somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক ব্যস্ত সকাল - োঃ শামীম –উল- আলম

১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তাড়াতাড়ি ওঠ , সাড়ে পাচঁটা বাজে । ভার্সিটিতে যাবিনা ?
ওফ্ ! এক রকম বিরক্তি নিয়েই ঘুম থেকে উঠে বসল শরীফ ওরফে মুহাম্মাদ শরীফ-উজ-জামান । বাবার ডাক শুনে আর শুয়ে থাকার জ়ো নেই ,কি সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিল সে ! ঢুলুঢুলু চোখে সে উঠে বসল বিছানায় । হাতে মোবাইলটা নিতেই চোখে পড়ল -2 missed calls . চেক করতেই ভেসে উঠলো সুখেন আর রিমার নাম ; রিমার কল ছিলো রাত ২ টায় আর সুখেনের কল ছিলো রাত আড়াইটায় – তবে বেশিক্ষণ মনেহয় কথা বলা যেত না । তারটা সিটিসেল ,সুখেনেরটা গ্রামীন তাও আবার ইজি গোল্ড আর রিমারটা ডিজুস ! হলে থাকলে ডিজুস সিম ধার নিয়ে কথা বলা যেত । সেট রফিকের কাছে চাইলেই সে দিয়ে দিত ; সিম পাভেল ভাইয়ের কাছ থেকে নেয়া যেত । ওনার সিমটা শরীফই চালায় বলতে গেলে - সেই টাকা ভরে । নাহ্ , একটা সেট না কিনলেই নয় । সেট তো নকিয়া ছাড়া ভাল নাই - আচ্ছা একটা নকিয়ার দাম কত ? নতুন দরকার নেই সেকেন্ড হ্যান্ড হলেই হবে। ইশ্, তাদেরগুলো কেন যে সিটিসেল হল না !
ঘুম থেকে উঠে বসে আছিস কেন ? তাড়াতাড়ি দাঁত মেজে গোসল করে আয় । - এবার মার ডাক ।
ওফফ্ , শান্তিমত চিন্তাও করা যায়না । যাচ্ছি বলে তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে নামতে গিয়ে পাশে রাখা চেয়ারটায় পায়ের আঙ্গুল্টা বাড়ি লাগল । ব্যাথায় ককিয়ে উঠল সে । নাহ্ , দিনের শুরুটা ভাল হল না - আর কত বিপদ আছে কে জানে ? ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে বাথরুমে ঢুকে সে দাঁত মাজা শুরু করল । দাঁতের আবস্থা দেখে তার নিজেরই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল – একদম হিমুর হলুদ পাঞ্জাবির মত হলুদ দাঁতের রং ! কাল সে দাত মাজতে ভুলে গিয়েছিল - এটা ঠিক কিন্তু কেন ভুলে গিয়েছিল তা তার মনে পড়ছে না । কি যে হল তার , কিছুই মনে থাকছে না – বুড়ো হয়ে যাচ্ছে নাকি সে ! ধুস্ কি চিন্তা করছে সে ? এখনি সোয়া ছয়টা বাজে ,আরো তাড়াতাড়ি করা উচিত তার । তার আবার বাথরুমে ঢুকলেই নানা রকম সৃষ্টিশীল চিন্তার উদয় হয় । কখন দু চারটে ধাঁধাও মনে পড়ে তার - সেগুলো সমাধান না করে যে সে বের হতে পারে না সেটা কি কাউকে বোঝানো যায় !
