সকাল বেলা বড় একটা অপরাধ করে আসছি। মনটা বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে তাই। অফিসে আসার সময় প্রিয়কে যখন বলি
- প্রিয়, বাবা অফিস যাই?
মুড ভালো থাকলে সে ঘাড়টা কাঁত করে বলে, আত্তা। আর যেদিন মুড অফ থাকে সেদিন আস্তে করে বাম হাতটা নেড়ে টাটা দিয়ে বসে থাকে। আজকে আসার সময় বললাম, প্রিয়, বাবা অফিস যাই? ওমা! বালিশে মুখ গুঁজে সে বললো, না। কাঁধের ব্যাগ নামায়ে রাখলাম। বাপ-বেটা কতক্ষণ কুস্তাকুস্তি খেললাম। আবার বললাম, বাবা অফিস যাই? সে আবারো বললো, না।
এদিক দিয়ে অফিসের দেরী হয়ে যাচ্ছে। বললাম
- প্রিয় তুমি বারান্দায় যাও। বাবা নীচে গিয়ে তোমাকে টাটা দিবো।
এই জিনিসটা প্রিয়'র খুব পছন্দ। সে রাজি হইলো। দড়জা দিয়ে বের হওয়ার পর আমি মানসিক ভাবে অফিসে ঢুকে গেলাম। নীচে নেমে ভুলেই গেলাম, প্রিয় উপরে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। গাড়ীতে উঠে গেলাম। মোবাইল ফোনে খুব জরুরী কয়েকটা জিনিস চ্যাক করতে লাগলাম।
কয়েক সেকেন্ড পরেই মনে হইলো, হায় হায় পোলারেতো টাটা দেই নাই! মুখ ফুটে কথাটা বেরও হয়ে গেলো। ড্রাইভার বললো, স্যার ফেরত যাই? বললাম, নাহ থাক। বাসায় ফোন দিলাম। প্রিয়'র মা খেপে আগুন। বলতেছে
- পোলাটা তোমারে দুই, তিন বার ডাকলো, তুমি শোনলাই না! কী করতেছিলা মোবাইলে? ফেসবুকিং নিশ্চয়ই। এই ফেসবুক মানুষের আর কী কী ক্ষতি করবো!
আমি কোন কথার প্রতিউত্তর করলাম না। প্রতিউত্তর করার মত সিচুয়েশনে আমি নাই। বলতে পারলাম না, বউ অফিস ইন্টারনেট নাই সকাল থেকে। আমি মোবাইলে চেক করতেছিলাম, ইন্টারনেটের লাইন ঠিক হইলো কি না।
মনটা বড় বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। প্রিয়'র ছোট মনে হয়ত যুক্তি ঢুকে যাবে যে বাবা কথা দিয়ে কথা রাখে না। যা আমি কখনোই চাই নাই। পৃথিবীর কেউই বাবাগিরিতে দ্বিতীয় হইতে চায় না। সবাই শ্রেষ্ট বাবা হইতেই চায়।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




