somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘটনার কার্যকরণ বোঝা; নিজেকে মূর্খ ও জানি না বলতে পারা কতটা জরুরী

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জাগতিক সব বিষয় সমন্বয় করে বলা, চলা, দেখা এবং অনুভব করা খুবই দূরুহতার কাজ। কিন্তু আপনাকে প্রতিটি মানুষের, উপাদানের এবং প্রাণীর জগতের জাগতিক স্বাভাবিক প্রবাহটা বুঝা খুবই জরুরী।
উদাহরণ দিয়ে বলি, একটা কুকুর গভীর রাতে ঘেউঘেউ করছে, পাশের বাসায় বাচ্চা কাঁদছে; এখন আপনি কিভাবে ঘুমাবেন? বিষয়গুলোকে উপেক্ষা(অভারলুক) করে। জগতে এটা বোঝা খুবই জরুরী। আপনি কুকুরকে চুপ করিয়ে, বাচ্চাকে চুপ করিয়ে ঘুমুতে পারবেন না।
সাথে আপনাকে এটাও বুঝতে হবে কেউ একজন আলো জ্বেলে রেখেছে জানালা দিয়ে ঘরে আসে আর আপনি ঘুমাবেন এটি হবে না। এখানে আপনাকে আলো আসা বন্ধ করতে হবে। এটি হচ্ছে যথাযথ জ্ঞান ( ফ্যাক্টটিং নলেজ)।
-----জগতের চিরাচরিত নিয়মে এমন দূরুহতা নেই যা প্রকৃতই আপনাকে ধৈর্য ধরার পথে বাধা তৈরি করে, পরম আরাধ্য তৈরির প্রকৃত অন্তরায়, এটা চিরাচরিত প্রতিষ্ঠিত নিয়ম। এ জ্ঞান সকলক্ষেত্রে আহরন আপনার জন্যে জরুরী।
এখানে শব্দ, আলোর মধ্যে; ঘুমের অন্তরায় হলো আলো। আপনি যদি শব্দ বন্ধ করতে চান তাহলে আপনি অসুস্থ, তখন আপনার চিকিৎসা প্রয়োজন।

সামান্য জ্ঞান আহরণে আমার অহংবোধ আসবে, আসতে বাধ্য। এটা এমন হয় না কেন? ওটা ওমন হয় না কেন? এ ভাবনা আসাও অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু অস্বাভাবিক হলো আপনি যখন মনে করেন, এটা এমনই হতে হবে।
জগতে (ইউনিভার্স এন্ড মাল্টিভার্স) ও বাসযোগ্য পৃথিবীতে এবং নিয়ামকের আচরণে(আপনার কাছে বিরক্তিকর সাধারণ দোষ-ত্রুটির আচরণে) আপনাকে কোনভাবেই প্রতিক্রিয়াশীল হওয়া যাবে না, এটা প্রকৃতিবিরুদ্ধ। এখানে আপনাকে খুবই স্বাভাবিকভাবে বুঝতে হবে আপনি সকল বিষয় বুঝবেন না, বুঝতে পারেন না। আর যদি বুঝে থাকেন তাহলে তো আপনি চুপই থাকবেন। চেপে যাবেন। এইটুকু জ্ঞান থাকা এবং অর্জন করা আপনার জন্যে জরুরী।

আপনার বাসযোগ্য পৃথিবীতে একই সাথে গোচরে-অগোচরে শূন্যমাত্রিক, এক মাত্রিক, দ্বিমাত্রিক, ত্রিমাত্রিক এবং চতুর্মাত্রিক ঘটনাপ্রবাহে আপনি কিছুটা স্পর্শ ও অনুভব করতে পারেন। এর বাইরে স্পর্শ করতে পারে হয়তো আপনার আশেপাশে ৫% থেকে ৬% মানুষ। কামশূণ্য ও ক্রোধশূণ্য আত্মা ছাড়া কারোপক্ষেই মহাগাতিক ঘটনার কার্যকরণ ঘটনাপ্রবাহে স্পর্শ করা প্রায় অসম্ভব। কেউ কেউ যে অস্বাভাবিক ক্ষমতা পায় না তা নয়। যদি কেউ পেয়ে যায় তার পথভ্রষ্ট অমানবীয় আচরণ হওয়ার মাত্রাই বেশি হয়। এ এক প্রতাপশালী আচরণ। যদিও এ প্রতাপশালী আচরণটুকু নিয়ে আলোচনা আমার লিখার অংশ নয় আজ। অংশ হলো নিজেকে রীতিমতো মূর্খ ভাবা।

