somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শের শায়রী
অমরত্বের লোভ কখনো আমাকে পায়না। মানব জীবনের নশ্বরতা নিয়েই আমার সুখ। লিখি নিজের জানার আনন্দে, তাতে কেউ যদি পড়ে সেটা অনেক বড় পাওয়া। কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আর কিছুই নেই।

নারীরা কি নবী হতে পারেন?

২৪ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজেকে ধার্মিক দাবী করার মত যোগ্যতা আমার নেই, তবে এব্যাপারে আমার কোন দ্বিধা নেই আমি একজন বিশ্বাসী। বিশ্বাসী বলতে আমার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতালায় বিশ্বাসী। সারা জীবন অনেক বইই পড়ছি, কিন্তু ইদানিং এসে খেয়াল হল ধর্ম বিষয়ে বিশেষ করে নিজের ধর্ম নিয়ে আমার জ্ঞান প্রায় শুন্যের কোঠায়। তাই কিছু বই পত্র কিনে এনেছি, পড়ার জন্য। এই পোষ্ট কোন আস্তিক নাস্তিক তর্ক না, এটা সুস্পষ্ট একটা প্রশ্ন রাখছি, যদি কারো কোন যুক্তি থাকে দয়া করে সে মন্তব্য করুন। কেউ যদি ব্যাক্তিগতভাবে অবিশ্বাসী, নাস্তিক বা সংশয়বাদী হয় তাকে নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই, তেমনি আমিও আশা রাখব আমার বিশ্বাসী হওয়া নিয়ে কারো কোন সমস্যা যেন না হয়, পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধটাই মুল। ধর্মীয় অনুভুতি যার যার ব্যাক্তিগত।

যাই হোক আসি মুল ব্যাপারে। ইসলামে নারীদের অনেক সন্মান দিয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমি সামান্য যেটুকু পড়াশুনা করছি তাতে দেখলাম, কিন্তু এক জায়গায় এসে বার বার আটকে যাচ্ছি, সেটা হল সুস্পষ্টভাবে কোন নারীকে ইসলামে নবী হিসাবে ঘোষনা দেয়া হয় নি, অথবা হলেও আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে তা জানি না, এনিয়ে সামান্য পড়াশুনা শুরু করলাম, এক্ষেত্রে যাকে নিয়ে সব থেকে বেশী বিতর্ক তিনি হলেন মরিয়াম (অঃ) কে নিয়ে যিনি কিনা ঈশা (অঃ) এর মা। মরিয়াম (অঃ) কি নবী ছিলেন?

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, আবুল হাসান আশআরী, কুরতুবী, আল্লামা ইবনে হাযমের মতামত হচ্ছে নারীরা নবী হতে পারে, এক ধাপ এগিয়ে ইবনে হাযম তো এই দাবী করে বসেন যে হযরত হাওয়া, সারা, হাজেরা উম্মে মুসা (আঃ), আসিয়া এবং মরিয়াম এরা নবী ছিলেন।

অপরপক্ষে হাসান বসরী, ইমামুল হারমাইন শায়েখ আবদুল আযীয এবং কাযী আইয়াসের মতামত হচ্ছে নারীরা নবী হতে পারে না, অতএব মরিয়াম (আঃ) নবী না। যে সব আলেমের মতে নারীরা নবী হতে পারে না তারা নিজেদের মতামতের সমর্থনে পবিত্র কোরান শরীফের নিম্ন লিখিত আয়াত উপস্থাপন করেনঃ “আপনার পূর্বে আমি যতজনকে রসূল করে পাঠিয়েছি, তারা সবাই পুরুষই ছিল জনপদবাসীদের মধ্য থেকে। আমি তাঁদের কাছে ওহী প্রেরণ করতাম।” (সুরা ইউসুফ, আয়াত ১০৯)

তারা বিশেষভাবে হযরত মরিয়ম (আঃ) যে নবী ছিলেন না, এ সম্পর্কে নিম্নোক্ত প্রমান উল্লেখ্য করেন, “মরিয়ম-তনয় মসীহ রসূল ছাড়া আর কিছু নন। তাঁর পূর্বে অনেক রসূল অতিক্রান্ত হয়েছেন আর তার জননী একজন ওলী (সত্যবাদী মহিলা)” (সুরা মায়িদা, আয়াত ৭৫)

