মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার কাচারিকান্দি গ্রামে এনজিওর
কিস্তি দিতে না পেরায় বসতবাড়ি ভেঙে নেয়ার পর অনেকেই
সেই অসহায় মা ও মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন । সাহায্য,
সহযোগিতা আর সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনসহ
সাধারণ শিক্ষার্থীরা ।
ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে প্রবাসীরা অসহায় ওই
পরিবারটির জন্য আর্থিক সাহায্য পাঠিয়েছেন । ইতোমধ্যে ভেঙে নেয়া ঘরও ফেরত দিয়ে
গেছে বেসরকারি এনজিও ঋণদাতা সংস্থা আশা এর কর্মীরা ।
গত ২ মে দিনমজুর নাসিমা বেগমের করুণ ও হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটে ।
এরপরেই তোলপাড় শুরু হয় কালকিনি উপজেলা ও
মাদারীপুর জেলা প্রশাসনে । দেশ ও দেশের বাইরে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনার
ঝড়।
ঘটনার ৩৬ ঘন্টা পর কালকিনি
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপাসিন্দু
বালা ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়ে দেন। বেসরকারি
সংস্থা আশার কর্মকাণ্ড তদন্তের নির্দেশ দেন ।
রোববার দুপুরে ওসি কৃপাসিন্দু বালা অসহায়
পরিবারটির ১৫ হাজার টাকার ঋণ বহন করার
ঘোষণা দেন । তিনি বলেন, ‘ঋণদানের
কিস্তির বই আমি নিয়ে এসেছি। তাদের কিস্তি আমি
নিজে পরিশোধ করে দেবো’ । এরপর রোববার
রাতের খাবারের জন্য তিনি নগদ এক হাজার টাকা নাসিমা বেগমের হাতে তুলে দেন ।
এদিকে, কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর ইউপি
চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ মারুফ অসহায় মা মেয়ের
খাবারের জন্য দুই হাজার টাকা দিয়েছেন । এছাড়া
ইতালি প্রবাসী জনি আহমেদ ১৫ হাজার টাকা,
মালয়েশিয়া প্রবাসী রংপুর জেলার সবুজ টাকা পাঠানোর
আশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে স্থানীয় রাজনীতিবিদদেরও টনক নরেছে । তাঁরাও নাসিমা বেগমকে যথেষ্ট সাহায্যের আশ্বাস দেন ।
ঘর ফিরে পাওয়া ঋণগ্রস্ত দিনমজুরি নাসিমা বেগম চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন , স্বামী চলে যাওয়ার পর
মেয়েকে নিয়ে তিনি অন্ধকারে পড়ে গিয়েছিলেন ,
হারিয়েছিলেন ঘরও । কিন্তু সাংবাদিকদ এবং স্থানীয় লোকজন এবং সর্বপরি প্রশাসনের জন্য তিনি
সব ফিরে পেয়েছেন । তার পাশে অসংখ্য মানুষ এসে
দাঁড়িয়েছে ’ ।
এই না হলে ব্লগ লেখার স্বর্থকতা ! দিনমজুরি নাসিমা বেগমের ঘটনার ঐ দিনেই আমি ঘটনাটি বিভিন্ন ব্লগে প্রকাশ করি । ব্লগগুলোতে অনেক ব্লগার বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন । এছাড়া অনলাইন মিডিয়া সংবাদিকদের চেষ্টায় বিষয়টি প্রশাসন অবধি পৌছতে কোন সময়ই লাগে নি । ব্লগে লেখার এটাই আমার স্বার্থকতা । কেননা প্রশাসন ব্লগ এবং ওয়েবসাইটের ব্যাপারে বেশ সচেষ্ট থাকেন । তাঁরা দৈনিক নিউজের চেয়ে অনলাইন নিউজ তথা ব্লগকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন । আর এটি তারই প্রমাণ । আমার মতো সমাজের এসকল অবহেলিত মানুষদের বিষয়ে লেখালেখি করলে দেশের মানুষ সজাগ থাকবে । প্রশাসনের টনক নড়বে । সুখি সমৃদ্ধ সমাজ দেশে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে ।
অবশেষে দিনমজুরি নাসিমা বেগমকে এনজিও সংস্থা ফিরিয়ে দিলো তাঁর ঘড়টি | আমার ব্লগ লেখার স্বার্থকতা
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
সামু একটি ছোট নৌকা

একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।
নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।
যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন
জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। পরিচিত যারা কাজ করেন তেমন দু একজনের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন
১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত
আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।