somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শৈল্পিক চুরি

০১ লা জুন, ২০২৪ সকাল ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বহুদিন ধরে ভেবেও বিষয়টা নিয়ে লিখব লিখব করে লিখা হচ্ছে না ভয়ে কিংবা সঙ্কোচে!
কিসের ভয়? নারীবাদী ব্লগারদের ভয়।
আর কিসের সঙ্কোচ? পাছে আমার এই রচনাটা গৃহিনী রমনীদের খাটো করার প্রয়াস হিসেবে কেউ ভেবে বসেন সেই সঙ্কোচে।
***
ছোট বেলায় বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি নিজের অধিকার হিসেবে ভাবতাম- এটা কখনোই পাপকর্ম হিসেবে ভাবি নাই। বরংচ মার জমানো টাকা চুরি করে পাপবোধে ভুগতাম।
অনেক অনেক বড় হবার পরে একটা জিনিস টের পেলাম নিজ ঘরে আরেকটা চোর বর্তমান। যে স্বামীর পকেট থকে টাকা চুরি একটা শৈল্পিক রীতি হিসেবে নিয়েছে। এখানে কোন পাপবোধ তো দুরের কথা এনারা এটাকে 'ফরজে কেফায়া' হিসেবে ভাবেন।
ইঁনারা নতুন বউ ঘরে আসলে তাঁকে সংসারের তালিম দেবার পাশাপাশি কিভাবে স্বামীর পকেট কাটতে হবে তাঁর সুক্ষ্ণ তালিমটাও দিয়ে দেন বেজায় হাস্য-রস করতে করতে। সেই সাথে কে কিভাবে তাদের পতিদেবদের বোকা বানিনে পকেট থকে সমুদয় টাকা পয়সা হাপিস করে দেন তাঁর সবিস্তারে বর্ননা করে এমন কৌতুকময় পরিবেশ সৃষ্টি করেন যে, নববধুর সে রাতেই ধ্যান জ্ঞান সপ্ন হয়ে ওঠে কেমন করে তাঁর বেহুড়া পতিকে আরো বেশী বেহদ্দ বোকা বানিয়ে সবাইকে চমকে দিবেন।
শুধু অগোচরে পকেট মেরে ক্ষান্ত দিলে কথা ছিল- কিছুদিন বাদে স্বামীর দুঃসময়ে তারা বিশ্বব্যাংক কিংবা আই এম এফ সেজে বসে, চমৎকার কিছু শর্ত সাপেক্ষে সেই টাকা থেকে লোন প্রদান করেন।
ফেসবুকে এই লোন নিয়ে অনেক ট্রল হয়। 'কেউ বলে বউ এর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা লোন নিয়েছিলাম, কতবার শোধ করলাম- এখনো নাকি সে পাঁচ হাজার টাকা পায়।'
আমাদের মত গরিব দেশের মত এই টাকা এক জিন্দেগীতে শোধ করা মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। পুরুষ মানুষের কথায় কাজে মিল থাকে কম। বউ এর টাকার হিসাবে পাত্তা দেয় কম। ওদিকে আই এম এফ তাঁর হিসাব নিয়ে তক্কে তক্কে ঠিকই থাকে। পকেট কাটে দ্বিগুণ গতিতে। একটু বেতাল হইলেই হুমকি দেয়। দ্বিতিয়বার লোন চাইলে তো কথাই নাই; এইবার মামা কট!
(* তবে এটা না বললেই নয় বেশীরভাগ ছেলেরাই বেহিসেবি হয়। গৃহিনীরা তাদের এই জমানো টাকা অনেক দুঃসময় সামাল দেয়।
স্বামীরাও ঠিক ঠাক জানে, দেখেও না দেখার ভান করে। এটা যেন এক পারিবারিক খেলা যা দুই পক্ষের সম্মতিতেই হয়ে থাকে।)

