somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সকল গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত

০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৫:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পলাতকদের ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে সরকার



মিলটন আনোয়ার: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পদক্ষেপ হিসেবে আগামীকাল গঠন করা হবে তদন্তকারী সংস্থা। আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই দফা বৈঠক শেষে গত রোববার আইন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন ৮ এপ্রিল তদন্তকারী সংস্থা গঠন করা হবে।

এদিকে গতকাল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদেশে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তদন্তকারী সংস্থা গঠিত হবে সিআইডি, ডিজিএফআই, এনএসআই, এসবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে বাছাই করা ব্যক্তিদের নিয়ে। এদের তদন্তের পরেই মামলা দায়ের করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিচারের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) এ্যাক্ট অনুযায়ি প্রথমে এক থেকে তিনটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে এবং এসব ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েকমাস সময় লাগবে বলেও জানা গেছে।

তদন্তকারী সংস্থার কাছে যুদ্ধাপরাধীদের একটি তালিকা দেবে সরকার। ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম এবং ওয়্যার ক্রাইম ফ্যাক্টস এন্ড ফাইন্ডিং কমিটি সরকারের কাছে যুদ্ধাপরাধীদের ভিন্ন ভিন্ন তালিকা পেশ করেছে। এ দু’টি তালিকার ভিত্তিতেই সরকার যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা তৈরি করছে।

ইতোমধ্যে ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করে ১৭ হাজার ৭৫ জনের একটি তালিকা সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। কমিটি এদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে দালাল আইনে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদেরও তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওই সময় দালাল আইনে গ্রেফতারকৃত ১১ হাজার ৪৭৭ জনের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এদের মধ্যে অনেকেরই শাস্তি হয়ে গিয়েছিল। আবার অনেকের বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে ছিল। জিয়াউর রহমানের সরকার দালাল আইন বাতিল করে দিয়ে এদের মুক্ত করে দিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার একাত্তরের দালালদের বিচারের লক্ষ্যে ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল। এর মধ্যে ঢাকায় গঠন করা হয় ১১টি ট্রাইব্যুনাল। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ অনুযায়ী এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধু সরকারের এই আইনের সুযোগে একাত্তরের নিহতদের পরিবার পরিজনরা ৪২টি মামলা দায়ের করেন। ১৯৭৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এই মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় কয়েক হাজারে।

বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে দালাল আইনে গ্রেফতারের সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৪৭৭ জন। এরমধ্যে ২৬ হাজার ব্যক্তিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাকি ১১ হাজার ৪৭৭ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তারা সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়েনি। ’৭৫ সালের আগ পর্যন্ত এদেরই বিচার চলছিল।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে এখন ট্রাইব্যুনাল গঠন সম্পর্কে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ জানিয়েছেন, প্রথমে তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত করবে। তদন্তের পর মামলা দায়ের করা হবে। তিন থেকে পাঁচ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। এই ট্রাইব্যুনালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের চেয়ারম্যান করা হতে পারে। আইনে বলা হয়েছে, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি অথবা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি এই ট্রাইব্যুনালে চেয়ারম্যান হবেন। এছাড়া জেনারেল কোর্ট মার্শালের অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানরা এই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হতে পারবেন। সম্পাদনা: জুলফিকার রাসেল
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা সকলের দায়িত্ব।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই মে, ২০২৪ রাত ৮:৩৮



এগুলো আমার একান্ত মতামত। এই ব্লগ কাউকে ছোট করার জন্য লেখি নাই। শুধু আমার মনে জমে থাকা দুঃখ প্রকাশ করলাম। এতে আপনারা কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দায়ী না। এখনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলীগ এর ভয়ে ফরজ নামাজ পড়ে দৌড় দিয়েছেন কখনো?

লিখেছেন লেখার খাতা, ০৫ ই মে, ২০২৪ রাত ৯:২৬


আমাদের দেশের অনেক মসজিদে তাবলীগ এর ভাইরা দ্বীন ইসলামের দাওয়াত দিয়ে থাকেন। তাবলীগ এর সাদামাটাভাবে জীবনযাপন খারাপ কিছু মনে হয়না। জামাত শেষ হলে তাদের একজন দাঁড়িয়ে বলেন - °নামাজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেতনার সময় জামায়াত বদ্ধ ইসলামী আন্দোলন ফরজ নয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই মে, ২০২৪ রাত ১১:৫৮



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৩। তোমরা একত্রে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর! আর বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর।যখন তোমরা শত্রু ছিলে তখন তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীল আকাশের প্রান্ত ছুঁয়ে-৭ (আকাশ ভালোবেসে)=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৬ ই মে, ২০২৪ দুপুর ২:১৯

০১।



=আকাশের মন খারাপ আজ, অথচ ফুলেরা হাসে=
আকাশের মন খারাপ, মেঘ কাজল চোখ তার,
কেঁদে দিলেই লেপ্টে যাবে চোখের কাজল,
আকাশের বুকে বিষাদের ছাউনি,
ধ্বস নামলেই ডুবে যাবে মাটি!
================================================
অনেক দিন পর আকাশের ছবি নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানি জলে ধর্ম দ্বন্দ

লিখেছেন প্রামানিক, ০৬ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৪:৫২


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

জল পানিতে দ্বন্দ লেগে
ভাগ হলোরে বঙ্গ দেশ
এপার ওপার দুই পারেতে
বাঙালিদের জীবন শেষ।

পানি বললে জাত থাকে না
ঈমান থাকে না জলে
এইটা নিয়েই দুই বাংলাতে
রেষারেষি চলে।

জল বললে কয় নাউযুবিল্লাহ
পানি বললে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×