somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাড়িওয়ালির অশরীরি মেয়ে - ১১তম পর্ব

২৪ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই এলাকায় চলে আসা নিয়ে আম্মার ছেলে মেয়েরা খুব একটা খুশি ছিলনা । হউকনা নিজের বাড়ি, এখানেত তাদের পরিচিত বলতে কেউ নেই । তাদের বন্ধু বান্ধবরা সবাই তখনো আগের সেই সরকারি কোয়ার্টারেই থাকে । বিকেলে কিংবা সন্ধ্যায় তাদের মাথা খারাপ হয়ে যেত । তাদের পীড়াপিড়িতে এক সময় বাধ্য হয়ে গাড়ি কেনা হল । তারা খুশি কারন প্রতিদিন বিকেলে বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটাতে চলে যেতে পারে । কিন্তু সমস্যা দেখা দিল অন্য জায়গায় । কোন ড্রাইভারই এক মাসের বেশী টিকেনা । এই ক্ষেত্রে পুরা দোষ আম্মার । এই নিয়ে ছেলে মেয়েদের সাথেও ওনার ঝামেলা বেঁধে যায় । আসলে আম্মারে নিয়ে চিঠিতে যে কথাগুলা লিখছে কোন টাই মিথ্যা না ।

আমারে গ্রাম থেকে নিয়া আসছেন এইটা আমার জন্য বিশাল একটা ব্যাপার । আর উনি কেন জানি আমার সাথে কোনদিনও খারাপ ব্যবহার করেন নাই । হয়ত নিজে আমারে নিয়া আসছেন বলে । কিন্তু মানুষ হিসেবে উনি খুব একটা সুবিধার না । সরকারি কোয়ার্টারে থাকাকালীন ও দেখছি ওনার সাথে কেউ বাধ্য না হলে মিশতনা । কোন দরকার ছাড়া কেউ আমাদের বাসায় ও আসতোনা । এর কারন ওনার স্বভাব । ওনি কারো ভাল দেখতে পারতেননা । সবার সাথেই কোন না কোন ঝামেলা লাগতই ওনার । অন্যের বাসার বুয়ারে ডেকে নানা কথা জিজ্ঞেস করতেন, তারপর উল্টাপাল্টা মন্তব্য একটা করে বসতেন । এই গুলো নিয়ে কোয়ার্টারে মাঝে মাঝেই ঝামেলা হত । চাচা সিনিয়র হওয়াতে হয়ত এইসব নিয়া অন্যারা পরে আর তেমন চিল্লাফাল্লা করতোনা ।

ওনার এইসব স্বভাবের কারনে চাচার সাথেও ওনার সম্পর্ক ভালনা । ঠিকমত কথা বার্তাও হয়না দুজনের । স্বামী স্ত্রী ছিলেন এককালে , এখন এক বাসায় থাকে এই আর কি । চাচা থাকেন দোতালায় বেড রুমে, আর উনি থাকেন নিচের তালায় । কেউ আসলে আগে থেকে বলেন ওনার পায়ের ব্যথার কারনে দোতালায় উঠতে পারেননা । পুরা বাসায় এই কারনে চারটা টিভি চলে । এখনও গেলে দেখবেন উপরে চাচা একা একা বসে জি বাংলা দেখতেছে, নিচে ও উনি জি বাংলাই দেখতেছেন । একসাথে তাদের টিভি দেখাও হয়না, সেটা একই চ্যানেল হলেও । খুবই নোংরা তার মুখ । মানুষকে গালাগালি করতে করতে এত নিচে নেমে যানযে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা । সোজা বাংলায় উনি কোন জাতের মহিলাই না । আগের এলাকায়তো ওনারে সবাই অসভ্য আর ইতর হিসেবেই চিনত ।

