[১]
যাহারা ক্ষুধার্ত মানুষের পক্ষে কথা বলিয়া ক্ষমতায় যায়, ক্ষমতাসীন থাকিয়া তাহারাই আবার অন্ন বস্ত্রহীন অসহায় মানুষদের কথা ভুলিয়া যায়। ফলে গরীব আরো গরীব হয়। ক্ষমতায় যাইয়া ধনী আরও ধনী হয়। এই নিয়ম এখন প্রচলিত হইয়া গিয়াছে। আসলে মানুষের নৈতিক চরিত্র ভাল না হইলে ক্ষমতায় গিয়া লাভ নাই। যতদিন পর্যন্ত চরিত্রবান নির্লোভ সৎ ন্যায়নিষ্ঠ কর্তব্য পরায়ণ ধর্মভীরু জনদরদী ব্যক্তিরা রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় না যাইবে ততদিন পর্যন্ত এই দেশের গরীব কৃষক শ্রমিত ছাত্র জনতার দুঃখ দুর্দশার অবসান হইবে না।
[২]
পশ্চিমের শুকর সাদা হইতে পারে আর পূর্বের শুকর কালো হইতে পারে, সব শুকরই হারাম। শোষণ ছাড়া শোষকের কোন ধর্ম, জাত নাই।
[৩]
আমাদের সংগ্রাম দুই মুখী হইতে হইবে। একটি প্রত্যক্ষ আর একটি পরোক্ষ। প্রত্যক্ষটিতে থাকিবে বিদ্রোহ, পরোক্ষটিতে থাকিবে শোধন। দুই দিকই যদি একতালে চালাইয়া যাইতে পারি, তবেই আমরা ইপ্সিত লক্ষ্যে পৌছিতে পারিব।
[৪]
জনগনের সচেতনতা দুনিয়ার অশুভ সকল শক্তিকে ব্যার্থ করিবেই।
[৫]
আমাদের দুয়ারে আজও ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর অভিশাপ বর্তমান। আজও নীলকর সাহেবদের দৌরাত্ন বিরাজমান। আজ তাই দরকার তীতুমীরের বিদ্রোহ, শরীয়তুল্লাহর সংস্কার আর ক্ষুদিরামের ত্যাগ।
[৬]
আমি মানুষকে দেখিয়াছি – আমি দেখিয়াছি যে মানুষ কাঁদিতেছে, সে-ই আবার বিদ্রোহ করিতেছে। আমি দেখিয়াছি, যে মানুষ নীচু তলায় আঁধারে পচিতেছে, তাহারাই বুলেটের মুখে আত্মাহুতি দিতেছে।
[৭]
জমির পরিমাণ ভেদে মানুষে মানুষে শ্রেণীভেদ করাটা আমি মোটেই বরদাস্ত করিতে পারিতাম না। জমিদার-মহাজনদের সুপরিকল্পিত শোষণের পরিচয় যে দিন পাইয়াছিলাম, সেই দিনই মনে চাহিয়াছিলাম, গোটা সমাজ ব্যাবস্থাটাকে দুমড়াইয়া নতুন কিছুর পত্তন করি।
[৮]
বৃটিশ শাসনের আমলে হিন্দু-মুসলিম বিরোধ এবং স্বাধীণতার পর পাকিস্তানের বাঙ্গালী-অবাঙ্গালী বিরোধের দরুন দেশবাসী লাভবান হয় নাই। লাভ হইয়াছে কোটিপতিদের। লাভ হইয়াছে শিল্পপতি ও শাসকদের। অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয়, হিন্দু-মুসলিম বা বাংগালী-অবাঙ্গালী বিরোধ একেবারেই কৃত্রিম। সেই বিরোধ দুরভিসন্ধীমূলক লোকেদের স্বার্থে নিজেদের হাতে গড়া।
[৯]
যাহারা হাজার হাজার বিঘা জমির মালিক, যাহাদের বাড়ীর কয়েক মাইলের সীমানায় অন্যের জমি নাই, তাহারাই সব কৃষক নেতা। তাহারা কৃষকের সমস্যা, কৃষকের দুঃখ বোঝেনা। তোমরা যাও একটা গ্রাম বাছিয়া লইয়া কৃষকদের সহিত আলাপ কর – সার্ভে কর। দেখিবে জাতির মেরুদন্ড কৃষকেরই মেরুদন্ড নাই।
[১০]
মিথ্যাকে পরিত্যাগ কর, অন্যায়কে ঘৃণা কর, আল্লাহর সৃষ্টিকে ভালবাস – তবেই তোমার অভীষ্টকে পাইবে।
[১১]
আত্মম্ভরী হইও না, মানুষের খেদমত কর। সকলের চেয়ে ছোট হও, তবেই খোদাকে পাইবে। মনে রাখিও, ছোট হইতে হইতে যখন ছোট হইবার আর কিছুই থাকে না তখনি এটমিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
মজলুম জন নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খানঁ ভাসানীর বানী!!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।