somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র - দায় কার?

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
এসএসসি পরীক্ষা শুরু হল। আমার নিজের মামাতো ভাই এবার পরীক্ষার্থী। আমি নিজে যখন এই পরীক্ষাটি দিয়েছিলাম তখন দেখেছি, আমি নিজে যতটা না চিন্তিত ছিলাম তার চেয়ে আমার অভিভাবকগণ বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। আত্মীয়-স্বজন দেখতে এলেন, পরীক্ষার আগে আমার নানু (নানীকে আমি নানু বলি) এক পীর-সাহেবের কাছ থেকে কলম আর কালির দোয়াতে দোয়া নিয়ে এলেন। আমি তখন বলপয়েন্ট দিয়ে পরীক্ষা দিতাম না। পরীক্ষা উপলক্ষে নূতন ফাউন্টেন পেনও পেয়েছিলাম। তখন ইয়োথ আর উইলসন বেশ ব্যবহার হত। আমি পরীক্ষা উপলক্ষে পেয়েছিলাম হিরো।

দেশের এই বোর্ড পরীক্ষা ব্যবস্থাটাও আমার কাছে আজব মনে হয়। সারাজীবন নিজের স্কুলে পড়াশোনা করলাম কিন্তু ফাইনাল এসএসসি দিতে হবে অন্য স্কুলে গিয়ে। আমার মামা পরীক্ষা শুরুর আগেই সিট দেখে আসল। আমার সিট পড়েছিল ঢাকার সেগুন-বাগিচা হাই স্কুলে। এমনিতেই এটি স্কুলের কোন পরীক্ষা নয়, বোর্ড-ভিত্তিক পরীক্ষা। তারউপরে সীট পড়বে অন্য স্কুলে। সেই স্কুল কেমন? স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা কেমন - কিছুই জানা নেই। অর্থাৎ যত প্রকারের চাপ একটা কোমলমতি পরীক্ষার্থীকে দেওয়া যায়, তার সব ব্যবস্থাই আছে। জানি না, এ ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে কবে?

এবার মামাতো ভাইয়ের প্রসঙ্গে আসি। তার বেলায়ও একই অবস্থা। সবাই তাকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত। আমার আম্মি আমেরিকা থেকে পরীক্ষার দিন সকালে বাংলাদেশে ফোন দিয়ে কথা বলল, আমি কথা বললাম। দু-একদিন আগেই সে বলছিল যে তার কেমন জানি ভয় ভয় করছে। আমরা তাকে অভয় দিলাম। সে অবশ্য স্কুলের মেধাবী ছাত্রদের কাতারেই পড়ে। তার সিট পড়েছে ঢাকার নবাবপুর হাই স্কুলে। প্রথম পরীক্ষা বাংলা প্রথম পত্র।
যথাসময়ে তাকে নিয়ে পরীক্ষাস্থলে হাজির হল তার আম্মু। সাথে আমাদের আরো অনেক আত্মীয়-স্বজনও গেল। দুরু দুরু মন। পরীক্ষা শুরু। পরীক্ষার খাতা দেবার পর যথাসময়ে প্রশ্নপত্র দেওয়া হল। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখে আমার ভাইটির মাথা গরম!

একি ! গতবৎসরের প্রশ্নপত্র বিলি করা হয়েছে !!

আমার মনে পড়ে, আমরা আগে সবসময়ে আগের বৎসরগুলির প্রশ্নপত্র সমাধান করতাম। হয়তবা আমার ভাইটিও করেছিল, তাই প্রশ্ন দেখেই সে বুঝে গিয়েছিল। আশ্চর্য ব্যাপার হল, সবার ক্ষেত্রে এটি ঘটে নাই। এমনকি একই রুমে কেউ কেউ ঠিক প্রশ্নপত্রই পেয়েছে, আবার কেউ কেউ গত বৎসরেরটা পেয়েছে। আমার ভাইটি তখন পাশের পরীক্ষার্থীকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করল যে, তার প্রশ্নপত্রে আছে কিনা? না, নেই। সে কর্তব্যরত শিক্ষককে বলল যে, তাকে গত বৎসরের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে, সে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন উল্লেখ করে বলল যে, এটি তার প্রশ্নপত্রে নাই যা নাকি অন্যজনের প্রশ্নপত্রে আছে।

