গল্পের নায়ক 'হিমু'। তবে, প্রচলিত গল্পের হিমুর সাথে বাস্তবের এই হিমুর অনেক ব্যবধান। গল্পের হিমু নিজেকে নিয়ে কম খেলে, বাস্তবের হিমুরা জাত জুয়াড়ি। "এই হনুমান, শিঘ্রির উঠে আয়" খেপে কথা বলছেন খালা, পাশে শ্রাবনী দাঁত কেলিয়ে হাসছে, আবিদকে ধরে রেখেছে তিরিন। আমি যেখানে এখন বসে এসব ভাবছিলাম সেখান থেকে সিঁড়ি ঘর মোটামুটি দূরেই। ঝুমঝুম বৃষ্টির প্রায় ঘন্টাখানেক পর ওরা এসে সিঁড়ি ঘরে জড়ো হয়েছে। নিজেকে নগ্ন নগ্ন লাগছে, মানুষ শান্তিতে থাকতে দেয়না। আমার উঠতে ইচ্ছে করেনা। পাশের বাসার জানলা দিয়ে মেয়েগুলো খিলখিল করে হাসছে, এতেও ধ্যান ভাঙ্গে না। কিন্তু যখন দেখলাম হুড়মুড় করে চারদিক ভেঙ্গে পড়ছে আর কোত্থেকে আট/দশটা ঢেউটিন সামনের গলির উপর দিয়ে ভেসে যাচ্ছে টুকরো কাগজের মত তখন সন্ন্যাস পর্ব ত্যাগ করে জান নিয়ে ভেগে আসলাম। শুনলাম, খালা ফোন করে কাকে যেন বলছে, ছাগলটা দৌড় দিয়ে এইমাত্র পালিয়ে আসলো।
কাল রাত দশটার কিছু পর খালারা ফিরে আসায় বাড়িটা আবার হৈ চৈ রবে ভরে উঠেছে। আমার জন্য অতীত কাল একটি চেক শার্ট এনেছে। আমি নিলাম। যেহেতু আমার পাবার বা হারানোর কিছু নাই। তুমুল শব্দে আবারো বাজ পড়তে শুরু করলো, একটার পর একটা, কোন বিরাম নাই। শ্রাবনী চিৎকার করে ঘরে চলে যায়, আবিদ কিছুক্ষন আশে পাশে ঘুরঘুর করতে থাকে বৃষ্টির স্পর্শ পাবার লোভে, আর আমি ঠায় দাঁড়িয়ে কাঁপতে থাকি, বহুদিন পর এমন আতাতায়ী ঝড়ে ভিজলাম। শরীর তবু ঠান্ডা হয়না। ঠান্ডা হয়না মনের দাউ দাউ আগুন। শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে আছি অকারন। তারপর চোখে মুখে যখন জলকণা এসে অদ্ভুত এক শব্দ করে আছড়ে পড়তে শুরু করলো তখন তলিয়ে যাচ্ছিলাম কোন এক অন্ধ জগতে। যেখানে বোধ নাই, হিংসা নাই, ঈর্ষা নাই, ক্ষোভ নাই, জগতের আমার অপছন্দনীয় অনেক কিছুই নাই।
দেখলাম, মানুষ যা পছন্দ করেনা, তা মানুষের ভাগ্যে ঠিক ঠিক জুটে যায়। যেমন, পোলাওতে আমি এলাচ-ফেলাচ পছন্দ করিনা, কিন্তু ঠিক ঠিক আমার পাতে ঐ সব দারু-চিনি, এলাচ উঠে আসে, বেশি বেশি।
আমি তার অনেক (অ)কাজ পছন্দ করিনা। তবু ফোন আসে, ঘন্টাভর কথা, সেকেন্ড সেকেন্ড অস্থির আলাপন। উহু গল্পের হিমুর সাথে বাস্তবের এই হিমুর অনেক অমিল। গল্পের হিমুর ঈর্ষা নেই, কিন্তু বাস্তবের এই হিমুর প্রচুর ঈর্ষা। ঈর্ষা কমানোর একটাই উপায়, সে জানে, কিন্তু সে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকে। গল্পের হিমু এ অবস্থায় কি করতো?
বাস্তবের হিমুর জুয়াড়ি ভালোবাসা বজ্রের গর্জনের তালে তালে উঠানামা করতে থাকে, বজ্রের মত করেই সে নিজেকে নিয়ে খেলতে থাকে। ভালোবাসা কারে কয়- আজো তার অজানা, কিভাবে ভালোবাসতে হয়, কিভাবে নতজানু হয় ভালোবাসা ভিক্ষে চাইতে হয় সে জানেনা, তার দ্বারা কত কিছু হয়না, কত কিছু তার অজানা...।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






