somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্যালিফোর্নিয়া ক্লিন এয়ার ডে

০২ রা অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হলিউড ওয়াক অব ফেইম
পহেলা অক্টোবর আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে ক্যালিফোর্নিয়া ক্লিন এয়ার ডে পালন করে। সারা দিন আজ লস এঞ্জেলেসের সব মেট্রো লিংকে ফ্রি রাইড দিয়েছে। বাসে বা মেট্রোতে কোন টিকেট লাগেনি। টেপ কার্ড পাঞ্চ করার জায়গাতে ক্যালিফোর্নিয়া ক্লিন এয়ার ডে লিখা স্টিকার লাগিয়ে রাখা ছিল। সকাল বেলা খবরটা পাইনি, দুপুরের পর পেলাম। ঠিক তখনি বের হয়ে গেলাম একটু ঘোরাফেরা করার জন্য। বেশ কিছুদিন ধরে লস এঞ্জেলস শহরে আছি একটু কাজে। এখানে মেট্রোতে ১.৭৫ ডলার কাটে একবার ভ্রমণ করলে। এক কি দু ঘণ্টা এই একটা পাঞ্চে চলে এর বেশী সময় লাগলে আবার নতুন করে কার্ডে টাকা কাটে। এর মাঝে বাস বা ট্রেন বদল করলে ট্রান্সফার দেখায় টাকা কাটে না।
সকালের দিকে জন গিম লেটের লিখা ট্রাভেলস থ্রু পারাগুয়ে বইটা পড়ছিলাম। বেশ মজা পাচ্ছিলাম পড়তে গিয়ে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো সম্পর্কে আমাদের দেশে খুব কম বই আছে এবং বাংলাদেশী পর্যটক দেশগুলো নিয়ে তেমন একটা বই লিখে নি। অন্য দিকে ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক পর্যটক সেসব দেশ ভ্রমণ সম্পর্কে অনেক বই লিখেছে। আমার ব্যক্তিগত সখ থেকে দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণের কিছু বই সংগ্রহ করে পড়া শুরু করেছি। ব্রিটিশ এই লেখক অনেক বছর ধরে পারাগুয়ে তে যাতায়াত করেছে ও বেশ অনেক দিন সেখানে বসবাস ও করেছেন। তাকে পারাগুয়ে প্রেমিক ও বলা যেতে পারে। দেশটিতে স্প্যানিশ ভাষার পাশাপাশি গুয়ারনি নামের স্থানীয় ভাষা বেশ জনপ্রিয়। দেশের প্রায় সবাই এই ভাষায় কথা বলতে সাচ্ছন্দ বোধ করে।
আজকের ভ্রমণের খবর পেয়ে বই রেখে রওয়ানা হলাম। প্রথমে বাসে করে উইলসায়ার আসলাম, এর কাছেই ইসলামিক সেন্টার। বাংলাদেশীরা এই এলাকার আশেপাশে বসবাস করে। আজকে আমাদের গন্তব্য আলাউদ্দিনের দোকান। এখানে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে আসা অনেক জিনিস পাওয়া যায়। বাংলা খাবারের জন্য এক অনেক নাম আছে। এখানে হালাল চিকেন, বিফ ও মাছ পাওয়া যায়। দাম একটু বেশী তবে হালাল বলে কথা। অনেক মিষ্টি দেখলাম, পাউন্ড বার তেরো ডলার, বেশী ও আছে। অনেক দিন পর লস এঞ্জেলসে আসার পর করলা দেখলাম এখানে। অন্যান্য মলেও এখানে বেশী সব্জি দেখা যায় না, বিশেষ করে আমাদের পরিচিত সব্জি। বাংলাদেশের পরিচিত সব্জিগুলো এখানে পাওয়া যায়। হেঁটে ওয়ালগ্রিন মলে গেলাম, এখানে চকলেট আছে মাঝে মাঝে সেল দেয় আজ তেমন কিছু ছিল না। আমেরিকাতে বাংলাদেশের মত গুড়ো দুধ পাওয়া যায় না। আছে কেবল টিনের নিডো। দাম বেশ চড়া তবে মাঝে মাঝে দাম কিছু কমে।
এখান থেকে হেঁটে উইলসায়ার মেট্রো স্টেশনে চলে আসলাম। আজ স্টেশনের কার্ড পাঞ্চ করার গেইট খোলা। তবে মানুষ তেমন নাই, গাড়ি নিয়মিত চলছে। অনেক নীচে প্লাটফর্ম, এক্সেলেটর দিয়ে নামছি তো নামছি। এখানে দুটো প্লাটফর্ম আছে। আমরা যেটাতে যাচ্ছি তার মাঝামাঝি আরেকটা আছে। সেখান থেকে অন্য লাইনের ট্রেন চলে। আজকে বি লাইন বা রেড লাইনের শেষ ষ্টেশনে যাওয়ার ইচ্ছে হল। এই লাইনে ইউনিয়ন ষ্টেশন থেকে নর্থ হলিউড পর্যন্ত ট্রেন চলে। এর আগে এই ষ্টেশনে কখন ও আসা হয়নি। এই পথেই হলিউডের তারকাদের ছবি দেয়া বিশাল ওয়াকওয়ে আছে। এটাকে হলিউড ওয়াক অব ফেইম বলে। এখানে আগে এসেছিলাম। শেষ ষ্টেশন নর্থ হলিউডে নেমে বাইরে আসলাম। বেশ খোলামেলা ও পরিছন্ন ষ্টেশন এলাকা। এখানে বাসের জন্য বিশাল এলাকা রয়েছে। এখান থেকে শহরের নানা জায়গায় বাস চলে। সূর্যের আলো আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে। আমরা এলাকা ঘুরে আবার ষ্টেশনে চলে আসলাম। পরের ট্রেন আসতে কিছু সময় লাগল। ততক্ষণ প্লাটফর্মেই কাটালাম।