ড্রাইভারদের সাথে অযথা উনি ঝামেলা লাগাইতেন । সবাইরে সন্দেহ করা ছিল ওনার রোগ। ওনার ধারনা উনি ছাড়া আর কেউ ভাল মানুষ না । উনি যা ভাবেন কিংবা বলেন সেটাই ঠিক । ওনি ধরেই নিছেন সব ড্রাইভার টাকা চুরি করে, তেল গ্যাস যা নেই তার চেয়ে বেশী বিল করে আনে । চাচার এই সব ব্যাপারে মাথা ঘামানোর মত সময় ছিলনা । এই সুযোগে উনি ঝামেলা পাকাতেন। গাড়িতে চড়লেই ড্রাইভারদের জেরা শুরু করে দিতেন। ড্রাইভাররা এক দুদিন কিছু না বললেও পরে বিরক্ত হয়ে উল্টাপাল্টা উত্তর দিত আর চাকরি ছেড়ে চলে যেত । এই নিয়ে বাসায়ও ঝামেলা । ছেলে মেয়েরা ওনার এইসব কাজে বিরক্ত । তারা কেউ ওনার সাথে ঠিকমত কথা বার্তা বলায় ছেড়ে দিয়েছিল , কারন কথা বললেই ঝামেলা লাগত । ড্রাইভার নিয়ে এসব ঝামেলার কারনে ছাড়া বাসায় ঘোষনা দিলেন উনি ছাড়া ড্রাইভারদের সাথে কেউ কোন কথা বলতে পারবেনা , কিছু বলতে হলে ওনাকে বলতে হবে, উনি সেই অনুযায়ি ব্যবস্হা নিবেন । সবাই কেবল গাড়িতে চড়ে যাবে আর আসবে ।

আশরাফুলকেত চিনেন , দেখছেন । তার বাড়িও আমাদের ঐদিকেই । চাচার পরিচিত ফ্যামিলির ছেলে । ক্লাশ টেন পর্যন্ত লেখাপড়া করে পরে আর পড়ে নাই । কার মাধ্যমে যেন এই বাসায় আসে । চাচা ওকে দারোয়ানের চাকরিতে নিয়োগ দেন। এর আগে দারোয়ান নিয়েও ড্রাইভারের মত অবস্হা । আম্মা তাদেরকে খানা দানা দিবেননা, তারা নিজেরা রান্না করে খেতে হবে । তার উপর ফালতু কথা ত আছেই, পান থেকে চুন খসলেই গালাগালি । কেউই স্হায়ী হয়না । শেষমেষ এই আশরাফুলের আগমন । তারচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে এরে কেন যেন আম্মার পছন্দ হয়ে গিয়েছিল । এলাকার বলে কিনা কে যানে, ওরে তিনি গালাগালি করতেননা । আশরাফুলও চালাক, সেও কেমনে কেমনে জানি আম্মার মন জয় করে নিয়েছিল । আম্মার বাজার সদাই থেকে শুরু করে যখন যা লাগুক সে হাজির । মজার ব্যাপার ছিল আশরাফুল দেদারছে টাকা মারত, যেটা আম্মা ধরতেও পারতেননা । তিনি কিছুদিন পরে আশরাফুলরে বুদ্ধী দিলেন গাড়ি চালানো শিখতে, তাহলে তাকে ড্রাইভার হিসেবে নিয়োগ দেবেন । ওনার উতসাহে আশরাফুল এখন ড্রাইভার কাম ম্যানেজার, সবই আসলে সে । বিল্ডিং এর এখনত সব দেখাশোনার কাজই সে করে ।