যখনই আপনি নিজেকে আরোপিত ও অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের বেড়াজালে আবদ্ধ করবেন এবং চাপাচাপি করবেন তখনই আপনি নিচে চলে আসবেন। জ্ঞানের মহাজগতে আপনাকে অস্বাভাবিক নমনীয় হতেই হবে এর বাইরে কোন উপায় নেই, কোন মন্ত্র নেই। ধৈর্যের এক পরমমাত্রায় যতটুকু পারেন আপনাকে ঘিরে ফেলতে হবে। ধৈর্য ধরার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো আপনি মূর্খ এটি স্বতঃসিদ্ধভাবে মেনে নেয়া।

মানুষকে ঘায়েল করার ও অহংবোধ প্রয়োগ করার একটি বড় হাতিয়ার হলো প্রশংসা। একটা জ্ঞানীকে মুহূর্তের মধ্যে ত্রিমাত্রিক(ভিজুয়াল ওয়াল্ড)জগতে এনে ফেলা যায় প্রশংসা দিয়ে। সময়জ্ঞাপক জ্ঞানও শেষ হয়ে যায় এ জগতে। মানে পার্থিব তৃতীয়মাত্রার সাথে সময়ের যোগ ও যোগাযোগ শেষ হয়ে যায়। যতদিন ক্যাসিক্যাল(মৌলিক হবে হয়তো বাংলায়) বিজ্ঞানের বেশি মানুষ ভাবতো না ততদিন মহাজাগতিক, মানবচিন্তার অতিমাত্রিক( মেটাভার্স) এবং পরমবাদ স্বীকারই করতো না। কোয়ান্টাম পদার্থ বিজ্ঞান, ঈশ্বরকণা,হিগসবোসন,কোয়ান্টাম কণার একই সাথে দ্বৈতরূপদান বহুমাত্রিক আচরণ ও মুখোমুখি অবস্থান বিজ্ঞানে চিন্তার পরীক্ষালদ্ধ জগতেও পরিবর্তন আনে।

জগতে যে লীনের(পরমের খেলা) খেলা। এ খেলায় অংশ নিতে নিজেকে প্রতিমুহূর্তে ভাঙ্গতে হয়, ভাঙ্গতে গেলেই স্বীকার করতে হয় আমি কিছু জানি না। তাহলেই কেবল জগতের নয়মাত্রিক জগত এবং দশ/এগারোমাত্রিক চিন্তার এক অনন্য পরমে উৎকর্ষের ছোঁয়া মেলে।
বিঃদ্রঃ মাত্রিক ব্যাপারগুলো মৌলিক বিষয় তাই ভেঙ্গে আলোচনায় আনিনি, যদিও যে যত সহজে বলতে পারে সে ভালো কথক। আমি তা নই। লিখাটি সবার জন্যেও নয়। যিনি মনে করবেন পড়া যায় তিনি পড়তে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:১০
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

লিখেছেন নতুন নকিব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:০৪

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

ইয়াতিমদের সাথে ইফতার অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া, ছবি https://www.risingbd.com/ থেকে সংগৃহিত।

তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রীও তিনি। তাকেই তার বৈধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বছরশেষের ভাবনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৮


এসএসসি পাস করে তখন একাদশ শ্রেণিতে উঠেছি। সেই সময়ে, এখন গাজায় যেমন ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে, তখন বসনিয়া নামে ইউরোপের ছোট একটা দেশে এরকম এক গণহত্যা চলছিল। গাজার গণহত্যার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ : জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৮



খিচুড়ি

হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল “হাঁসজারু” কেমনে তা জানি না।
বক কহে কচ্ছপে—“বাহবা কি ফুর্তি!
অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।”
টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা—
পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ কোরআন সহজ করে দিলেও মুসলমান মতভেদে লিপ্ত হয় কোন কারণে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:৫২



সূরাঃ ৫৪, কামার ১৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৭। কোরআন আমরা সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×