কিন্তু বিধি বাম ! শিক্ষক দিল একটা ধমক - প্রশ্ন ঠিকই আছে, খুঁজে দেখ।

আমরা জানি - পরীক্ষা হলে প্রতিটা মিনিট কতটা গুরুত্বপূর্ণ ? আর পরীক্ষাটা যদি বাংলা হয়, তাহলে তো কোন কথাই নেই। তাছাড়া বাংলাদেশে শিক্ষকের সাথে তর্ক করাটাও বেয়াদবি। আমার ভাইটি তর্কাতর্কি বাদ দিয়ে লেখা শুরু করে দিল। কিন্তু তার মনে একটা খচখচ থেকেই গেল যে, যদি ভুল প্রশ্নপত্র হয় তাহলে তো সে ফেল হয়ে যাবে। তাই মিনিট বিশেক পর সে আবার পরীক্ষা হলে পাহাড়াদনরত শিক্ষককে বলল যে, স্যার আমার মনে হয় প্রশ্নটা ভুল।

নাহ, কোন লাভ নেই। আবার ধমক ! কী আর করা, সে আবার লেখা শুরু করল।

এমন সময় হঠাৎ করেই অন্য কক্ষ থেকে একই অভিযোগ উঠল এবং অন্যকক্ষগুলোতেও এটা আবিষ্কৃত হয়েছে যে, ছাত্র-ছাত্রীর বিরাট একটি অংশ ভুল প্রশ্নপত্র পেয়েছে। তাদের রুমেও অন্য শিক্ষকরা এসে জিজ্ঞেস করল - কে কে ভুল প্রশ্নপত্র পেয়েছে? কিন্তু হায়, এরই মধ্যে ৫০ মিনিট পার হয়ে গিয়েছে !

বোর্ড-ভিত্তিক এই পরীক্ষাটি অন্য একটা স্কুলে দিতে এসে এমনিতেই মনে টেনশন। এরই মধ্যে যদি ভুল প্রশ্নপত্র বিলি করা হয় এবং ৫০ মিনিট পর তা সংশোধন করা হয়, তাহলে এই বাড়তি টেনশনে তাদের পরীক্ষা ভালো হবে কী? নাটকের এখানেই শেষ নয় ! ঘোষণা করা হল যে, ১৫ মিনিট বেশী সময় দেয়া হবে কারণ বোর্ড কর্তৃপক্ষ নাকি ১৫ মিনিটের বেশী দিবে না। ৫০ মিনিট নষ্ট হওয়ায় কোমলমতি পরীক্ষার্থীদের মনে যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য তো দুই ঘণ্টা বেশি দেওয়া উচিত। তা না করে ৫০ মিনিটের জায়গায় ১৫ মিনিট !! এটা কি সত্যিই বোর্ডের নিয়ম নাকি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তৈরিকৃত নিয়ম? আমার খালা ও মামির ভাষ্যমতে, অনেক শিক্ষার্থীই পরীক্ষা শেষে চোখ মুছতে মুছতে বেরিয়েছে। আমার ভাইটির পরীক্ষাটিও সময়ের অভাবে প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। এটা হওয়াটাই স্বাভাবিক। বাড়তি টেনশনে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে কম সময়ে সবগুলো উত্তর লেখা কোনভাবেই সম্ভব নয়। জীবনের প্রথম চ্যালেঞ্জটিতেই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা একটি দুষিত সিস্টেমের শিকার হল!

এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিলি হয় কীভাবে? যারা দায়িত্বে আছেন তারা কি বোঝেন না যে, এই পরীক্ষাটি একজন শিক্ষার্থীর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তারা কি জানেন না যে, ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে (বুয়েট, মেডিক্যাল, বিশ্ববিদ্যালয়) অংশগ্রহণের জন্য বোর্ডের এই পরীক্ষাটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ?

সঞ্চয় রহমান
ফেব্রুয়ারী ০১, ২০১২
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:৩৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×