
আজ সকালে অকস্মাৎ বেরিয়ে পড়লাম পুবের দিকে প্রাতঃসূর্যের কাছে । অপরিকল্পিত প্রাতঃভ্রমণ - গাড়ির পায়ে হেঁটে ।
মেয়েকে স্কুলে দিয়ে , কিছু মাংস কিনব ভেবে বাজারের দিকে এগুতেই ড্রাইভার বলল , আপা গাড়ির তেল কিনতে হবে । আপনাকে নামায়ে দিয়ে যাব । বললাম কোন দিকে যাবি ? বলল স্টাফ কোয়ার্টারের দিকে । বললাম , আমারে নিয়া চল । বলল , আপনে কেন কষ্ট করবেন । আপনাকে বাসায় নামায়ে দিয়ে যাব ।
বললাম , আমি যাব । উদ্দেশ্য কিন্তু ওইদিককার কিছু পানি । মন ঠান্ডা হবে । সকাল সকাল একটু কোলাহল কম । গাড়ি যাচ্ছে , আমি যাচ্ছি । কোন সুন্দর পথে চলতে গেলে , মনে হয় এ পথ যেন অনেক দীর্ঘ হয় - ওই গানের পথের মত । আজও তাই মনে হল ।কিন্তু এ পথ বেশি দীর্ঘ হল না !
তেল কিনা হল । আসার পথে দেখা যাচ্ছে -- পানিতে চমৎকার শাপলা ফুটে আছে । মনে মনে তাই খুঁজছিলাম । কিচিরমিচির পাখিরও ডাক শুঞ্ছিলাম । ইচ্ছে হল নেমে পড়ি । কিন্তু চাইলেই তো সব হয় না । ঘাটে একটা ছোট নৌকাও বাঁধা ছিল আর আমিও ছিলাম । কিন্তু নৌকা তার মতই থাকলো , আমি আমার মতই । তবে শাপলা কিছু ঠিকই নিয়ে এলাম । আমি এমন করেই পথে প্রান্তরে সুখ কুড়িয়ে বেড়াই । মাঝে মাঝে পেয়েও যাই । আমি অল্পতে সুখি হওয়া মানুষ । এতেই আমার চলে যায় , বেশ !
নৌকায় যে ছেলেটা ছিল ও একটু দূর থেকে ক'টা শাপলা এনে দিল । ড্রাইভারই ছেলেটাকে বলেছিল । ড্রাইভার বলল , আপা ছেলেটাকে ২০টা টাকা দিয়ে দেন ।
ছেলেটা কাছে এল -- তাকে ২০ টাকা দিতে মন সায় দিচ্ছিল না । প্রথম ৫০ টাকা দিলাম । পরে মনে হল যে , ওকে ১০০ টাকা দেয়া উচিৎ । ছেলেটা একটা ভুবন জয়ী হাসি দিয়ে চলে গেলো ! হয়ত সে ভেবেছে সে জিতে গেছে । আমার মনে হল - এ এক অরূপ রতন ! আমিই জিতেছি ! এ সব জিনিস আসলে অমূল্য । কোন মূল্য দিয়ে তার সমান করা যায় না !
আমার এক পরিতৃপ্ত সকাল কেটে গেল ! তার রেশ রয়ে যাবে হয়ত অনেক দিন ।
একটা জিনিস ঃ আমি জানতাম যে শাপলার কোন সুগন্ধ নেই । কিন্তু ঐ যে নীল শাপলা ওটাতে চমৎকার একটা ঘ্রাণ পেলাম । এটা কিন্তু বাড়তি প্রাপ্তি ছিল ।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৮ বিকাল ৩:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