আগেই লেখাপড়া মোটামুটি ছেড়ে দিয়েছিলাম । আম্মা মাঝে মাঝে বকাঝকা করতেন । এখানে আসার পর তাও বন্ধ হয়ে গেল । কারন আশেপাশে কোন স্কুল নাই । সারাদিন আমার কোন কাজ নেই । টিভি দেখি, মাঝে মাঝে সব রান্নাবান্না নিজে করি । এই বিল্ডিং এর মজার দিক কি জানেন, এইটার যে ডিজাইন করছে তার কোন কস্ট করতে হয় নাই । আম্মা দশজনের বাড়ির থেকে একটু একটু নিয়া এইটা বানাইছেন । তিনি ঐ লোকেরে নিয়া বিভিন্ন পরিচিতজনের বাড়িতে যাইতেন আর সেখানের যেটা তার আগে থেকে পছন্দ ছিল সেটার মত করে করতে বলতেন । কারো বাড়ির সিঁড়ি, কারো বাড়ির বাথরুম, কারো ব্যালকনি, সব যোগ করে এই বাড়ি বানানো হইছে । কাজ নাই, তাই আম্মা আমারে একটা কাজ দিলেন । উপরের দিকের তিন তালার ছাদ ঢালায় হলেও বাকি কাজ তখনো বাকি । আমার কাজ হল দিনে চার পাঁচবার ঘুরে ঘুরে দেখে যাওয়া আর তারে রিপোর্ট করা যে মিস্ত্রীরা ঠিক মত কাজ করছে কিনা, নাকি বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে । তিনি এসে যদি দেখতেন তারা কাজ না করে গল্প করছে, তাইলে সেদিন তাদের কপালে শনি ছিল । গালাগালি বকাঝকা একটাও মাটিতে পড়তোনা । আমিও সানন্দে এই কাজ নিয়ে নিলাম । একদিন উপরে যাব দেখতে, এমন সময় তিনি আমারে বললেন, তুই একা যাইসনা, আশরাফুলরে সাথে করে নিয়ে যা । এত্তগুলা পুরুষ মাইনষের মাঝে একলা যাওনের দরকার নাই ।

আশরাফুলরে আমার তেমন একটা পছন্দ ছিলনা । ওর সাথে পারতপক্ষে আমি খুব একটা কথাও বলতামনা । মাঝে মাঝে আমি বাজার করতে গেলে ওরে আমার সাথে নিয়ে যাইতে হইত আম্মার নির্দেশে । তেমন আলগা কথাবার্তা হতোনা । তো এখনও আম্মার নির্দেশে ওরে ডেকে নিয়ে এক সাথে উপরে যাইতাম মিস্ত্রীদের কাজ কর্ম দেখার জন্য । প্রথম কয়দিন সে বিরক্তি নিয়ে উপরে উঠে আসত । পরের দিকে খেয়াল করলাম সেও মনে হয় আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে কখন আমি তাকে ডাক দিব । ডাক দেয়া মাত্রই সে হাজির । আমি তাকে আশরাফুল ভাই বলে ডাকতাম। আমার সাথে ছাদে গেলে তখন তার ভাবভঙ্গী চেঞ্জ হয়ে যেত । যারা কাজ করত সে তাদের সাথে বেশ হম্বীতম্বি শুরু করে দিত । এটা করেন, ওটা করেন, এই জায়গা পরিষ্কার করেন, নানা রকম উপদেশ বের হয়ে আসত তার মুখ থেকে । প্রথম প্রথম সাথে করে যাওয়াই হত, আমি তার সাথে তেমন কোন কথা বার্তা বলতামনা । আস্তে আস্তে এটাতে পরিবর্তন আসল । সারাদিন বাসায়তো আর তেমন কথাবার্তা বলা হতোনা, সুতরাং আমিও তার সাথে দুচার কথা বলা শুরু করলাম ।

