somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

❑ এরই নাম কি ভালবাসা?

২৭ শে জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



-এই তুমি কোথায়? এত দেরি হচ্ছে কেন তোমার আসতে?
-আরে আসছি বাবা, একটু অপেক্ষা কর। বাসা থেকে বের হতে হতেই তো দেরি হয়ে গেল। আর রাস্তায়ও যে জ্যাম!
-আচ্ছা সাবধানে এসো।
-হুম, আসছি।

তন্নি ফোনটা রেখে দেয়ার আরও ২০ মিনিট পর রমনা পার্কে পৌঁছাল। হাসান প্রায় ১ ঘণ্টা যাবত এখানে অপেক্ষা করছে তন্নির জন্য। দুজনেরই বয়স খুব বেশি না। হাসান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিবে, আর তন্নি মাত্রই মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করে কলেজে উঠেছে। আজ প্রায় ৬ মাস হল ওদের সম্পর্কের। ফেসবুকের মাধ্যমেই তাদের ১ম পরিচয়, প্রায় ১০ মাস আগে, সেখানেই না দেখেই প্রেমের সূত্রপাত। ৩ মাস বন্ধুসুলভ চ্যাট করার পর হাসানই প্রথম প্রেম নিবেদন করে তন্নিকে, প্রথমে তন্নি রাজী না হলেও ১ মাস পরে সেও রাজী হয়ে যায়। সেবারই তাদের প্রথম দেখা, এই রমনা পার্কেই। এই পর্যন্ত প্রায় ১৫-১৬ দেখা করেছে দুজন, এই মাসেই এটা তাদের ৩য় সাক্ষাত। তন্নিকে পার্কের গেট দিয়ে ঢুকতে দেখে হাসান এগিয়ে যায়। তন্নিকে সাথে নিয়ে পার্কের ভেতরে নির্জন জায়গাতে দুজন বসে পরে। হাসান তার ঝুলিয়ে রাখা কাধব্যাগ থেকে একটা গিফট প্যাক বের করে তন্নির দিকে বাড়িয়ে দেয়। তন্নি বলল...
-কি এটা?
-তোমার জন্য
-হঠাত গিফট আনতে গেলে কেন?
-আজ তোমাকে আমার প্রপোজ করার ৬ মাস পূর্তি, তাই এটা তোমার জন্য
-৬ মাস হয়েছে বলে এগুলো আনতে হবে? টাকা কই পেলে?
-আরে আমার ইচ্ছে হয়েছে, তাই এনেছি। আর টাকা আমি জমিয়েছি আমার হাত খরচের টাকা থেকে।

তন্নি প্যাকটা খুলে দেখে একটা ছেলে আর একটা মেয়ের পাশাপাশি বসা খুব সুন্দর একটা শোপিস।
-পছন্দ হয়েছে?
-হুম, খুউব।
পার্কে প্রায় ২ ঘণ্টা হাতে হাত রেখে কথা বলে চলে দুজন। এই ২ ঘন্টা তারা পুরো জগত থেকে বিছিন্ন থাকে, যেন শুধু ২ জন দুজনার। ২ ঘন্টা পর তন্নি হাতঘড়ি দেখে বলে,
-অনেক সময় হয়ে গেছে, চল এবার উঠা যাক।
-আরও কিছুক্ষণ থাকো না!
-না, আরও কিছুক্ষণ থাকলে বাসায় ফিরতে দেরি হয়ে যাবে, আম্মু টেনশন করবে।
-ওহ, আচ্ছা চল তোমাকে একটা রিকশায় তুলে দেই।
-হুম চল।
তন্নিকে রিকশা করে দিয়ে তন্নির রিকশা ভাড়াটা হাসান মিটিয়ে দেয়। তন্নি দিতে মানা করছিল, হাসান এক রকম জোর করেই দেয়।

তন্নি বাসায় ঢুকতেই তার মা জিজ্ঞেস করেন,
-কোথায় ছিলি?
-প্রাইভেটে ছিলাম মা!
-আজ বন্ধের দিনেও প্রাইভেট?
-হ্যা মা, পরীক্ষা ছিল।
-ওহ, যা ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নে।
-আচ্ছা, যাচ্ছি।

বন্ধের দিন বলে হাসানের বাবা বাসাতেই ছিলেন। ড্রয়িং রুমে বসে ছিলেন তিনি, হাসানকে বাসার গেট দিয়ে ঢুকতে দেখে তাকে ডাক দেন। হাসান তার বাবার পাশের সোফাতে বসে,
-কিরে বাবা, কই ছিলি?
-এইতো এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম বাবা, কিছু নোট আনতে।
-তা তোর পড়াশুনা কেমন চলছে?
-ভালই বাবা। বাবা একটা কথা ছিল।
-বল।
-নতুন যে টিচারের কাছে কেমিস্ট্রি পড়তে গিয়েছিলাম গত মাসে, এই মাস থেকে উনার কাছে পড়ব না আর। আজ উনার বেতন দিয়ে দিয়েছি।
-কেন? পড়বি না কেন?
-উনি তেমন ভাল পড়ান না। আমি আগের টিচারের কাছেই যাব কাল থেকে।
-আচ্ছা ঠিক আছে বাবা। তুই যা ভাল বুঝিস।

(হাসান কোন কেমিস্ট্রি টিচারের কাছেই পড়ে নি, সে তার বাবার কাছ থেকে যে টাকা নিয়েছিল তা দিয়ে তিন্নির জন্য গিফট কিনে নিয়ে গিয়েছিল। হাসান আর তিন্নি দুজনই তাদের পরিবারকে ধোঁকা দিচ্ছে একটা ৬ মাসের সম্পর্কের জন্য, হাসান তো তিন্নিকেও মিথ্যে বলছিল, এ ধরণের সম্পর্ক কয়দিন টিকে থাকতে পারে বলতে পারেন? মা-বাবাকে ধোঁকায় রেখে কেউ কি সুখে থাকতে অথবা সুখি হতে পারে?)

লেখকঃ Mustafa Anwar (স্বপ্নবাজ শাওন)
লেখকের ফেইসবুক আইডিঃ http://www.facebook.com/nabeel.sjc
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×