
বিয়ের পরপরের ঘটনা। শশুর শাশুড়ী আমাকে নিয়ে গেলেন বসুন্ধরা সিটি মার্কেটে। ঘড়ি কিনে দিবেন। সাথে বউও আছেন। নিজের জন্য পছন্দ করে গিফ্ট কেনাটা খুবই বিব্রতকর। আমি নতুন জামাই। মুখ খুলে কিছু বলতেও পারি না। ঘড়ি দেখি আর খুব বিনয়ের সাথে বলি
- যে কোন একটা কিনলেই হলো।
পাশ থেকে বউ চউখ রাঙ্গানি দেন। তিনি দামী দামী ঘড়িগুলানের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়ে থাকেন। আমি শেষমেষ খুবই ইকোনমিক একটা ঘড়ি পছন্দ করলাম। এবং জোর দিয়ে বল্লাম, আমার এইটাই পছন্দ হইছে।
সেই থেকে বউ ঘেনর ঘেনর করেই যাচ্ছে, করেই যাচ্ছে - তোমারে ভালো একটা ঘড়ি কিনে দিবো। গত কয়দিন আগে আমারে ধরে বেঁধে নিয়ে গেলো বসুন্ধরা সিটিতে। এবার বুক ফুলায়ে হেটে বেড়াচ্ছি। নিজের টাকায় ঘড়ি কিনবো, এইখানে একটু বেশী দাম হইলে বিব্রত হওয়ার কিছু নাই।
একটার পর একটা ঘড়ি দেখি, পছন্দ হয় না। হঠাৎ করে একটা ঘড়ি দেখি পছন্দ হয়ে গেলো। একটা অটোমেটিক স্কেলেটন ওয়াচ। বাজেট ছিলো পনেরো হাজার টাকার মত। ঘড়িটার গায়ে দেখি লেখা পচিশ হাজার। ভাবলাম, কোনভাবে আর দশ হাজার টাকা বাজেট বাড়ায়ে ফেলি, নিয়ে নেই। অর্ডার দেওয়ার আগে দেখি, ঘড়ির দাম দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা! ঘড়ি পছন্দ হয় নাই এমন একটা চেহারা করে দোকান থেকে বের হয়ে আসলাম।
পরে গেলাম ভিকটরিনক্সের এখানে। এইটা আমার পছন্দের ব্রেন্ড। এই ব্রেন্ডের বেশ কয়েকটা নাইফ আমার আছে। কিন্তু সবচেয়ে কমদামী ঘড়িটার দামও ছত্রিশ হাজার টাকা! বউরে বললাম
- চলো ২৫০ টাকা দিয়া একটা কেসিউ ডিজিটাল ঘড়ি কিনে বাসায় ফিরি।
তিনি আমার দিকে ভ্রু বাঁকা করে তাকাইলেন। বললাম
- আরে বুয়েটের লুৎফুল কবির স্যার দেখছি এমন একটা ঘড়ি পড়েন। ইভিএম ডিজাইন করার মত বিজ্ঞানী যদি পড়তে পারেন তবে আমি পড়লে দোষ কী?
তিনি চাপা স্বরে বললেন
- আগে ঐ রকম বড় মানুষ হও, তারপর না হয় প্লাষ্টিকের ঘড়ি পইড়া ঘুইরো।
মনে মনে বললাম, আর হইছে! যার হয় তার শৈশবেই লক্ষণ দেখা দেয়। যৌবন শেষ হয়ে যাচ্ছে তাও প্রতিভার কোন লক্ষণ টের পাই না।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১১:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