কথায় বলে মানুষ অভ্যাসের দাস । প্রতিদিনের এই মিস্ত্রীদের কাজ কর্ম দেখতে যাওয়ার অভ্যাস পেয়ে বসল আমাকে । ঐ সময় বাসা থেকে একটু বের হতে পারি, খোলা ছাদে ঘুরতে পারি এটাও একটা কারন । সাথে সাথে আরেকটা জিনিস হল কাজটা একা করতেও আমার ভাল লাগেনা । যেদিন আশরাফুল কোন কারনে বাসায় নাই বা কোন কাজে গেছে সেই সময়টাতে ছাদে যাবার ইচ্ছে মনে জাগলেও আমি যাবার ব্যাপারে তেমন একটা আগ্রহ পেতামনা । বুঝতে পারছিলামনা, আশরাফুলের প্রতি অপছন্দের মনোভাবটা কিকরে যেন উবে গিয়েছিল । ছাদে কাজ দেখার জন্য গিয়ে আমি আসলে তার সাথে হেঁটে হেঁটে গল্প করতাম। সময়টা বেশ উপভোগও করতাম । হতে পারে ঐসময়ের বয়সের কারনে এই ভাললাগা । গল্পের কোন বাঁধা ধরা টপিকস না থাকলেও বেশীরভাগ সময় আমরা বিল্ডিং বানানোর বিষয়াদি নিয়েই কথা বলতাম । আসলে আমি একটা না একটা প্রশ্ন করতাম আর আশরাফুল সেটার উত্তর দিত । কি করে টাইলস বসানো হয়, কি করে পানির পাইপ বসানো হয়, কারেন্টের তার কেমনে লাগানো হয়- এই টাইপ হাবিজাবি যা মনে আসত সবই জানতে চাইতাম । সেও খুব সুন্দর করে আমাকে বুঝিয়ে দিত । সম্ভবত এই ব্যাপারটা, সে যা তা না বলে আমাকে আসলেই ব্যাপারটা বুঝাত, তার প্রতি আমার মনোভাব পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে ।
যাই হউক তার সঙ্গ আমি তখন ভালই উপভোগ করা শুরু করলাম । সেও যে উপভোগ করে তাও আমি বুঝতে পারতাম ।

সময় বয়ে যাচ্ছে, সেই সাথে আমাদের সময় কাটানোও । একসময় আমি আশরাফুলকে নিয়ে আরো গভীরভাবে ভাবা শুরু করলাম । ব্যাপারটা আমার কাছে অগ্হনযোগ্যও মনে হয় নাই । আল্টিমেটলি ঘর সংসারতো করতেই হবে, তো চেনা জানা এমন কাউকে করাই ভাল। তাকে আমার ধীরে ধীরে ভাল লেগে গেছে, সুতরাং তাকে নিয়ে আরো বেশীদূর চিন্তা করায় যায় । তার আচার আচরনেও আমি বুঝতে পারি সেও এমনটাই ভাবছে । আম্মাও হয়ত এই ব্যাপারে বেশী একটা আপত্তি করবেন বলে আমার মনে হয়নি । আশরাফুলকে তিনি এমনিতেই পছন্দ করেন । রেডিমেড কিছু পেয়ে গেলে আমাকে নিয়ে তাকে আর তেমন ঝামেলায় ও পরতে হবেনা । কেবল একটা বিষয় নিয়ে আমি দোটানায় ভুগতাম। আশরাফুল তখনও এখানে দারোয়ানির কাজ করে, তার ড্রাইভিং শেখা তখনও শেষ হয় নাই ।

একটা ড্রাইভারকে বিয়ে করা যায়, সমাজে তার একটা পরিচয় আছে, কিন্তু একটা দারোয়ানকে বিয়ে করার আসলে কিছু নাই । আমার কাছে দারোয়ানের কাজ যারা করে তাদেরকে সমাজের সবচেয়ে অকর্মণ্য শ্রেণীর মনে হয় । অনেকেই হয়ত দেশে আর কোন চাকরি নেই বলে বাধ্য হয়ে এই কাজ করছে, তবে বেশীর ভাগ গুলাকে আমার মনে হয় নিজেদের আলসেমির কারনেই তারা এখনও এই কাজ করছে । আমি ব্যাপারটা নিয়ে আরো অনেক সামনের কথা ভাবতে শুরু করে দিয়েছিলাম । দারোয়ানের চেয়ে ড্রাইভারের বউ এর পজিশন নিশ্চিত ভাল হবে এবং উপরে হবে । আর তাই আমি তাকে নিয়মিত উতসাহ দিতে থাকলাম , তার ড্রাইভিং শেখার আর কতদূর বাকি জানতে চাইতাম। প্রতিদিন এক ঘন্টা করে ট্রেনিং করে আসত সে ।