আজকে ষ্টেশনে চেকিং না থাকলে ও হোমলেস বা একটু ভোলাভালা কিংবা গাঁজাখোর টাইপ মানুষ কমই উঠেছে ট্রেনে। সেপ্টেম্বর মাস ছিল নিরাপদ মেট্রো চলাচলের মাস। ষ্টেশনে অনেক সিকিউরিটির লোকজন থাকে এখন। গত বছর এই মেট্রোতে চড়া মোটেও নিরাপদ ছিল না। ষ্টেশনে ও ট্রেনের বগি গুলোতে হোম লেস ও গাঁজাখোর মানুষের আড্ডা ছিল। মেট্রোর অনেক লাইনে ছিনতাই খুব সাধারণ ঘটনা ছিল। এ ছাড়া দুর্গন্ধ ও ছিল তীব্র। এখন বেশ পরিচ্ছন্ন এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নিয়মিত প্লাটফর্ম ও বগিগুলো পরিস্কার করে। এর পাশাপাশি শেষ ষ্টেশনে ট্রেন আসার পর নিরাপত্তা কর্মী ও পুলিশ সবাইকে বগি থেকে বের করে দেয় ও বগি বন্ধ রাখে। পরে সময়মত নতুন করে যাত্রীদের জন্য খুলে দেয়। ফেরার পথে হঠাৎ করে একটা ষ্টেশনে ট্রেন থেমে গেল, কি যেন একটা ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা সেই বগির দিকে গেল। পুলিশ উঁকি দিয়ে বগির সবাইকে একবার দেখে নিল। কিছুক্ষণ পর সব ঠিক আছে বলে ট্রেন আবার রওয়ানা হল।
আমরা কয়েকটা ষ্টেশন পর নেমে গেলাম। আবার একটা বাস নিয়ে কিছু কেনাকাটা করতে গেলাম। এর মাঝে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। দ্রুত কাজ সেরে আবার বাসে করে বাসার কাছের স্টপেজে নেমে গেলাম।
বিকেল বেলা এমনিতেই একটু হাঁটি করি, আজকে হাঁটার পাশাপাশি বাস ও মেট্রোতে বেড়ানো হল। ভালই কেটে গেল বিকেলটা।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ১১:৪৭
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাকার কাকগুলো গেলো কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:১০


স্কটল্যান্ড থেকে ২০২৪ সালে ফিরে আসার পর থেকে আমি একটা অদ্ভুত পরিবর্তন টের পাচ্ছি। সকালের শব্দটা যেন অন্যরকম হয়ে গেছে। আমার বার্ডওয়াচার বন্ধুরা বছরের পর বছর ধরে সতর্ক করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুস্থধারায় ফিরছে রাজনীতি; আম্লিগের ফেরার পথ আরো ধূসর হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১০


গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একে অপরের মধ্যে কোথাও কোথাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে এই 'প্ল্যান'-গুলো আমাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর লিস্টে আছে কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



আসসালামু আলাইকুম।
দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিচের বিষয়গুলোর উপর নজর দেওয়া জরুরী মনে করছি।

প্ল্যান - ১
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যেকটিতে গবেষণার জন্যে ফান্ড দেওয়া দরকার। দেশ - বিদেশ থেকে ফান্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !



বাংলাদেশে নূতন ভাবে এই প্রসঙ্গটি আসতে শুরু করছে ।
আমাদের আইনে এই ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু আছে কিনা জানা নেই । তবে বিরোধী দল সংসদে
তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

আমরা ০৯ জিলহজ্জ্ব/০৫ জুন রাত সাড়ে দশটার দিকে মুযদালিফায় পৌঁছলাম। বাস থেকে নেমেই অযু করে একসাথে দুই ইকামায় মাগরিব ও এশার নামায পড়ে নিলাম। নামাযে ইমামতি করেছিলেন আমাদের দলেরই একজন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×