গল্পটা করতে চেয়েছিলাম লাটু ভাইকে নিয়ে। এককালের কুস্তিগীর লাটু ভাই। ষাটের ঘরে বয়স হলেও এখনো দশাশই ফিগার। মায়ের অমতে নিজের কাজিনকে বিয়ে করে ঘরছাড়া হয়েছিলেন। পরে পারিবারিক সম্মতি মিললেও সেভাবে তাঁর গিন্নী শ্বশুরবাড়ির সাথে একাত্ব হতে পারেনি কখনো।
একমাত্র সন্তান তাঁর দেশের বাইরে পড়াশুনা করছে। এইবার করোনায় তাঁর স্ত্রীর সাথে যমে মানুষে টানাটানি করে দীর্ঘ একুশদিন বাদে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরিয়ে এনেছিলেন।এরপর থেকে ভাবিসাহেবের মাথায় একটু গোলমাল- চাকুরি ছেড়ে দিলেন, সারাক্ষন পশু পাখি নিয়ে থাকেন। তাদের খাওয়া দাওয়া আর চিকিৎসা বাবদ টাকা দিতে গিয়ে লাটু ভাইয়ের ধার দেনা করার অবস্থা!
টাকা পয়সার একটু হাত টান দেয়ায়,
সেই মহিলার মানিব্যাগ থেকে টাকা হাপিস করার অভ্যাসটা শুরু হল বাড়াবাড়ি রকমের। উপায়ান্তর না দেখে লাটু ভাই কখনো তোষকের নীচে কখনো ব্যাগে, কখনো আলমারিতে টাকা রাখা শুরু করলেন। ওমা যেখানে টাকা রাখেন সেখান থকেই টাকা হাওয়া হয়ে যায়। সেই মহিলা টাকার গন্ধ শুকে শুকে সেইখানে ঠিক পৌছে যায়।
এবার ড্রয়ারে টাকা রেখে তালা মেরে রাখলেন - আর চাবি রাখলেন নিজের মানি ব্যাগের গোপন অলিন্দে। কদেন বাদে দেখেন মানিব্যাগে চাবি নেই। ভাবলেন হারিয়ে ফেলেছেন কোথাও। বাইরে থেকে চাবিওয়াকে আনিয়ে ড্র্যার খুলে দেখেন টাকা-পয়সা হাওয়া।
এই নিইয়ে বউ এর সাথে মনো-মালিন্য। একটু রাগারাগি করে ঘুমোতে গেলেন।
গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে ছায়ার মত কে যেন দেখেন দাঁড়িয়ে আছে। ভাল করে লক্ষ্য কর- ভয়ে দম বন্ধ হয়ে কাঁপতে লাগলেন; তাঁর বউ দাঁড়িয়ে আছে 'বটি হাতে'। মহিলা ভাগ্যিস দয়া করে কোপ দেননি।
এরপরে আর প্রানের ভয়ে আর চটান না। টুকটাক টাকা পয়সা তাঁর চাহিদা অনুযায়ী দিয়ে যান আর মানিব্যাগে কিছু রেখে দেন নিয়মিত চুরি করে খোশ মেজাজে থাকার জন্য।
এর মাঝে অতি গোপনে একটা মাটির ব্যংক নিয়ে এসে খাটের নীচে লুকিয়ে রেখেছেন তিনি। প্রতি রাতে পাঁচশ/ এক হাজার টাকা রাখেন তিনি। মনে মনে ভাবেন বউ যেদিন বাপের বাড়ি যাবে সেদিন এই ব্যাঙ্ক ভেঙ্গে বড় অঙ্কের একটা টাকা দিয়ে বন্ধু বান্ধব মিলে ঢাকার বাইরে গিয়ে মৌজ মাস্তি করবেন।
তাঁর হিসেবে ৭৪ হাজার টাকার মত জমা হয়েছিল। বউ এর শ্বশুরবাড়ি যাবার দিনক্ষন পাক্কা- তাঁরও বন্ধুদের সাথে মৌ-মাস্তির হিসাব কিতাব!
রাতে এসি বাসে বউকে উঠিয়ে দিয়ে এসে বাসায় ঢুকেই বড় করে এক স্বাধীনতার হুঙ্কার দিলেন। তারপর নিজের রুমে গিয়ে গোপনে রাখা সেই মাটির ব্যাঙ্কটা বের করে তুলে ধরে আছড়ে ফেললেন টাইলসের মেঝেতে। পোড়া মাটির ভাঙ্গা টুকরো গুলো ঝন ঝন করে ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে- আর তাঁর সাথে টুং টুং করে একটা মাত্র পাঁচ টাকার কয়েন। পুরো ৭৩৯৯৫ টাকা গায়েব!!!!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০২৪ রাত ১১:১৪
৩২টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশে তরুন সমাজের মাঝে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার : অশনী সংকেত

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫১


২০২৬ সালের ২৫ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ অবৈধ মাদক গ্রহণে আসক্ত/জড়িত, এবং এই সংখ্যা একটি গবেষণার
ভিত্তিতে উল্লেখ করেন। তিনি নতুন synthetic ও semi-synthetic... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির মূল্যায়নে বঙ্গবন্ধু কিংবা আওয়ামিলীগের অবদান শূণ্য। মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অবদান জামাতের॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৬



বিএনপি করার পূর্ব শর্ত কি? ইতিহাস বিচারে দেখা যায়, পার্ক মার্কিন প্রেসক্রিপশনে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মিথ্যুক হতে হবে। আর সাথে রাজাকার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড হলে তো কথাই নাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্রের অধিকার : ২৫ কিমি: মধ্যে ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:২১

গণতন্ত্রের অধিকার : ২৫ কিমি: মধ্যে ?



জাতিসংঘে বিশ্বের সকল দেশের অংশগ্রহনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান হয়ে গেল ।
সেখানে শাসক, স্বৈর-শাসক ও গনতন্ত্রর বক্ততারা এক হয়েছিলেন । কিন্ত কোন ভালো সিদ্বান্ত
নিতে পেরেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×