দুনিয়াতে “আল কোরান” এর পরে সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ “বুখারী শরীফ”। এটা নিয়ে যদি কারো দ্বিমত থাকে তবে তার ঈমান নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। যারা এই দলে আছেন তাদের বলছি দয়া করে নিচের লেখা পড়ার দরকার নেই। (আপনাদের সময় নষ্ট করার জন্য দুঃখিত)।
সাহস নিয়ে নিচের লেখা যিনি পড়বেন তাঁকে বলছি, আমি কিছু কথা বলব যা হয়তো আপনার ভাল লাগবে না। ভাল না লাগলেও, আমাকে যে বলতেই হবে! তো চলুন এবার শুরু করা যাক।
অনেকে আছেন যারা কোরান মানেন অথচ হাদিস মানেন না! তাদের জন্য নিচের আয়াতটি দিলাম।
“রাসুল তোমাদের যা দিয়েছেন তা গ্রহন কর, যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন কর“
(আল কোরান-সুরাঃ হাশর- আয়াতঃ ৭)
এটা আল্লাহতায়ালা নিজে বলেছেন। তাছাড়া কোরান অবতীর্ণ হয়েছে মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর। বেশির ভাগ লোক ধর্ম মানেন, আমল করেন হুজুরের দোহাই দিয়ে, পীরের দোহাই দিয়ে, বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে। আপনি কি জানেন, আপনার হুজুর মিথ্যাবাদী! আপনার পীর মিথ্যাবাদী! আপনার হুজুর, আপনার পীর, আপনাকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। প্রমাণ চান???
সালাত দিয়ে শুরু করি।
পুরুষের সালাত একরকম আর নারীর সালাত আরেক রকম। অথচ রাসুল (সাঃ) বলেছেন- “তোমরা সেই ভাবে সালাত আদায় কর, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখ”।
আপনি রাসুল (সাঃ) কে কোথায় পাবেন? তিনি তো দুনিয়া থেকে চলে গেছেন সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে। এখন আপনি কি করবেন? আপনার সামনে দুইটি পথ খোলা।
১। আপনার হুজুরের কথার উপর নির্ভর করবেন।
২। বাংলা “বুখারী শরিফ” খুলে পড়ে বুঝে আমল করবেন।
রাসুল (সাঃ) মেরাজে গিয়ে দেখেন, এক শ্রেনীর লোকদের জীভ আগুনের কেঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। জীব্রাইল (আঃ) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এরা হল ভ্রান্ত হুজুর। এরা মানুষকে ধর্মের নামে মিথ্যা কথা বলতো।
আপনার চারপাশে ছড়িয়ে আছে এইসব ভ্রান্ত হুজুরের দল। সাবধান! এরা নিজেরা জাহান্নামে যাবে, আপনাকে ও নিয়ে যাবে।
অন্যদিকে চলে যাচ্ছি। সালাতে ফিরে আসি।
আপনি সালাত শুরুই করেন বিদাত দিয়ে।
আপনার হুজুর বলেছেন- নিয়ত ছাড়া সালাত হয় না। তাই ছোটবেলা থেকেই নিয়ত শিখতে শিখতে বড় হয়েছেন। পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে ১০-১২ টি নিয়ত! সুরা শিখবেন কি, নিয়ত মুখস্ত করতেই আপনার সময় শেষ! আপনার হুজুর এই নিয়ত কোথায় পেয়েছেন? আপনি জানেন? জানেন না, জানবেন কি করে আপনার হুজুর ই তো জানেন না। তাকে জিজ্ঞেস করে দেখেন, উনি বলবেন-উমুক হুজুর বলেছেন। উমুক হুজুরের কাছে যান, তিনি বলবেন, তিনি শুনেছেন আরেক হুজুরের কাছে!
কান খুলে শুনে রাখুন, কোন হুজুরের দোহাই দিয়ে ইসলাম চলে না। ইসলাম চলে একজন মানুষের কথায়, তাঁর নাম মোহাম্মদ (সাঃ)। ইসলামে কোন অপূর্ণতা নেই। ইসলাম পরিপূর্ণ। রাসুল (সাঃ) আমাদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন কোথায় কোন দোয়া পড়তে হবে, এমনকি বাথরুমে যাওয়ার দোয়াটি ও বাদ যায়নি। সেইখানে সালাতের মতো এত জরুরী একটি ইবাদতে যদি কোন নিয়ত থাকতো তবে কি তিনি তা বলে যেতেন না? প্রশ্ন থাকলো আপনার এবং আপনার হুজুরের কাছে।
সিয়াহ সিত্তাহ নামে ৬টি হাদিস গ্রন্থ আছে যার কোনটিতেই সালাতের নিয়তের কথা বলা নেই। এই নিয়ত মানুষের বানানো। মানুষের বানানো কোন কিছু ইসলামে চলবে না কারন ইসলামে নতুন কিছু সংযোজনের নাম বিদাত। আপনি বিদাত করছেন মানে হল আপনার ভবিষ্যত কোন ইবাদত কবুল হবে না, যতদিন না আপনি বিদাত থেকে বেরিয়ে আসবেন।
আমি আপনার মুসলিম ভাই। ধর্মের নামে মিথ্যে বলে নিজের পরকাল হারাতে রাজী নই। আপনাকে আমি বলিনি আমার কথা মানুন। আমি বলতে চেয়েছি, আপনি নিজে হাদিস পড়ুন, দেখুন, তারপর আমল করুন। যতটুকু আমল করবেন তা যেন শিরক আর বিদাত মিশ্রিত না হয় সে ব্যাপারে খুব ভাল করে খেয়াল রাখুন। আপনার অতীতের সব নেকি নষ্ট করার জন্য একটা শিরক ই যথেষ্ট। আর একটি বেদাতের জন্য আপনার ভবিষ্যত কোন আমল কবুল হবে না। তারমানে? তার মানে হলো আপনার সারাজীবনের সব আমল বাতিল বলে গন্য হবে যদি আপনার আমলের সাথে কোন বেদাত মিশে থাকে। সুতরাং, খুব সাবধান!
আমি আপনার জন্য আল্লাহপাকের দরবারে দোয়া করি, আপনি ও আমার জন্য দোয়া করবেন বলে আশা রাখি।
YOU CAN VISIT MY BLOG:
https://www.shishir54.xyz
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




