৎকার একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। এটা খুব ভালো একটি ডিসিশন। এতে কিছু মানুষ উপকৃত হবেন। কিন্তু, আমাদের দেশের উদ্যোক্তাদের বর্তমান স্কিলস এবং মানসিকতা অনুযায়ী তাঁরা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারবেন না বলেই মনে হচ্ছে। তাই, প্রয়োজন, যৌথ বিনিয়োগ। সরকার যদি উদ্যোক্তাদের ব্যবসার যৌথ মালিকানা কিনে নেন, অর্থাৎ, শেয়ার কিনে নেন, এতে বিনিয়োগকৃত ব্যাংকগুলোর অর্থ সময় মতো শুধু উঠে আসবে না, লাভেড় অংশীদারও হবে সরকার ও ব্যাংকগুলো।
আমি নিজে একজন উদ্যোক্তা। অতি সম্প্রতি, আমি একটি ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম বানিয়েছি। নাম - বেঙ্গল চ্যাম্প। আমরা ডিজিটাল কোর্স বানানোর উদ্যোগ নিয়েছি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, ব্যাংক লোন এক সময়ে উদ্যোক্তার একটি বোঝা হয়ে যায়। ফলে, যখন তাঁরা ব্যাংকের ইন্সটলমেন্ট দিতে অপারগ হোন, তখন বিভিন্ন ফাঁকফোকর খুঁজতে থাকেন। এক সময়ে পুরো ডিফল্টার হয়ে হয় ব্যবসা বন্ধ করে পালিয়ে যান, অথবা, নিজের জায়গা-জমি বেঁচে ব্যাংকের সুদ দিতে থাকেন। ফলে, লাভের মুখ দেখা সম্ভব হয় না।
এখন, ব্যাংকগুলো বা সরকার যদি বিনিয়োগের বিনিময়ে এই ধরণের উদ্যোক্তাদের ব্যবসার শেয়ার কিনে নেন, তাহলে কী হবে? এইসব উদ্যোক্তারা যেমন মানসিক ভাবে শক্তি পাবে, তেমনি ম্যানেজমেন্টের কারণে লাভের মুখ দেখা থেকে বঞ্চিত হবার সম্ভাবনা কমে আসে। প্রয়োজনবোধে সরকার বা ব্যাংকগুলো ব্যবস্থাপনার জন্যে টপ ম্যানেজারদের নিয়োগ করতে পারেন।
তবে, এরজন্যে মূল বাধা হচ্ছে, আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো। সরকারকে মুলধন ও বিনিয়োগ বান্ধব হতে দিচ্ছে না এই অবকাঠামো। 'প্রাইভেট-পাবলিক পার্টানারশীপ অথরিটি' নামে আমাদের সুন্দর একটা ডিপার্টমেন্ট আছে। কিন্তু, তা বড় বড় প্রজেক্টে কাজ করার জন্যে, ক্ষুদ্র ব্যবসায় একদমই অকেজো এই ডিপার্টমেন্ট। সেজন্যে, এর উন্নয়নে প্রয়োজন সংসদে দ্রুত আইন পাস করা। মাননীয় অর্থমন্ত্রী আশা করি এই দিকটা ভেবে দেখবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


