উপন্যাসঃ নদীর স্রোত (শুরু)
-- হ্যালো
-- হুম।
-- হুম কি?
-- হুম।
-- আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।
-- প্রথম প্রথম দুরে গেলে এমনই হয়।
-- কে? মিস্টার টুইস্ট?
-- হুম।
-- হুম। আজ সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে।
-- ভালো। স্বামী তো!
-- আজ যখন ও চলে যা চ্ছে তখন খুবই খারাপ লাগছিল। আর যখন এয়ারপোর্টে বিদায় জানিয়ে চলে যাচ্ছে তখন খুব করে ইচ্ছে করছিল আর একটু যদি ওকে দেখতে পেতাম? কিছুক্ষণ পর দেখি ও ফিরে আসতেছে। তখন কেন জানি মনে হলো ওতো আমার স্বামীই। তুমি কিছু মনে করো না।
-- (লাইক চিহ্ন)
-- আচ্ছা রাখি বাই।
-- (লাইক চিহ্ন )
মুনা চ্যাট থেকে চলে গেল। আর ইফতি কয়েকটা রিফ্রেশ দিয়ে দেখলো সত্যিই কি চলে গেছে। যে মেয়ে তার সাথে কথা বলা ছাড়া রাতে ঘুমাতে পারতো না। আর এখনও দশদিন হয়নি বিয়ের এরই মধ্যে ঐ লোকটার জন্য তার ভেতর এত মায়া জন্মে গেল। একবছরের সম্পর্ক আজ তার কাছে বড়ই নগণ্য হয়ে গেল। একবারও সে ভাবলো না তার কথা। না ইফতি আর ভাবতে পারছে না। তার হৃদয়ের কোথায় যেন এক শূণ্যতা তৈরি হল। রাত ১২টা বাজে এখনও সে খাবার খায়নি। তার শরীরের রক্তপ্রবাহ প্রাণ বন্ধ হয়ে আসছে। এই মুর্হুতে তাকে কিছু খেতে হবে তবে সেটা কি শারিরিক নাকি হৃদয়ের ক্ষুধা সে বুঝতে পারছে না। টেবিলের উপর ল্যাব রিপোর্ট গুলো এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে। অনেকগুলো লিখা এখনও বাকি। আজকের রাতের ভিতর সেগুলো লিখে শেষ করতে হবে কিন্তু এখন যে তার কলমই চলছে না। সে মনে মনে বলে, " না ইফতি এমন করলে হবে না তোমাকে শক্ত হতে হবে আরো। তোমার পবিরার তোমার ওপর নির্ভরশীল। " হঠাৎ তার বাবার কথা মনে পড়ে। গত সপ্তাহে যে রিপোর্ট গুলো করেছে সেগুলো তার কাছেই। সে ভাবে যেভাবেই হোক বাবার হাত থেকে রিপোর্ট গুলো দুরে রাখতে হবে। তা নাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। তার চোখের কোণে পানি জমে গেছে। চোয়ারের পেছন থেকে গামছাটা নিয়ে চোখ দুইটি এমন ভাবে মুছতে থাকে যাতে রুমের কেউ বুঝতেই না পারে সে কাঁদতেছে। মনকে একটু শক্ত করে এমন সময়ে অস্ফুট স্বরে বের হয়ে আসে, " টাকা, হ্যাঁ অনেক টাকা লাগবে আমার " ( চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০১৬ সকাল ৭:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


