ঢাকার ওজন এই মুহুর্তে অনেক কমে গেছে। মনে হচ্ছে যেন, অঞ্চলটা এতদিন অনেক নিচু হয়ে ছিল- প্রায় 40 লাখ মানুষ চলে যাওয়ায় এতদিন পর উচু হতে পারলো। খুশি হবার কথা, হতে পারছি না। পারছি না। মানুষ দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছিতো। মানুষ না দেখলে ভালো লাগে না। রাস্তা ঘাটের হা হা শূণ্যতা দেখে বুকটা কেমন যেন করে। তবু ভালো থাকা উচিৎ। শব্দ দুষন নেই, বায়ু দুষন নেই, মানুষে-মানুষে দুষন নেই। ভালো থাকা উচিৎ, তবু ভালো নেই। একদম ভালো নেই।
কলেজ নেই- বেকার আমি হঠাৎ আরো বেকার হয়ে গেলাম। সারাটা দিন সূর্য্য কুয়াশার ওপারে লুকিয়ে থাকে, বাইরের পরিবেশ ধোয়াশায় ঘেরা, মানুষ জন নেই, হাইড্রোলিক হর্ণ আগের মত বাজে না, ভলভোর জন্য লম্বা লাইন পড়ে না, 9 নম্বরের হেল্পার বেসুরে চিল্লায় না, পুরো ঢাকা ঘুমিয়ে গেছে, মনে হচ্ছে কোনো এক খেপা রাজকুমার এসে পুরো ঢাকাকে ঘুম পাড়িয়ে গেল। নিজেকে একা মনে হয়। খুব একা মনে হয়। বড় একা, সাংঘাতিক একা।
সন্ধ্যা কাটলো পল্লবীতে- নির্ঝরের বাসায়। রাশেদরা রূপনগর থেকে এসে অল্প সময়ে গল্প জমালো। ওদের গল্পের টপিকস আমাকে উষ্ণ আবেশে হাসায়। শুনবি, শোনাতে পারি। তবে- মুখ বাঁকানো চলবে না- একদম না। সামনে থাকলে বলতাম- শালা মুখ বাঁকাবিতো- পাছায় লাত্থি দিয়ে 4তলা থেকে 5তলায় নিয়ে ফালামু। লাত্থি দেয়ার লাইসেন্স রি-নিউ করা আছে, দেখবি?!!! নির্ঝরের ডাক্তারি বইতে 'রেপ' শব্দটার অনেক ব্যাখ্যা দেয়া আছে। তবে ইংরেজীতে। রাশেদ বাঁদর- এ লেবেল পড়ুয়া উজ্জ্বলকে প্রশ্ন করলো- ধর্ষণ কাহাকে বলে? বেচারা স্বভাবতই থতমত, তবে বেশি স্মার্ট সাজতে গিয়ে ওলট-পালট করে দিল সব। রাশেদ ওকে প্রফেসরদের মত বোঝালো- "শোন বেক্কল... কর্তার ইচ্ছায় এবং কর্তীর অনিচ্ছায়- তাহাদের ইজ্জতে ইজ্জতে যে... (আমাকে কানে কানে বললো- দোস্ত এবার কি কমু?! হা হা হা... আমি বললাম, সংঘর্ষ) ও হঁ্যা, সংর্ঘষ হবার মাধ্যমে যে অবৈধ কর্ম সাধিত হয় তাহাকে র্ধষণ বলে!!!" আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম আমার মত সবাই খাটের নিচে ফ্ল্যট...।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