সময় কিংবা ঘনিষ্ঠতা আসলে সবকিছু বদলে দেয় । এক সময় যে আশরাফুলকে আমি দেখতে পারতামনা, আশেপাশে দেখলে বরং বিরক্ত লাগত এখন সে আশরাফুলের জন্য আমি মাঝে মাঝে বাসার ভাল খাবারের কিছু অংশ সবার অগোচরে আলাদা করে রেখে দিই । আমি বুঝতে পারি তার প্রতি আমার একধরনের মমতা জন্মে গেছে । বিশেষ কোন কারনে এই মমতা না, প্রতিদিন একটু একটু করে সময় কাটানোর কারনেই এই মমতা , বলা যায় অভ্যাসটাই এই মমতা তৈরি করে দিয়েছে । তাকে প্রতিদিন না দেখলে, দুচারটা কথা না বললে আমার দিনটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায় । সে দুই তিন দিনের জন্য বাড়ি গেলে আমার অস্হির লাগা শুরু হয় , যেটা কাউকে বলাও যায়না, বলতেও পারিনা , এমনকি আশরাফুলকেও না । কয়েক মাসের মাঝে বিল্ডিং এর কাজ শেষ হয়ে যায় , আমাদের ছাদে উঠে সব দেখাশোনার ও আর দরকার পড়েনা । কিন্তু জীবনটাত আসলে একটা অভ্যাস , সে অভ্যাসের টানেই আমাদের দেখা হওয়া থেমে যাবার কোন সুযোগ আসলে আর থাকেনা । আমি বের হয়ে আশরাফুলকে ডাক দেই, সেও অপেক্ষায় থাকে । আগে কস্ট করে উপরে উঠতে হত, এখন লিফটে করে আমরা এক টানে উপরে উঠে যায় ।

টিভি নাটকের মতই লিফটে উঠার সময় একদিন আমি আশরাফুলের হাতটা ধরে ফেললাম , ইচ্ছা করেই । সে কোন প্রতিক্রিয়া দেখালনা । স্বাভাবিক থাকার চেস্টা করল, যদিও আমি তার শরীরের হালকা কেঁপে উঠা টের পেলাম । ভেতরে ভেতরে আমিও যে কাঁপছিলাম । আস্তে আস্তে হাত ধরাটাও নিয়মিত হয়ে গেল । একদিন আমরা দুইজন যথারীতি ছাদে হাঁটাহাঁটি করে নিচে নামলাম, এই সময়টা কিন্তু খুবই অল্প, বড়জোড় দশ মিনিটের মতন আমরা একসাথে থাকতাম । আমি এক তালায় নেমে গেলাম, আর আশরাফুল গ্রাউন্ডফ্লোরে । কপাল এতই খারাপ , আম্মা তখন তারে খোঁজার জন্য নিচে নেমে গেছেন। তারে লিফট থেকে বের হতে দেখে তিনি তার আসল রুপে ফিরে গেলেন । নিচের গেট খোলা রেখে উপরে যাবার কারনে যাচ্ছেতাই ভাবে গালাগালি করলেন । উপর থেকে শুনে আমার এত মন খারাপ হয়েছিল যে চোখ ভর্তি করে কান্না চলে এসেছিল । বাথরুমে গিয়ে অনেকক্ষন ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলামও ।
বিকালের দিকে আম্মা বাইরে গেলেন, বাসায় আমি একা । আস্তে করে নিচে নেমে আসলাম । তখন নিচে এখনকার মত এত হাউকাউ ছিলনা । রুম গুলো ভাড়া দেয়াই ছিল, তারা বেশীরভাগই চাকুরিজীবি কিংবা অন্য বিল্ডিং এর ড্রাইভার , রাতের আগে কেউ ফিরতেননা । নীচটা কেমন যেন গুমোট হয়ে আছে, আম্মার চিতকার চেঁচামিচের কারনে মনে হচ্ছিল পরিবেশ অনেক ভারী হয়ে আছে তখনও । আমি আস্তে করে গেটের পাশে আশরাফুলের রুমের সামনে চলে আসলাম। দরজা খোলাই ছিল, আশরাফুল বিছানায় শুয়ে ছিল । আমাকে দেখে উঠে বসল । আম্মার গালাগালিতে আমার যতটা খারাপ লেগেছিল, তার মনে হয় ততটা লাগেনি । তার চেহারায় এর কোন ছাপ দেখলামনা । ব্যাপারটার সাথে যেহেতু তার পূর্ব পরিচয় ছিল তাই মনে হয় গায়ে মাখেনি । কিন্তু আজকের ব্যাপারটা আমার কারনে হওয়ায় আমার কস্ট লাগা একটুও কমছিলনা ।

