somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ট্রাভেলগ চীন-৪ দাইচি লেক দেখে কুনমিং শহরে

১২ ই নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ৮:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পরদিন সকাল বেলা কুনমিং শহরে মার্কেট দেখতে গেলাম। আমাদের হোটেল থেকে এক ঘণ্টার পথ। বিশাল মার্কেট , ম্যাপ দেখে এর নানা জায়গাতে যেতে হয়। সিঁড়ি , এক্সেলেটর লিফট সবই আছে। এটা বিশাল একটা পাইকারি বাজার। কি না পাওয়া যায় এখানে। জামা কাপড় , জুতা কেডস, ব্যাগ সব জিনিসপত্র সবই আছে এখানে। এক জায়গাতে কোন কিছু পছন্দ হলে তা না কিনে একটু ঘুরে দেখতে গেলেই পথ হারানোর সম্ভবনা শতভাগ। দুই একবার এভাবে ঘুরে পছন্দ হলে তখনই কিনে ফেললাম।
এর পাশেই ইলেক্ট্রনিক মার্কেট, সেখানে যাওয়ার সময় হয়নি। আজকে আমাদের গন্তব্য দাইচি লেক। বাজার শেষ করে রওয়ানা হলাম। এটা শহরের আরেকদিকে। আবহাওয়া বেশ ভাল, আলোকিত দিন, না শীত না গরম হালাকা বাতাস আছে। দাইচি লেকের পাশে রাস্তা। পাশে সুন্দর ফুটপাত এরপাশে বাগান ও ছোট ঝোপ। সিঁড়ি দিয়ে লেকের পাড়ে উঠতে হয়। পার বাঁধানো, অনেক প্রসস্থ ওয়াকওয়ে। মাঝে মাঝে শেড দেয়া বসার জায়গা, খোলা জায়গাতে বেঞ্চ পাতা। সব মিলিয়ে পরিস্কার পরিছন্ন এলাকা। লেকের মাঝামাঝি জায়গাতে একটা জেটি আছে। এখান থেকে লেক ক্রুইজে যাওয়া যায়। বেশ কিছু বোট আছে লেকে ভ্রমনের জন্য।


দাইচি লেক- কুনমিং
লেকের অন্য পড়ে পাহাড়, সেদিকে হালকা কুয়াশার মত দেখা যায়। বেশ বড় পাহাড়ের সারি। লেক এলাকাতে হালকা খাবারের দোকান আছে, সেখান থেকে জুস ও আইসক্রিম কিনলাম। লেকের পাড়ে ওয়াক ওয়েতে বেশ সুন্দর একটা ভাস্কর্য আছে, সেখানে ছবি তুললাম। এখানে আজকে কোন বিদেশিকে দেখলাম না। সব চীন দেশের মানুষ, তারা তাদের নিজেদের দেশ, শহর দেখতে বের হয়েছে। কিছুক্ষণ লেকের পাড়ে থেকে আমরা ফেরার জন্য তৈরি হলাম। আমাদের ড্রাইভার সিটি সেন্টারে যাব কিনা জানতে চাইল। এখানে প্রতিটা স্পটে যেতে আলাদা আলাদা চার্জ লাগে, আমরা রাজি হয়ে গেলাম সাথে টাকার মিটারও ঘুরল।
বিকেল বেলা আমরা ডাউন টাউনে এসে পৌঁছালাম। গাড়ি পার্ক করে আমরা চারপাশ দেখতে বের হলাম। সিটি সেন্টার সুন্দর করে সাজান। শহরের মাঝে মোজাইক করা বেশ বড় একটা এলাকা নিয়ে এই সিটি সেন্টার। এখানে দুপাশে দুটো সুন্দর চীনা কারুকাজ দিয়ে সাজান গেইট আছে। এর সামনে দিয়ে রাস্তা , মাঝামাঝি একটা টি জাংসান, সেখানে বিলবোর্ড ও লতা দিয়ে সাজান। এই খোলা এলাকায় রোবটের মত অস্ত্র হাতে নিয়ে পুলিস ডিউটি করছে। দুইজন পুলিস মূর্তির মত নাড়াচাড়া না করে দাঁড়িয়ে থাকে।


ডাউন টাউন –কুনমিং
এখানে হস্তশিল্পের বেশ বড় বাজার। এই বাজারে স্থানীয় এবং এই প্রদেশের নানা জায়গা থেকে হাতে বানানো জিনিষপত্রের দোকান আছে। অনেক পাথরের জিনিষ এখানে পাওয়া যায়। দোকানিরা বেশিরভাগ মহিলা। চীনের নানা জাতীয় চা, হারবাল ঔষধ ইত্যাদির ও দোকান আছে। বেশ সুন্দর সুন্দর জিনিষ তবে এখান থেকে এখন কিছু কেনা যাবে না। আমদেরকে আরও কিছু দিন যেহেতু চীন দেশে থাকতে হবে তাই বোঝা বাড়াতে চাইনা। আমরা এক ঘণ্টা ঘোরাঘুরি করে হোটেলে ফিরে এলাম।


