
একজন খুব পরিশ্রম করে খাঁটি শুকনো সবজি( দুষ্টু লোকে যাকে গাঁ*জা বলে ডাকে) খেয়ে পড়াশোনা করে হঠাৎ করে বিসিএস হয়ে গেলো। যথারীতি কষ্ট করে সফলতার গল্প হলো। সবাই খুশি। ক্যাডারের বাবা একটু মন খারাপ। এমন কি ক্যাডারেরও। কেন? কারণ তার এবং তার বাবার চালানো অটোরিকশা-টি চলে মাত্র ৪০/৪৫ কিলোমিটার/ঘন্টা বেগে। তারা হেলিকপ্টারের মতো মোটরসাইকেলের আগে যেতে পারেনি কোনদিন।
ঠিক ভাড়া অইছে ৩০, তখনো বলতে পারি নাই গল্পের মতো।
কি করা যায়? হঠাৎ এক বুদ্ধি এলো। ছেলেকে বলছে বাবা! একটা বুদ্ধি! তুই তদবির করে সড়ক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে যা! ছেলে বলে গেলে কি হবে?
বাবা বলে গেলেই স্বপ্ন পূরণ! মোটরসাইকেলের লিমিট ৩০ কিলোঃ/ঘন্টা দিবি। তখন তুই আর আমি ভোঁ ভোঁ করে মোটরসাইকেলের আগে আগে সাঁই সাঁই করে অটোরিকশা চালিয়ে যাবো। কি মজা কি মজা।
যেই কথা সেই কাজ। হয়ে গেলো লিমিট। ৩০ কিলো/ঘন্টায় চলে মোটরসাইকেল আর অটোরিকশায় চলে বিশিষ্ট সবজিখোর কেদার ও তাঁর বাবা৷ যেন রাজপথে হেলিকপ্টারের মজা।
এর মধ্যে কেদার ছেলের উন্নতি হইছে, বুদ্ধি পেকে আরো বাড়া হইছে। কিনেছে প্রাইভেট কার! অতীতের বাপের বুদ্ধি কাজে লেগেছে এখনো রাস্তাঘাটে ঐ দুষ্ট মোটরসাইকেলগুলো আগে যেতে পারে না, গতি ৩০ কিলো/ঘন্টা। এখন মেলা সম্মান বাড়ছে কিন্তু রাস্তায় চার্জের অটোরিকশা দেখলেই মনে পড়ে যায়, কুমার বিশ্বজিতের মতো, একদিন হেলিকপ্টারওয়ালার পুত ছিলাম রে! এটা যেভাবেই হোক ভুলতে হবে, জাতিকেও ভুলাতে হবে।
যে ইচ্ছা সেই কাজ, হঠাৎ একদিন প্রজ্ঞাপন জারি! সকল অটোরিকশা বন্ধ। বাবার তো মন খারাপ! প্রচুর মন খারাপ!
ছেলে আমার বড় হলো! কি করলো খোকা? জেমসের মতো দরাজকন্ঠে শঙ্কার কথা।
বাবা পুরোনো অভ্যাস অটোরিকশা সাঁই সাঁই করেই চালাতে হবে। এবার বাবা! আনোয়ার হোসেনের মতো চৌধুরী সাহেব! আপনি দয়া করে অটোরিকশা-র অনুমতি দিন! আমি রাস্তা দিয়ে নিয়ম মেনেই অটোরিকশা চালাবো।
ছেলের দরাজকন্ঠে না! এটি কোনদিন হবে না।
আনোয়ার হোসেন! এ আমি কি শুনলাম? হার্টএ্যাটাকে মারা গেল! চৌধুরী সাহেব! আ.......।
ছেলে এখন ভীষণ অনুশোচনা! এ আমি কি করলাম! আমার বাবা এখন নাই.......।
চিৎকার করে বলে উঠলো! না.......না.....
সব দোষ এ সবজির....! আমি আর সবজি খাবো না!
কেরানি, জ্বী হুজুর!
অন্তত আপনারা সবজিটা খাওয়া ছাড়ুন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০২৪ দুপুর ২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




