মোবাইলটা হাতে নিয়াই দিলো আছাড়। একেবারে খাট থেকে মাটিতে। ভাবলাম, এই ভাবে তো চলতে দেয়া যায় না।
পুত্রের প্রতি পিতার শিক্ষা শুরু করে দিলাম। ভ্রু কুঁচকে প্রিয়'র দিকে তাকাইলাম। বল্লাম
- প্রিয় যাও ফোনটা নিয়ে আসো।
প্রিয় আমার দিকে তাকায়ে খাতির করা টাইপ হাসি হাসে। বাপের মত আইলসাতো তারে হইতে দেওয়া যাবে না! এবার ঝাড়ি দিয়ে বল্লাম
- প্রিয় খাট থেকে নামো। যাও ফোনটা এনে বাবার কাছে দাও।
ঝাড়িতে মনে হয় কাজ হইলো। মিনমিন করে খাট থেকে নেমে গেলো। সে এখন একাই খাট থেকে নামতে পারে। খুব সাবধানে চাদরে খামচি দিয়ে ধরে প্রথমে। তারপর একটু একটু ঢিল দিয়ে দিয়ে খাট থেকে নেমে যায়। দেখলাম, খাট থেকে নেমে ধীরে ধীরে মোবাইলের দিকে যাচ্ছে। আমি মনে মনে বল্লাম, যাক ঝাড়িতে কাজ হইছে। শিক্ষা জীবন শুরু হয়ে গেলো প্রিয়'র।
ফোনের কাছে গিয়ে ফোনটা হাতে নিলো। হাতে নিয়েই আবার আছাড়। এবারের আছাড় হইলো ভূমিকম্প টাইপ আছাড়। আমি অবাক হয়ে বল্লাম
- প্রিয়!
সে আমার কোন কথায় কান দিলো না। এবার প্রিয় ভ্রু কুঁচকাইলো। আবার ফোনের কাছে গিয়া আরেকটা আছাড়। আমি খাট থেকে ধড়মড় করে নামলাম। কোন ভাবে ফোনটাকে প্রাণে রক্ষা করাইলাম। আর প্রিয় হাটতে হাটতে তার মায়ের কাছে চলে গেলো। ও কী মনে করছে? মায়ের কাছেই সব সময় থাকবো? বাপের কাছে আর আসা লাগবো না? ফাজিল পোলা...।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


