somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুর্বল মায়ের আবেগী সন্তান

২১ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ৯:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এতগুলো সন্তান আমার দেশ মায়ের। ষোল কোটি সন্তান।

ষোল কোটি সন্তানের একটাই মা। মা দুই হাতে আগলে ধরে থাকতে চায় সবগুলো সন্তানকে। কত আর পারে শ্যামল মায়াবতী দুর্বল মা একা একা? আমার নানুর এগারো সন্তান। এগারোটা সন্তানের প্রত্যেকে নানুকে সমান ভাবে পায় নি। প্রথমদিকের সন্তানের পেয়েছে অনেক বেশি। পরের দিকের সন্তানের বড় হয়েছে প্রথম দিকের সন্তানদের হাতে। বকা খেয়েছে আদর পেয়েছে বড় ভাই বোনের হাতে। নানু জন্ম দিয়েই অনেকটা হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। এতগুলো সন্তানের ক্ষেত্রে তো এই হওয়া উচিত, প্রথম দিকের সন্তানের সবল হয়ে, মাকে ভালবেসে দায়িত্ব তুলে নিবে হাতে। পরের সন্তানদের বড় করবে।

আমাদের অভাগী দেশ মায়ের ভাগ্যে সেটা জুটে নি। ষোল কোটি সন্তানদের দেখাশোনা করার মত দায়িত্ববান সাহায্যকারী সন্তান পায় নি কত কাল! একটু সফল সবল হতেই সবাই নিজেরটা নিজে বুঝে খাচ্ছে। খুটে খাচ্ছে। পশু পাখিদের যেমন, মায়ের আদর বেশিদিন ভাগ্যে জুটে না, জান বাঁচানোর স্বার্থপরতায় খুব দ্রুত সংসার গুটিয়ে চলে যায় নিজ নিজ পথে, মাকে কখনও ফিরেও দেখে না, আমাদের মায়ের সন্তানদের অবস্থা এমন। সবাই তো আর একরকম হয় না, কেউ প্রতিভায় ঠাসা, কেউ একটু সরল সোজা। যারা প্রতিভায় ঠাসা, একটু খুঁজতেই সিঁড়ি পেয়ে যাচ্ছে, তারা তর তর করে উঠে যাচ্ছে। অবশ্য খুব উঁচুতে না কখনই। অন্যরা হা ভাতের মন নিচেই আছে। পেটে ক্ষুধা, মনে ক্ষুধা। রক্তের টান বলে কথা, মনের ক্ষুধা মিটে কেবল একদম সিঁড়ির উঁচুতে কাউকে উঠতে দেখলেই হল, পুরো পরিবার বড় উদ্দেলিত হয়। জানে কিন্তু, একটা ক্রিকেট ম্যাচ জিতে যাওয়ায় মাস্টার্স পাশ করা বেকার রফিকের চাকরি হয়ে যাবে না। একটা নোবেল প্রাইজের জন্য কলিমুদ্দির পরিবারের সবাই পেট ভরে খাওয়া শুরু করবে না। একটা তথাকথিত নেতা 'দুনর্ীতির' দায়ে জেলে ঢুকলেই এসিড ঝলসে যাওয়া রহিমা জীবন ফিরে পাবে না।

তবু, তবু এক একটা সাফল্যে আমরা কাঙাল জাতি কি উদ্দেলিত হয়ে যাই! একটা নোবেল প্রাইজ প্রতিটা ঘরের আলোচনার খোরাক জোগায় ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ। এক জাদুকরী ছোঁয়ায় পুরো জাতিকে বদলে দেয়। ক্রিকেটে একটা বিজয় আমাদের দিশেহারা করে দেয়। আকাশের একটা চাঁদ না কেবল, যত গ্রহের যত কৃত্রিম, অকৃত্রিম উপগ্রহ, চাঁদ আছে, সবই যেন কেউ হাতে ধরিয়ে দিয়েছে। বিষ্মিত, আনন্দিত, উত্তেজিত আমাদের ধারণ করার ক্ষমতা এক পৃথিবীর থাকে না।

গত এক বছরে দেশের রাজনৈতিক পটভূমি পালটে যাওয়া নাটক দেখছিলাম বিতৃষ্ণ, অনাগ্রাহী দর্শক হয়ে। কি সাজানো ঘটনা, দারুণ প্ল্যানড গেইম বা গেইম প্ল্যান। সাধারন আমাদের কি এসে যায় এসবে? তবু, মায়ের গুটি কতক হাতে গোণা সন্তানের সফলতা বিফলতা আলাপেই আমাদের আনন্দ, দু:খ, ক্ষোভ। বন্ধুত্ব, শত্রুতা।

এভাবে দেখে খুব মায়া লাগছে আমার দেশের জন্য, দেশের মানুষগুলোর জন্য। জাতিগত ভাবে 'আমাদের' জন্য। দুর্বল মা ও তাঁর আবেগী সন্তানদের জন্য ভালবাসা রইলো।

---------------------------

ছবির জন্য কৃতজ্ঞতা: [link|http://www.colorsofbangladesh.com/gallery/albums/pakhir_chokhey/bangladesh.jpg|GLv
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ৯:৪৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×