এদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। সহজ সরল। এরা অল্পতেই তুষ্ট। শ্রম দিয়ে দুপয়সা ইনকাম করতে পছন্দ করে। কোনো কিছুর প্রতি এদের লোভ কম। এদেশের মানুষ অত্যন্ত সহনশীল। একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসে। গ্রাম-ঘাট আগের মতো না থাকলেও এখন গ্রামের মানুষের মধ্যে সহানুভূতির অভাব নেই। আমার প্রিয় বাংলাদেশ সম্পর্কে এসব কথা এক সময় আবলীলায় বলা যেত। কিন্তু এখন আর বলা যায় না। তবে একথা সত্য এদেশ খুবই উর্বর। আঙ্গুল দিয়ে খুচে মাটিতে বীজ দিলে বড় বড় কদু লাউ জন্মে। গাছ লতা পাতা আর ফসলের উর্বরভূুমি বাংলাদেশ। কিন্তু আজ শান্তি খুঁজতে হচ্ছে। কেন?
বর্তমানের এ অবস্থার কারণ যদি বলি তাহলে অনেকগুলো বিষয় সামনে উঠে আসে। এগুলোর প্রথম ও প্রধান কারণ রাজনীতি। যে গ্রাম সমাজ ও লোকালয়ে গতানুগতিক রাজনীতি নেই সে সমস্ত স্থানের মানুষ এখনও ভালো আছে। এদেশের মানুষ ধর্মপ্রিয়। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি লঙ্ঘনে গত এক দশকে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা একেবারে নগন্য। এগুলোও ষড়যন্ত্র করে ঘটানো হয়েছে। এদেশে এখনও হিন্দু-মুসলিম এক কলে পানি খাওয়ার নজির আছে। আছে এক পুকুরে গোছল করার নজিরও। এদেশর হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মুসলিম পরিবারে খাওয়া-দাওয়াও করে।
কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেশটাকে শেষ করে দিচ্ছে। দেশের প্রতিটি মানুষের মনে এখন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে দিয়েছে এই রাজনীতি। সেটা হয়েছে রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের একগুয়েমি আর ক্ষমতার লোভের কারণে। এদেশের যারা আইন প্রণেতা হচ্ছে তারাই এখন দুর্বৃত্ত। তাদের হাতে মানুষের রক্ত। তারা রক্তের ওপর ঘুমায়, রক্তের ওপর প্রাসাদ গড়ে। তাদের দুই পাও রক্তে রঞ্জিত। দুর্বৃত্তপণা, অস্ত্রচালনা না শিখলে এ দেশে আইন প্রণেতা হওয়া যায় না। এজন্য শহর নগর গ্রামের মানুষ যতই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছে ততই হিংস্র হয়ে উঠছে।
আসুন আমরা রাজনৈতিক নেতাদের আহ্বান করি...আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই। আপনারা দুই মতকে পাশাপাশি রেখে এদেশের জন্য ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড় দিন। (বিক্ষিপ্ত চিন্তা)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ২:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