আচ্ছা আমি না একটা স্বপ্ন দেখছিলাম ! কি জানি দেখছিলাম ? দূর ছাই , মনে আসছে না কেন ? এ কথা ভেবে সে বিরক্ত হয়ে পড়ে ।
কিছুক্ষণ পর যথারীতি দরজায় আবারো টোকা পড়ে- একবার বাবা , পরেরবার মা।
নাহ্, আর পারা গেলনা। তার চিন্তায় এত বাধা দেয়া হচ্ছে কেন ? সারাবিশ্বেই তো মুক্তবুদ্ধির ধারক-বাহকদের উপর নির্যাতন চলছে। কত বড় বড় লেখক সাংবাদিক জেলে পচছে ; অনেককে মেরেও ফেলা হচ্ছে । সরকারগুলোও কোন রকম গা করছে না , তারা যেন সমাজের প্রভাবশালী, গোঁড়া মানুষদের খুশী করতেই বেশি আগ্রহী । তাদের চিন্তাটাও অনেকটা এরকম - মরলে মরুক, আমাদের কি? কি দরকার ছিল বাবা এত কিছু লেখার ! যাও , এখন স্বর্গে গিয়ে যত খুশী মুক্তবুদ্ধির চর্চা কর !
নাস্তা খেতে খেতে এসব কথাই ছিন্তা করছিল সে। মা তা দেখে বললেন, ভাত গো্নার জন্য দেইনি, খাওয়ার জন্য দিয়েছি । সাতটা বাজে প্রায় , তাড়াতাড়ি বের হয়ে যা , দেখ বাস পাস কিনা !
আসলেইতো অনেক দেরি হয়ে গেছে ! তারপর নাস্তা সেরে ব্যাগটা টান দিয়ে তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে গেল বাসা থেকে । একটা রিকশা দেখে উঠে বসল। তারপর রিকশায় যেতে যেতে একটা হিসাব কষে ফেলল সে । তার বাসার ঘড়ি দশ মিনিট ফাস্ট ; এখন বাসার ঘড়িতে বাজে সাতটা দশ তার মানে সাতটা। বাস ধরে সাইনবোর্ড যেতে লাগবে বড়জ়োড় দশ মিনিট । বুয়েটের বাস সাতটা পনের মিনিটে সাইনবোর্ড পাস করে তার মানে তার হাতে সময় থাকছে টেনেটুনে পাঁচ মিনিট ! বাহ্ , অনেক সময় দেখা যাচ্ছে । বাসে উঠে সিট নিয়ে বসল সে ।
সকালের সোনালী রোদ তার মুখের একপাশে পড়ল । আহা কতদিন এমন রোদ মুখে পড়ে না ! আসলেই অনেকদিন ? নাহ মাত্র তিনদিন । এই তিনদিনই সে বাসায় ছিল । বাসায় আসলে তার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয় , রুটিন এলোমেলো হয়ে যায়। তার আবার সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস ; প্রতিদিন সকাল ছয়টার আগে ঘুম থেকে উঠে সে । তারপর হাতমুখ ধুয়ে জিমে যায় ; শালার বাসা আসলেই তার সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায় । নিজেকে সম্মানিত অতিথি মনে হয় ! এই মুহূর্তে তার একটা কবিতা মনে পড়ছে –
আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর
কেমনে পশিল গুহার আধারে
প্রভাত পাখির গান ।
আচ্ছা কার কবিতা যেন ? মনে পড়েছে - কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর । তার কবিতা শরীফের ভালই লাগে তবে উপন্যাসগুলো কেমন জানি ! একটা মোটে উপন্যাস পড়েছে সে - শেষের কবিতা । নৌকাডুবি উপন্যাস্টা পড়তে হবে । তার কাছে এই উপন্যাসটা নেই ; এখন বইটি কেনাও যাচ্ছে না । হাত খালি করা উচিত হবে না । কারো কাছ থেকে ধার করা যায়না ? রিমার কাছে চাওয়া যায় , কিন্তু সেতো এখন হলে আছে - কবে আসবে ঠিক নেই । আরে মেজ চাচার কাছ থেকেইতো ধার করা যায় ; উনিতো প্রচুর বই পড়েন । উনার নিজের লেখা একটা উপন্যাস আছে ।
ঐ সাইনবোর্ড নামার আছে ? থাকলে গেটে আয়েন ।
হেলপারের চিৎকার শুনে আর বসে থাকার উপায় নেই । চিন্তা বাদ দিয়ে সে নেমে গেল বাস থেকে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৮:৩৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×