আজকে ফাহাদের মনটা খুব উতলা হয়ে আছে। কিছুতেই যেন তর সইছেনা। উত্তেজনা ধরে রাখতে পারছেনা। কখন যে মামুন ভাইয়া আসবে। মামুন ফাহাদের সম্পর্কে চাচাত ভাই। শেষে অধৈর্য হয়ে ফাহাদ তার বাবার কাছে যায়। কি ব্যাপার আব্বু মামুন ভাইয়াতো এখনো আসছেনা। করিম সাহেব ছেলের অস্থিরতা দেখে মামুনকে ফোন করে। 'কি ব্যাপার কথায় তুমি? ও আচ্ছা ঠিকাছে। চলে আসছে আব্বা। কাছেই আছে।'
এদিক ওদিক করতে করতে ফাহাদ তার রুমে যায়। দেখে তার বিছানায় তার মা শুয়ে আছেন। সে মায়ের পাশে শুল। 'কি ব্যাপার আম্মু তুমি ঘুমাচ্ছ নাকি?' 'হুমম্'। মিসেস করিম ওপাশে ফিরলেন যেন ছেলে তার চোখের গরিয়ে পরা জল দেখতে না পায়। ফাহাদ তার মার এমন ভাবলেশহিন অভিব্যাক্তি দেখে একটু অবাক হলেও কি মনে করে কিছু বল্লোনা। হঠাৎ তার আগের মত আর উত্তেজনা অনুভুত হয়না। 'কি ব্যাপার আম্মুর কি মন খারাপ নাকি? সকাল থেকেই দেখছে আব্বু আম্মু কেমন যেন দুরত্ত্ব বজায় রাখছে।' মনে মনে ভাবে সে।
'বাবা কই তুমি? মামুন চলে এসেছে। তারাতারি আস।' ফাহাদ লাফ দিয়ে বিছানা থেকে উঠে পরে।
'চল আম্মু দেখে আসি।' ফাহাদ তার মার হাত ধরে বলে।
'উফ দেখছিসনা ঘুমাচ্ছি? ডিস্টারব করিসনে যা।' মিসেস করিম খুব বিরক্তি নিয়ে সজরে ছেলের হাত সরিয়ে দেন।
নিচে করিম সাহেব হাক ছারেন 'কই ফাহাদ আমরা সবাই দারিয়ে আছি তো।'
খুব ধির পায়ে ফাহাদ সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসে। গেটের বাইরে দেখে মামুন ভাইয়া আর তার বাবা খুব উত্তেজিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। 'কই তারাতারি আয়না ভাই' মামুন ফাহাদকে আদরমাখা গলায় ঝারে।
এইযে দেখ। কেমন হল বলতো? মামুন বলতে শুরু করলো। ২০০৪ মডেল। টয়োটা করলা, এন-যেড-ই, জি গ্রেড। পারল হোয়াইট। অপুর্ব এই সুন্দরিকে চারদিকে ঘুরে দেখলো ফাহাদ। কোথাও ছিটেফোটা কোন দাগ নেই। শেষ বিকেলের সোনালী রোদে চিক চিক করছে। ভিতরে বসলো। কোমল একটা ঘ্রান নাকে এল। তার পরও কোন অভিব্যাক্তি হলনা। অথছ তার দেখা পাবার জন্যই আগের দিন থেকে তার অপেক্ষা কত প্ল্যান।
প্রথম শুনেছিল মার মুখে। 'তোর বাবা তো মনে হয় গাড়ি কিনছে।' প্রথমে কথাটা ফাহাদ তেমন আমলে নেয়নি।
'যাহ কি বল? কখন বলেছে?'
'আমাকে বলেনাই। আজকে কাকে যেন ফোনে বলছিল।'
'ধ্যাত! তোমাকে যেহেতু বলেনাই তাহলে মনে হয় তুমি ভুল শুনেছ।'
কদিন পর আবার মা তাকে বলে।
'না বাবা তোর বাবা ঠিকই গাড়ি কিনছে।'
'বলেছে তোমাকে?'
'নাহ। কিন্তু বাসায় ঢুকার সময় পাশের বাসার লোককে বলতে শুনলাম।'
'তাহলে তোমাকে বলবেনা কেন?'
'তোর বাবা আমাকে কিছু বলে করে নাকি?' দির্ঘশ্বাস ছারেন মিসেস করিম।
গতকাল রাতে খাওয়ার পরে করিম সাহেব ছেলের রুমে এসেছিলেন।
'বুঝলে আব্বা আমরা তো গারি নিচ্ছি। ফ্যাক্ট্রির এমডির জন্য।'
মনে মনে উত্তেজিত হলেও ফাহাদ প্রকাশ করেনা।
'ও তাইনাকি? ভালইতো।'
'তোর মামুন ভাইয়া নিয়ে আসবে। আমরা তো কেউ ড্রাইভিং যানিনা তাই। অবশ্য ড্রাইভার ঠিক হয়ে গেছে।'
'আম্মু আব্বুতো আজকেই গাড়ি আনছে। তোমাকে বলেনাই এখনো!?' পরদিন ফাহাদের বিষ্ময় মাখা প্রশ্ন। কোন উত্তর মেলেনা।
'চল একটু ঘুরে আসি। দরজা লাগাও।' হঠাৎ মামুনের আওয়াজে সম্বিত ফিরে পেল ফাহাদ। 'নাহ মামুন ভাইয়া পরে। আজ আমার একটু কাজ আছে।' 'আব্বু খুব সুন্দর গাড়ি। ভাল হয়েছে।' করিম সাহেব গর্বের হাসি হাসেন। সিড়ি দিয়ে উঠার সময় ফাহাদ প্রশ্ন করে 'আচ্ছা আব্বু তুমি আম্মুকে বলনি কেন? করিম সাহেব থমকে দারান। কিছুটা উত্তেজিত।
'বলব। আগে তোমাকে বললাম আরকি।'
'তোমাদের হয়েছে কি? এখনও যদি এভাবে ঝগড়া কর তো কেমনে কি হবে বলতো? তুমি প্লিয আম্মুকে বল।'
রুমে যেয়ে ফাহাদ দেখলো তার মা এখনও শুয়া। 'আম্মু শোন, আমি আব্বুর সাথে কথা বলেছি। চিন্তা করনাতো। সব ঠিক হয়ে যাবে।' মিসেস করিম নিজেকে আবার প্রস্তুত করেন। এবারও ছেলের মুখ চেয়ে শুরু করতে হবে অভিনয়ের আরেকটি পর্ব। বিছানা ছেরে উঠেন। চল বাবা টেবিলে আয়। নাস্তা দিচ্ছি। ছেলের দিকে মুচকি হেসে বলেন। 'উফ আম্মুর এই হাসিটার জন্য দরকার হলে সারা দুনিয়ার সাথে যুদ্ধ করবো।' মনে মনে ফাহাদ ভাবে। তার খুব ভাল লাগতে শুরু করে। আব্বু আম্মুকে সে ভিসন ভালবাসে। 'আল্লাহ্ তাদের যেন কোনদিন কোন খারাপ কিছু না হয়।'

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