পরদিন আমাদেরকে ট্রেনে করে বেইজিঙের পথে রওয়ানা হতে হবে। সন্ধ্যা বেলায় কাছের বড় একটা স্টোরে গিয়ে পথে খাবার জন্য ফল ,জুস , বিস্কিট, ব্রেড ইত্যাদি কিনলাম। রাতে সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে ঘুমাতে গেলাম।


কুনমিং রেলওয়ে স্টেশান
বেশ সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। নাস্তা সেরে সাড়ে সাতটার দিকে কুনমিং স্টেশনের পথে রওয়ানা হলাম। স্টেশনে পৌঁছাতে এক ঘণ্টা লাগল ।বেশ সুন্দর সাজানো স্টেশান, ভেতরে ঢুকতেই টিকেট চেকের ব্যবস্থা। অনেকগুলো কাউন্টারে চেকার বসে আছে। টিকেট দেখিয়ে নিদিষ্ট পথ দিয়ে ভেতরে যেতে হয়। টিকেট না থাকলে প্লাটফর্ম টিকেট কিনতে হয়। ভেতরে ঢুকে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে আমাদের ট্রেনের প্লাটফর্ম নাম্বার দেখলাম। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হল। এখানে স্ক্যানার মেসিনে ব্যাগ চেক করে, পাসপোর্ট ও টিকেট দেখে প্লাটফর্মে ঢুকার অনুমতি দেয়। আমাদের টি ২৪০ ট্রেনের যাত্রীদের জন্য ২৯-৩০ নাম্বার বে তে বসার ব্যবস্থা আছে। সব সুন্দর করে সাজান।প্লাটফর্মের এই জায়গাতে বসার ব্যবস্থার পাশাপাশি কেনাকাটার জন্য দোকান আছে। সেখান থেকে পানি আর বিস্কিট কিনলাম পথে খাবার জন্য। দাম একটু বেশি হলেও পরিবেশ বেশ সুন্দর। প্রায় এক ঘণ্টার উপর আমরা প্লাটফর্মে অপেক্ষা করলাম, বসার ব্যবস্থা ভাল কাজেই কোন সমস্যা হয়নি। সময় মত ট্রেনে উঠার ঘোষণা দিল।


৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কত রাত না খেয়ে ছিলাম (দ্বিতীয়াংশ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০১ লা জুলাই, ২০২২ সকাল ৭:১১


প্রথম পর্বের লিঙ্ক: Click This Link
কিন্তু খেতে তো হবে। না খেয়ে কেউ বাঁচতে পারে? তাই হোটেলওয়ালাকে বললাম, একবেলার খাবার টা একটু কষ্ট করে বাসায় দিয়ে আসা যায় কি না।
ওনার ওখানে কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জামাই ভাগ্য....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা জুলাই, ২০২২ সকাল ১০:১০

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জামাই ভাগ্য....

জামাতাদের নিয়ে বিড়ম্বনা, দুর্ভোগ রবীন্দ্রনাথকে শ্বশুর হিসেবে অনেক বিব্রত হতে হয়েছে। সেইসব অভিজ্ঞতা বড়ই মর্মান্তিক, যন্ত্রণায় পরিপূর্ণ। অতি সংক্ষেপে তার সামান্য বিবরণী তুলে ধরছিঃ-

(১) রবি ঠাকুরের বড়ো... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদীসের গল্প : ০০৮ : নবীজির পানি পান করারনো ঘটনা

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০১ লা জুলাই, ২০২২ সকাল ১১:৩২



মুসাদ্দাদ (রহঃ) .... ইমরান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। আমরা রাতে চলতে চলতে শেষরাতে এক স্থনে ঘুমিয়ে পড়লাম। মুসাফিরের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম কথন.....

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ০১ লা জুলাই, ২০২২ বিকাল ৪:০২




আম্রপালি আম দিয়েই মনে হয় ম্যাঙ্গো ফ্লেভার আইসক্রিম বানায়। যতবার ফ্রিজ থেকে বের করে আম্রপালি খাচ্ছি ততোবার মনে হচ্ছে।
তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় আম হচ্ছে ল্যাংড়া, গোপালভোগ আর ক্ষীরসাপাতি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনাগাজী নিকে ইচ্ছানুসারে, স্বাধীনভাবে কমেন্ট করতে পারিনি।

লিখেছেন সোনাগাজী, ০১ লা জুলাই, ২০২২ বিকাল ৫:১৯



সোনাগাজী নিকে ৫ মাস ব্লগিং করলাম; ব্লগের বর্তমান পরিস্হিতিতেও বেশ পাঠক পেয়েছি; আমার পোষ্টে মন্তব্য পাবার পরিমাণ থেকে অন্য ব্লগারদের লেখায় মন্তব্য কম করা হয়েছে; কারণ, মন্তব্য করার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×