স্থানঃ তারাবনিয়ার ছড়া, কক্সবাজার
ব্লগ পড়তেই ভালবাসি। লিখাটা হয়ে উঠে না সময়ের অভাবে কিংবা আলসেমি করে। কিন্তু এমন কিছু সময় আছে যখন কিবোর্ড না ধরে উপায় নেই। এমনই একটা সময় হলো ঈদের ঠিক আগ মুহুর্তে। আমার বাড়ী কুমিল্লা আর শ্বশুরবাড়ি কক্সবাজার শহরের তারাবনিয়ার ছড়ায়। এই যোজন দূরে কিভাবে সম্পর্ক হলো, সেটা নিয়ে আরেক দিন লিখতে বসব। চাকরির সুবাদে ঈদের বন্ধ ৩ দিনের বেশী পাওয়া অসম্ভব। অফিসের কাজে চট্টগ্রাম যাই ২১/১০/২০১২ তারিখে এবং সেখানে অবস্থান করি ২৩/১০/২০১২ ইং পর্যন্ত। ২৪/১০/২০১২ তারিখ পূজার বন্ধ এবং তার সাথে আরেকদিন বাড়িয়ে শ্বশুরবাড়ি যাই। মানুষ ঈদের পর শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে যায় আর আমি গেলাম আগে। অবশ্য ঈদের আগের দিন রাতে বাড়িতে চলে আসি।যাই হোক সেটা আমার আলোচনার বিষয় নয়।
মূল ঘটনাঃ আমার শ্বশুরের বাসার কাছাকাছি আরেকটি ৫ তলা বভবন নির্মানাধীন। কাজ করছিল নির্মান শ্রমিকরা। পাশ দিয়ে যাচ্ছিল সনাতন ধর্মালম্বীদের দেবী বিসর্জন দিতে যাওয়ার মিছিল। এমন সময় একজন নির্মান শ্রমিক ভবনটির ছাদ থেকে একটি ঢিল ছুড়ে দেয় দেবীকে লক্ষ্য করে। যা ছড়িয়ে দেয় সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প। মূহুর্তেই ভবনের নির্মান কাজের জন্য সংরক্ষিত লাঠিসোটা নিয়ে সনাতন ধর্মালম্বীরা সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। কিছুক্ষন পরই একজন নির্মাণ শ্রমিক ছাদ থেকে পড়ে যায়। কারো কারো মতে সে নিজেই ভয়ে লাপ দেয়, আবার কেউ কেউ বলেন তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই পুরো ঘটনার চাক্ষুস স্বাক্ষী আমি নই। আমি শুধু দেখেছি ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া রক্তাক্ত মুখ। সবাই ধরাধরি করে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য।পরে জানতে পারি সেই নির্মান শ্রমিক মারা গেছে।
আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে সেই হতদরিদ্র নির্মান শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের মুখগুলো। নিজের সাম্প্রদায়িক মানসিকতার জন্য সারা জীবন মূল্য দিয়ে যাবে তার পরিবার। আর সবচেয়ে মজার বিষয়, এই ঘটনার নিরবদর্শী মিছিলের নিরাপত্তার দায়িত্ত্ব পালনরত পুলিশ। এ লজ্জ্বা রাখি কোথায়? নির্মান শ্রমিকের কি দরকার ছিল দেবীকে ঢিল মারার? কি দরকার ছিল সনাতন ধর্মালম্বীদের হুংকার দিয়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠার? পুলিশ যদি তার দায়িত্ব ঠিক মত পালন করতো, এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা কখনই ঘটতো না। এ ঘটনার দায় সবার।
রামু ও উখিয়ার ক্ষত সারতে না সারতেই নতুন করে সাম্প্রদায়িকতায় আক্রান্ত হলো কক্সবাজার। উক্ত এলাকার কোন ব্লগার থাকলে এই ঘটনার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার প্রশ্ন কেন এমন হলো? তার মানে কি আমরা দিন দিন সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠছি? মিয়ানমার থেকে বয়ে আসা বাতাস কি আমাদের জন্য সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প নিয়ে আসছে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


