আগের দিন আপার বাস ঢাকা থেকে বিকাল ৬ টায় ছেরে পৌছালো ভোর সারে ৩ টায়। সেই বারটা থেকে কাউন্টারে বসা। বাসায় এসে বিছানায় যেতে যেতে ৪ টা বেজে গেল। এমনিতেই ছুটিতে বাসায় আসলে দেরি করে ঘুম থেকে উঠি। আম্মু এজন্য সারাক্ষন গজ গজ করেন। আজকে লাইসেন্স পেয়ে গেলাম। সারে দশটার দিকেই মবাইলের শব্দে ঘুম ভেংগে গেল। আন্নোন নাম্বার দেখে রিসিভ করলাম না। আরে! বেটা ফোন করতেই আসে। রিসিভ করলাম। শামায়েল ভাই আমি ওমুক তমুক কম্পানি থেকে বলছি। এই ঈদের বন্ধেও সাপোর্ট কল। াল! ফোন রাখার পর অনেক এদিক ওদিক করলাম কিন্তু সাধের ঘুম তো আর আসেনা। কিছুক্ষন মুঠোফোনে আজাইরা ব্রাউয করলাম। বিডিনিউয, ফেসবুক হাবিজাবি। শেষে সকাল সারে এগারটায় না পারতে উঠতে হলো। ড্রইং রুমে পেপার ২ টা নিয়ে বসলাম। একটা স্থানিয় দৈনিক আজাদী আরেকটা প্রথম আলো। 'কি ব্যাপার দাত মাজলে নাস্তা করে নাও' আম্মু এসে বললো। দাত মেজে নাস্তা পর্ব শুরু। এর মধ্যে কিছু গেস্ট আসলো। সবার সাথে পরবর্তি নির্বাচন নিয়ে বিশদ আলোচনা।
আড়াইটার দিকে টেবিলে ভাত। বল্লাম 'আমিতো মাত্র নাস্তা খাইসি। 'তোমার জন্য কি ও (কাজের বুয়া) সারাদিন ওয়েইট করবে নাকি?' আম্মু ধমক দিল। ভাবলাম কথা তো ঠিক। কাজের লোক হলেও ওরাও মানুষতো। কি আর করা অল্প করে খেলাম। 'আব্বু একটু সিরিয়াস হও। এভাবে চললে কেমনে হবে? তোমরা এখন বড় হচ্ছ তো।' আম্মু আবার শুরু করেন। এরপর দুপুরে আরেকচোট মিনি ঘুম।
বিকালে সবাই টিভি দেখছিলাম। হঠৎ আম্মু এসে বল্লো এই আমার এটিএন ঈদ রান্না! রিমোট বেদখল হল। প্রথম রেসিপি বেক্ট চিকেন। 'এই কোরবানে চিকেন রেসিপি দিয়ে কি কোরবেন'? তিনি খাতা কলম নিয়ে রেসিপি লিখতে যেয়েও লিখলেন না। হোস্ট খাবার রান্না শেষে টেস্ট না করেই বলছে দারুন হয়েছে। আজিব! নেক্সট্ রেসিপিটা বিফ কি যেন। এবার সবাই খুব সিরিয়াস। উপকরন যা যা লাগবে পেয়াজ, আদা, রসুন.. 'আচ্ছা বাসায় কি পেয়াজ, আদা, রসুন আসে তো?' হঠাৎ বেরসিকের মতো আব্বু আম্মুকে জিগেস করেন। 'দেখতেস আমি একটা কাজে কন্সান্ট্রেট করতেসি। জানিনাহ।'
সন্ধায় আম্মু হাতে লিস্টি দিলেন। 'পরটা অর্ডার দিতে গেলে এগুলা নিয়ে আসবে'। 'আব্বা যাবার সময় গরুটাকে একটু আদর করে যেও। কোরবানির পশু আদর করা সওয়াবের কাজ'। আব্বুর গলা শুনতে পেলাম। গরুটা দেখলাম কেমন মায়া মায়া করে তাকিয়ে আছে। একটু ইতস্তত করে কাছে যেয়ে কপালে আদর করতেই গলাটা বারিয়ে দিল। নাহ এবারের গরুটা আগেরগুলার মতো বিডাল হয়নাই। ইস্ কেমন শুকায়ে গেসে! দারওয়ান কিছু খাওয়ায় নাই নাকি? বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে গেলাম বনফুল। ২০ টা বাকরখানি নিয়ে সোজা জি ই সি কামাল স্টোর। আরে ওয়াহ বেশি কিছুতো লিস্টিতে নাই। মোযারেলা চিয, টমাটো কেচাপ, কাজু বাদাম আর ঈস্ট। পাশে দেখলাম এক পোলা পুরা একটা রেসিপি প্রিন্ট আউট করে অর্ডার দিচ্ছে। 'আচ্ছা একটা বারবিকিউ সস্ দেনতো'। ভাবলাম বারবিকিউ সস্টা মনে হয় কোন স্পেশাল রেসিপির জন্য। হঠাৎ কি মনে করে বাসায় ফোন করলাম। 'আচ্ছা বারবিকিউ সস্ লাগবে নাকি?' 'যা আনতে বলসি তাই আনো'। এরপর ওয়েল ফুড থেকে ২ প্যাকেট টোস্ট বিস্কিট।
সব নিয়ে রিক্সায় বাসায় ফেরার পথে বরাবরের মতো পরটা অর্ডার দিব। একি! হোটেলটা কৈ? এদিক ওদিক ভাল করে দেখলাম ভুল হলো কিনা। নাহ এখানেই তো ছিল। অগত্যা বাসায় এসে আবার হোটেল খুজতে বের হলাম। কাছেই একটা পেলাম। কিন্তু ওরা আবার শেকা পরটা বানায় না। অগত্যা তেল পরটার অর্ডার দিয়ে কিছুদুর গিয়ে আরেকটি হোটেল পেলাম। এখানে শেকা আছে। কিন্তু সমস্যা হল সাথে সাথে নিয়ে যেতে হবে। আধা ঘন্টা পর পড়টা আসলো। সব শেষ করে আসতে আসতে রাত ৯ টা বেজে গেল।
গ্রাম থেকে ২ জন লোক আসলো। প্রতি ঈদেই ওরা আসে। আব্বা এসে বল্লো ২ হাজার টাকায় ২ জন কসাই ঠিক করেছিলেন। তার মধ্যে একজন চেন্জ করে ফেলাতে আব্বু ওদের বাতিল করে দিল। এখন সকালে নতুন কসাই খুজতে হবে।
'আব্বা কালকে সাড়ে সাতটায় জামাত। তারাতারি শুয়ে যাও।' লাস্ট কয়েকটা ঈদ আমার সাড়ে সাতটার জামাতটা মিস হচ্ছে। খাইসে ১ টা বেজে গ্যাসেরে! যাই শুয়ে পরি। দোয়া করেন আবার যেন মিস না করি। সবাইকে ঈদ মুবারক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