সুরা নিসায় কুরান মজিদ অনুগ্রহ প্রাপ্ত ব্যাক্তিদের যে তালিকা দিয়েছেন তা এ ব্যাপারে চুড়ান্ত প্রমান। অর্থ্যাৎ সত্যবাদীদের মর্তবা নবুয়তের মর্তবার তুলনায় কম, “আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের সান্নিধ্যই হল উত্তম। (সুরা নিসা, আয়াত ৬৯)

আবার যে সব বিশেষজ্ঞ আলেম মহিলাদের নবী হওয়ার প্রবক্তা তারা বলেন, কুরান মযীদ হযরত সারা, উম্মে মুসা, এবং মরিয়ম (আঃ) সম্পর্কে যে সব যে সব ঘটনার বর্ননা করেছে তাতে সুস্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে আল্লাহর মালায়েকাগন ওহী সহ নাযিল হয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের সুস্পষ্ট সু খবর প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাদের কাছে নিজের পরিচয় এবং ইবাদতের হুকুম পৌছে দিয়েছেন। অতেব হযরত সারার ক্ষেত্রে সুরা হুদ এবং সুরা যারিয়াত, উম্মে মুসার ক্ষেত্রে সুরা সুরা কাসাস এবং মারিয়ামের ক্ষেত্রে সুরা আল ইমরান ও সুরা মরিয়ামে কখনো কখনো মালায়েকাদের মাধ্যমে কখনো কখনো সরাসরি আল্লাহ তাদের সম্বোধন করেছেন, আর এসব স্থানে ওহী শব্দটি যে আভিধানিক অর্থে ব্যাবহৃত হয়নি তা পরিস্কার। যেমনঃ মৌমাছির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে “তোমাদের রব মৌমাছিদের ইংগিত করছেন” (সুরা নাহল, আয়াত ৬৮) এখানে ওহী শব্দটি আভিধানিক অর্থে ব্যাবহৃত হয়েছে।

বিশেষ করে সুরা মারিয়ামে হযরত মারিয়াম (আঃ) সম্পর্কে যেভাবে বর্ননা দেয়া হয়েছে তাতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে তিনি নবী ছিলেন, কেননা নবী রাসুল দের সম্পর্কে কোরান মজীদে যেভাবে আলোচনা হয়েছে এখানে একইভাবে হযরত মারিয়াম কে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেমনঃ

এই কিতাবে ইদ্রীসের কথা আলোচনা করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী। (সুরা মরিয়াম, আয়াত, ৫৬)

এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রসূল, নবী। ((সুরা মরিয়াম, আয়াত, ৫৪)

এই কিতাবে মূসার কথা বর্ণনা করুন, তিনি ছিলেন মনোনীত এবং তিনি ছিলেন রাসূল, নবী। (সুরা মরিয়াম, আয়াত, ৫১)

আপনি এই কিতাবে ইব্রাহীমের কথা বর্ণনা করুন। নিশ্চয় তিনি ছিলেন সত্যবাদী, নবী। (সুরা মরিয়াম, আয়াত, ৪১)

এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন, যখন সে তার পরিবারের লোকজন থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল।(সুরা মরিয়াম, আয়াত, ১৬)

অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহ প্রেরণ করলাম, সে তার নিকট পুর্ণ মানবাকৃতিতে আত্নপ্রকাশ করল। (সুরা মরিয়াম, আয়াত, ১৭)

সে বললঃ আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত, (সুরা মরিয়াম, আয়াত, ১৯)

মরিয়াম (আঃ) কে কোরান মযিদে যারা “সত্যবাদী” হিসাবে বর্ননা করায় নবী হিসাবে অন্তরায় হিসাবে দেখেন তাদের উত্তর দিতে গিয়ে যারা তার নবী হবার স্বপক্ষে তারা বলেন, যদিও কুরান মযীদে মরিয়ামকে সিদ্দীকা হিসাবে বর্ননা করা হয়েছে তবে তা নবী হওয়ার পক্ষে কোন অন্তরায় না, যেমন হযরত ইউসুফ (আঃ) সর্ব সমর্থিতভাবে একজন নবী তা সত্ত্বেও তাকে বলা হয়েছে তাকেও সত্যবাদী হিসাবে কোরানে বর্ননা করা হয়েছে। যদি “সত্যবাদী” সম্বোধন ইউসুফ (আঃ) এর নবী হবার পক্ষে অন্তরায় না হয় তবে মরিয়াম (আঃ) এর পক্ষেও তা অন্তরায় না। আর যিনি নবী তিনি নিশ্চয়ই সিদ্দীক বা সিদ্দীকা, এর বিপরীত হবার কোন কারন নেই।

