কদম্বুচি। মানে হল পায়ে ধরে সালাম করা। সংক্ষেপে অনেকে বলি সালাম করা। এই ব্যাপারটা নিয়ে আমাকে প্রায়ই অপ্রস্তুত অবস্থায় পরতে হয়। সেসব কিছু আপনাদের সাথে শেয়ার একটু শেয়ার করলাম।
আমরা সাধারনত মুরুব্বিদেরকে কদম্বুচি করে থাকি। এই ব্যাপারটা আমাদের সমাজে আদব কায়দার পর্যায়ে পরে। একবার এক দাওয়াতে নতুন দুলাভাই চাচাদেরকে সালাম না করাতে সবাই বলা শুরু করে দিল ‘আইযকাল্কার জামাই ফোয়াক্কল এক্কেরে বেয়াদব হই গেইয়ি।‘ অরথাৎ আজকাল জামাই ছেলেরা একদম বেয়াদব হয়ে গেছে। আমার গ্রামের বাড়ীতে নিয়মিত যাওয়া হয়না। বছরে ২ কি ৩ বার। কোন অনুষ্ঠানে বাড়ীতে গেলে আম্মু প্রায়ই ডেকে নিয়ে ফুফু/চাচি গোত্রের অনেকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। শহরের অনেক অনুষ্ঠানেও অবশ্য করেন। ‘আব্বা এদিকে আস। এটা তোমার অমুক ফুফু। ছোটকালে আমাদের বাসায় অনেক আসছিল, তোমার মনে নাই।‘ চোখের ঈশারায় সালাম করতে বলেন (আম্মুর সাথে এই ব্যাপারে আমার খুব ভাল বোঝাপরা)। থাক থাক অফুত মাতন ফইত্তুনু (থাক থাক বাবা কদম্বুচি করতে হয় না)। আবার হুজুর টাইপের কোন মুরুব্বী হলে খুব কনফিউয্ড হয়ে যাই। যেমন আমার বড় চাচা তাব্লিগ করেন। উনি কদম্বুচি একদম পছন্দ করেন না। করতে গেলেই টেনে তুলে নেন। কিছু লোক হুজুর টাইপের হয়েও এসব আশা করেন। তাই এনাদেরকে নিয়ে দোটানায় পরতে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পরি বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে। কেউ কেউ পাবলিক প্লেসে এসব পছন্দ করেননা। বকাও খেতে হয়েছে এ জন্য। একবার এক মুরুব্বির বকা খেয়ে ঠিক করলাম এসব প্রগ্রামে কদম্বুচি না করাই ভাল। কিন্তু সুখ বেশিদিন টিকলোনা। কদিন পরই আম্মুর ঘ্যান ঘ্যান শুরু হয়ে গেল। ‘তুমি আজকাল বাশি বেয়াদব হয়ে গেস। কাউকে সালাম করোনা কেন? অমুক কি সুন্দর সবাইকে সালাম করতেসে। সবার এতো প্রশংসা।‘ মর যালা! করলেও দোষ না করলেও ...।
তবে কাছের মুরুব্বিদেরকে দোয়া আর আদর পাবার জন্য খুব উৎসাহের সাথেই এই কাজটা করি। তাঁদেরই একজন চেমনারা ফুফু। আমার বাবার ছোট বোন। কদম্বুচি করলেই বুকে জরিয়ে ধরে মাথায় চুমু দিতেন আর কি সব দোয়া করতেন। করতেন?! হ্যা। গত পরশু তিনি আমাদের ছেরে ইহজীবন ত্যাগ করেছেন। সড়ক দুরঘটনায় আহত হয়ে অনেকদিন ধরেই তিনি সয্যাসয়ি। এই করবানী ঈদে বরাবরের মতোই ফুফুর জন্য মাংশ নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু বাসায় গিয়ে আপা দুলাভাইদের সাথে গল্প করতে করতে ফুফুর সাথে দেখা করার কথা বেমালুম ভুলে গেলাম। পরে বাসায় এসে মনে পরলো হায় হায় ফুফুকে তো সালাম করলামনা। খুব খারাপ লেগেছিল। কদিন পরই ঢাকায় ফিরে আসলাম। ব্যাস্ততার মাঝে আর যাওয়া হয়নি। এর মধ্যে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করান হল। খুব দ্রুতই অবস্থার আরো অবনতি হল। কোমাতে চলে গেলেন। আর গত পরশু সকালে চিরবিদায় নিলেন। এখন আরো বেশি খারাপ লাগছে। কেন যে ওইদিন ফুফুকে কদম্বুচি না করে নিজেকে তাঁর আদর বঞ্ছিত করলাম। কেন যে ভুলে গেলাম। আর তো এই সুযোগ পাবোনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