আমি সোজা তার দিকে এগিয়ে গেলাম । দেখলাম সে কেমন যেন আড়স্ট হয়ে যাচ্ছে । কোন কথা না বলে , কোন দিকে না তাকিয়ে দুহাত দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে লম্বা একটা চুমু দিলাম । দুজনেই হতবাক আমি বুঝছিলাম,সেও আমাকে কাছে টেনে নিয়েছিল । কারো মুখে কোন কথা ছিলনা, কথা হয়ওনি । কতসময় ছিল সেটা বলতে পারবোনা, খুব কমওনা বেশী ওনা শিউর । তারপর আমি সোজা ঘুরে বাসায় চলে এসেছিলাম । একবারও পেছনে ফিরে তাকায়নি । সে কি করছিল বা তাকিয়ে ছিল কিনা তাও দেখতে চাইনি ।

এই ঘটনার পর থেকে সব কিছু কেমন যেন লাগতেছিল। পনের ষোল বছরের আমি হঠাত করে যেন অনেক বড় হয়ে গিয়েছিলাম । সেই সাথে আশরাফুল মনে হয় পুরোপুরি আমার মাথায় গেঁথে গিয়েছিল। সারাক্ষনই তার চিন্তা মাথায় ঘুরে । নিচে নামলেই তার সাথে দেখা হবে, কিন্তু কেন জানি আমার তার মুখোমুখি হতে ইচ্ছা করছিলনা । তিন চারদিন তার সাথে আমার দেখা হয়নি , জানিনা এই সময় তার কেমন লেগেছিল, কখনো জানতেও চাইনি । প্রতিদিনই সে বেশ কয়েকবার উপরে এসেছে কোন না কোন কাজে, অন্য সময় হলে বেলের শব্দ পেলে আমিই যেতাম দরজা খুলতে । তার কারন ছিল যদি আশরাফুল হয় , তবে তাকে একবার দেখতে পাব, দুই একটা কথা হবে । এই কয়দিন আমি একবারও দরজা খুলতে যাইনি, বাসায় যে খালা কাজ করতেন তাকে বলেছি দরজা খুলে দিতে, আমি রান্না ঘরে কিংবা অন্য রুমে থাকতাম ।

নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি এরপর । তাকে দেখার জন্য মন উতলা হয়ে গিয়েছিল । আম্মা দুপুরের পরে ঘুমাচ্ছেন দেখে আমি নিচে নেমে আসলাম । আশরাফুল গেটের কাছেই ছিল । সে ফেলফেল করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । বুঝলাম আমার মত তারও কস্ট হচ্ছিল । আমিই গেট টা লাগিয়ে দিলাম । তাকে নিয়ে লিফটে উঠলাম । আবারও দীর্ঘ চুমু খেলাম আমরা । কয়বার যে লিফটে উঠা নামা করলাম সেটা গনে দেখার চিন্তা তখন মাথায় আসেনি । সে হাসিমুখে আমাকে বিদায় দিল ।বাসায় এসে দেখি আম্মা নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন, নিজেকে কেমন হালকা লাগল । সেই সাথে সুখ সুখ একটা অনুভূতিও ভর করল আমার মাঝে । একটা গল্পের বই নিয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে পড়তে লাগলাম । প্রেমের উপন্যাস, প্রেম টাকেই তখন কেবল জীবনের একমাত্র সত্য মনে হল । সবকিছু হারিয়ে ফেলা সে আমার তখন মনে হল কেবল এই প্রেমের জন্যই বেঁচে থাকা যায় । এই প্রেম না থাকলে বেঁচে থাকা অর্থহীন ।