মুসলিম উম্মাহর যে সব বিশেষজ্ঞ আলিম নারীদের নবী হবার পক্ষে মত দিয়েছেন তার মাঝে বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনে হাসম (রহঃ) তার “কিতাবুল ফাসল” এ সম্পর্কে সুবিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এখন আমি কিতাবুল ফাসল এর বাংলায় অনুবাদ বা এটা কি বাংলা কিনা জানতে চাচ্ছি, এবং পেলেই কিনে পড়ব।

ধর্ম আমার কাছে বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসের মাঝেও আলোচনা হতে পারে, যদি সে ধর্ম নিয়ে সম্যক জ্ঞান রাখে, আমি নিজে প্রায় কিছুই জানি না তাই এ নিয়ে আলোচনার সাহস ও রাখি না। তবে পড়া শুরু করছি। কারো ব্যাক্তিগত বিশ্বাসে আঘাত দেয়া আমার কাছে চুড়ান্ত অনুচিত। আমার কাছে ধর্ম একটা সুশৃঙ্খল জীবনের চাবি কাঠি। কোন ধর্মই কাউকে খারাপ হতে শেখায় না, যারা এটা ব্যাবসা করতে চায় তারাই ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের মন বিষিয়ে দেয়। তাদের থেকে শত হাত দূরে থাকা উত্তম বলেই বিবেচনা করি।

যাই হোক যে আলোচনার জন্য এই পোষ্ট দিয়েছি, কারো কোন যুক্তি বা বিশ্লেষান থাকলে দিলে বাধিত থাকব। ফাতাহুল বারীর, ষষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৮ তে এ নিয়ে কিছু আলোচনা আছে তবে পোষ্ট বড় হয়ে যাবে বিধায় টানলাম না। দয়া করে কেউ কিছু জানলে জানাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:১৪
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

করোনা

লিখেছেন ম্যাড ফর সামু, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:২২




বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার ভর্তি হলেন কোন একজন মন্ত্রী মহোদয়, যিনি সিঙ্গাপুর থেকে আক্রান্ত হয়ে দেশে এসে ভর্তি হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ।

তাঁকে আপাতত কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় এসেছে ঘরে ঘরে মুসলিম,হিন্দু ঐক্যবদ্ধ সংঘঠন গড়ে তুলতে হবে

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২০

ভ্স্মীভূত কোরআন এভাবেই মাটিতে পুঁতে রাখছেন স্থানীয়রা। ছবি: এএফপি[/sb
আজকাল কথায় কথায় ব্লগ সহ প্রায় সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নানান ধরনের কমেন্টে দেখা যায়,এক পক্ষ আছেন
যারা বিভিন্ন সংঘাত বা ঝামেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্লিজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৫


কিছু কথা আছে,
ফোনটা রেখোনা …………প্লিজ।

একা বসে আছি তোমারই অপেক্ষায়,
আর নিজেকে সামলাতে পারছিনা কিছুতেই
জানো কিনা জানিনা.
বোঝ কিনা বুঝিনা।
আমি সত্যি আর পারছিনা প্রিয়তমা।
আমার ঘেটে যাওয়া জীবনটাতে তোমাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনআরসি প্রতিবাদে মুসলমানদের রাস্তায় নামা কি ঠিক?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:০৮



প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেইদিন দিল্লী এলো, সেইদিনটি কি রাস্তায় এনআরসি প্রতিবাদের জন্য "উপযুক্ত দিন" ছিলো? ট্রাম্পের ভিজিট মাত্র ১ দিন, এই দিন সম্পর্কে মোদীর সরকার ও বিজেপি খুবই সেন্সসেটিভ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতের মুসলিমদের উপর অত্যাচার এবং বাংলাদেশে মুজিব বর্ষে মোদির প্রাসঙ্গিকতা।

লিখেছেন রাজজাকুর, ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:১৫

ভারতের Citizenship Amendment Act (CAA) এর উদ্দেশ্য আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে আগত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিষ্টান এই ছয় ধর্মাবলম্বী অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরকিত্ব দেয়া। কিন্তু প্রশ্ন হলো-... ...বাকিটুকু পড়ুন

×