সারারাত ঘুমাতে পারিনি। পারিনি এপাশ থেকে ওপাশ ফিরতে। তারপরও বহুকষ্টে বাসষ্ট্যান্ডে আসলাম। অফিসে জরুরী কাজগুলো আটকে গেছে। কিন্তু কেন জানি সাহস করতে পারলাম না বাস চড়তে। প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে বাসায় ফিরে এলাম। এ বাসা ছাড়তে চাইনি যেসব কারনে, তার মধ্যে অন্যতম হলো বাসার সামনে প্রচুর গাছগাছালি আর ছায়াঘেরা। পুরো রোডে প্রচুর গাছ। পল্লবীর অন্য কোথাও এতগাছ নাই।
কিছু বিরক্তিকর ব্যাপারও ঘটে এ মহল্লায়। পাশের বাসায় মাঝে মধ্যে দুই বাড়িওয়ালা ভাইয়ের মধ্যে চলে যুদ্ধ। দু'জনই ৭০ পেরনো বৃদ্ধ। শেষবার যখন এদের মধ্যে ঝগড়া হলো তখন বাসায় মাঝখানে ওয়াল দিয়ে দুইভাগ করা হলো। এক পাশে থাকে এক ভাই, অন্যপাশে অন্যজন। আজ আবার যখন যুদ্ধ শুরু হলো তখন মনে হলো কেউ খুন-টুন হয়ে যাবে!!! ৬ ও ৭ নাম্বার রোডের পথচারী থেকে শুরু করে অত্র এলাকার বাসিন্দারা মহা উৎসাহে দুই বৃদ্ধের যুদ্ধ দেখার জন্য ছুটে এলো। আমিও খুড়িয়ে খুড়িয়ে বারান্দা অবদি গেলাম। কিন্তু সেই কাঙ্খিত মল্লযুদ্ধ আর দেখা হলোনা। এরা নোয়াখালি ভাষায় কেবল চিৎকার আর ছ্যাছাম্যাছি করেই গেল! এই বয়সেও ওদের বেঁচে থাকার কতো শখ?!
আজকাল কেন জানি আমার বাঁচতে ইচ্ছা করেনা। অসুস্থ্যতার একটা সীমা থাকা দরকার। অদ্ভুত এক রোগ বাঁধিয়ে বসলাম। না পারি সইতে, না পারি ছাড়তে। অথচ কতো যে কাজ বাকি এখনো!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


