somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাব্বাঁশ !

১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাঁশ একটি কাষ্ঠল চিরহরিৎ উদ্ভিদ। শ্রেনীবিভাগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা বাঁশকে ঘাস পরিবারের বৃহত্তম সদস্য হিশেবে বিবেচনা করেন। তবে সে যাই হোক- বর্তমান সময়ে আমাদের জনজীবণে ‘বাঁশ’ শব্দটির বিশেষ অর্থে কিছু ব্যবহার রয়েছে। তবে সেটা একান্তই বন্ধুবিশেষ ক্ষেত্রে। এই যেমন কেউ আমাকে ধোঁকা দিলো। বন্ধু সমাজে এটাকে এটাকে মজা করে এভাবে বলা হয়-‘ সে আমাকে বাঁশ দিলো।’ আবার ধরেন বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলায় কোন দলকে হারিয়েছে। এটাকে বন্ধুবিশেষে এভাবেও বলা হয়-‘বাংলাদেশ অমুক দলকে বাঁশ দিয়েছে।’ অর্থাৎ স্থানবিশেষে এই বাঁশ শব্দটির বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।

তাই বলে যে গাছ হিশেবে ‘বাঁশ’ এর কোন ব্যবহার নেই, তা কিন্তু নয়। গ্রামীণ জনজীবণে বাঁশের নানাবিধ ব্যবহার আমাদের সকলের জানা। শুধু কি তাই? সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বাঁশ গাছের আরও কিছু অভিনব ব্যবহার দেখেছে পুরো দেশ। চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কার্যালয় ও গবেষণাগার নির্মাণে লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। গতদুদিনের সংবাদ মাধ্যমের অন্যতম আলোচিত খবর এটি।

যারা বাঁশ গাছ লাগান আর বাঁশ বিক্রির ব্যবসা করে জীবণ ধারণ করেন, তারাও কি কখনও রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের কথা ভেবেছেন? আচ্ছা ধরুন, কোন বাঁশ ব্যবসায়ীকে যদি বলা হয়- আপনি বাঁশ দিবেন, আর আমি সিমেন্ট দিব। আপনার জন্য চমৎকার একটি বিল্ডিং বানাবো। আপনি সেখানে সুখে শান্তিতে থাকবেন। বাঁশ ব্যবসায়ী কি এমন লোভনীয় প্রস্তাবে রাজি হবে? আপনার কী মনে হয়? আমার তো মনে হচ্ছে বাঁশ ব্যবসায়ী তাৎক্ষনিক বাঁশের অভিনব আরেকটা ব্যবহার আবিষ্কার করলেও করে ফেলতে পারেন।

সরকারি ভবন নির্মাণে বাঁশের ব্যবহার আমরা জেনে ফেলেছি। এবার চলুন সরকারি স্কুল ভবন নির্মাণে বাঁশ কী ভূমিকা রাখতে পারে তা জেনে নিই। নতুন খবর হলো- গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। ঢালাইয়ের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা রডের বদলে বাঁশের ব্যবহার দেখতে পান। এই ছিল আপাতত রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের এখন পর্যন্ত পাওয়া ইতিবৃত্ত।

অনেকে ঠাট্টা করে বলছেন- রডের বদলে বাঁশ, আমাদের দেশিয় প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহারের অংশ। মজার খাতিরে তাদের ঠাট্টার সাথে আমি একমত হতে পারি। তবে আল্লাহ না করুক, কাল যদি শুনি পদ্মা সেতুতেও এই দেশিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তবে সেই হাট্টা যেন ঠাট্টাই থাকে।

এবার আসুন অন্যদিকে। রডের বদলে বাঁশ ইস্যুর নিচে চাপা পড়েছে বেশ কিছু লাশ। ঘটনা চট্টগ্রামের বাঁশখালীর। সরকার কর্পোরেট ইস্যু- কয়লা বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণে চাপা পড়বে বাপ-দাদার বসতিভিটা, এমন শঙ্কায় আন্দোলনের দানা বাঁধতে ছিল এলাকাবাসীর মনে। মিছিল নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিল। পুলিশের গুলি। নিহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হলেও এসংখ্যা ৫/৬ এর কম নয় এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। অতঃপর বাঁশখালী এখন শান্ত। মজা করে বললে- ‘বাঁশ খেয়ে বাঁশখালী এখন শান্ত।’
উদ্ভিদ বিজ্ঞান বলে- বাঁশ সাধারণত একত্রে গুচ্ছ হিসেবে জন্মায়। এক একটি গুচ্ছে ১০-৭০/৮০ টি বাঁশ গাছ একত্রে দেখা যায়। এসব গুচ্ছকে বাঁশ ঝাড় বলে। এই যদি হয় বিজ্ঞানের কথা তাহলে আমার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। কারণ আমরা- জাতীয় জীবণে বাঁশ দেখেছি, বাঁশঝাড় এখনও দেখিনি। সেটা বোধহয় সামনে অপেক্ষা করছে। তবে সেটা আমাদের কাম্য নয়। আজ আর নয়, আজকের লেখার ইতি টানছি। এর-আগে চলুন আমরা বাংলা ভাষাকে বাঁশ প্রয়োগে স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ করি।
সবাই পড়ুন-
রডের বদলে বাঁশ- সাব্বাঁশ। বাঁশখালী খেল বাঁশ- সাব্বাঁশ। বাঁশ খেয়ে লাশ- সাব্বাঁশ।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১২:৫১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাইভেট জব

লিখেছেন রোদ্র রশিদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১০



গত পনেরো দিন ধরে নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। ট্রায়াল ক্লাস। ম্যাডামকে এখনো কলেজে পারমানেন্ট করা হয়নি। উনি খুব একটা খারাপ পড়ান না।

আজকের ক্লাস শেষে ম্যাডামের মন খুব খারাপ।
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

×