আমি তখন প্রতিদিন স্বপ্ন বুনে চলি ওকে নিয়ে। ড্রাইভিংটা তাড়াতাড়ি শিখে ফেলতে উতসাহ দেই । সে যে খুব বেশী সময় পায় তাও না । আম্মা কিছু একটা আঁচ করতে পারেন হয়ত, তবে সেটা ঠিক কিনা তা নিয়ে তিনি নিজেও সংশয়ে , তাই আমাকে তেমন কিছু বলেন না । মাঝে মাঝে খালি বলেন আশরাফুলের সাথে এত কথা বলার কি আছে । আম্মাকে কি করে বুঝাই আমার সব কথায় যে এখন তাকে ঘিরে, তার সাথে, শয়নে স্বপনে যেকোন সময়েই । আমার ধারনা শুরতে ব্যাপারটা নিয়ে আম্মা হাউকাউ করবেন, এইটা তার চরিত্রগত স্বভাব, তারপর এটা মেনেও নিবেন । ভাববেন ভালই হল একসাথে থাকবে, একজন ঘরদোর সামলে দিবে আরেকজন গাড়ি চালাবে , হা হা হা ।

স্বপ্নের ফানুস উড়িয়ে দিয়ে আমি ভাবি আম্মা হয়ত নিচের একটা রুমে আমাদেরকে থাকতে দিবেন । আশরাফুলের অপেক্ষায় সেখানে বসে আমি দিন গুনতে থাকব । ব্যাপারটা আম্মার জন্য ভাল, আমার জন্যতো বটেই ।আম্মার কাছাকাছিও থাকা হল, নিজের পছন্দের পাত্রকে বিয়েও করা যাবে তাহলে । আমাদের ঘনিষ্ঠতা বেড়ে চলে, আমরা আগের চেয়েও বেশী সময় কাছাকাছি থাকার চেস্টা করি, অনেক গল্প করি । আর..........হা হা হা ।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। বিদায় পঙ্কজ উদাস

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:১৩



চান্দী জ্যায়সা রঙ্গ হ্যায় তেরা
সোনে জ্যায়সে বাল
এক তূ হী ধনবান হ্যায় গোরী
বাকী সব কাঙ্গাল


৭০ দশকের শেষে পঙ্কজ উদাসের এই গান শুনতে শুনতে হাতুড়ি বাটালের মূর্ছনা এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্যালেষ্টাইনিয়ান অথরিটির ক্যাবিনেট পদত্যাগ করেছে।

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৮:০৬



মনে হয়, আমেরিকা চাপ দিচ্ছে প্যালেষ্টাইনিয়ান অথরিটির নতুন ক্যাবিনেট গঠন করতে। আমেরিকা কি করার চেষ্টা করছে, তা পরিস্কার নয়; পুরো ফিলিস্তিনে কেহ এখন আর প্যালেষ্টাইনিয়ান অথরিটিকে বিশ্বাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

কার্ড

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৯:১৫


তার সাথে আমার যখন দেখা হয়েছিল, তখনও এই শহরে মেট্রোরেল আসে নি। লোকাল বাসে করে যাতায়াত করি মিরপুর-মতিঝিল-মিরপুর। ক্লান্তিকর। সেদিন অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও সরাসরি মতিঝিলের বাস পাই নি ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সহজ ভাষায় লিখলে হয় সস্তা-দরের লেখক!

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:২৭


ওপার বাংলার কথাশিল্পী সমরেশ মজুমজারের সাথে হুমায়ূন আহমেদের বেশ খাতির ছিল।তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, রবীন্দ্রনাথ ও শরতচন্দ্রের পরে বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক ‘হুমায়ূন আহমেদ’।
তবে আমার মত ভিন্ন; আমি মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনতার উচিৎ মেয়েটির কাছে ক্ষমা চাওয়া

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:৪৭



কিছু হলেই অনুভূতিতে আঘাত, পান থেকে চুন খসলেই ধর্ম গেলো গেলো; মেরে ফেলো, কেটে ফেলো, পুতে ফেলো এসবই হচ্ছে ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীর মনোভাব। সময় এসেছে এসব সেন্টিমেন্টাল জনগোষ্ঠীর অনুভূতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×