somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন আজমত সাহেব ও অতিত কিছু অস্তীত্ব।

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালে ঘুম থেকে উঠেই আজমত সাহেব এক কাপ চা খাবেন। এইটা তার গতো ছাব্বিশ বছরের অভ্যেস। এই নিয়ে তাকে কম কথা শুনতে হয়নি গিন্নীর কাছে। কিন্তু আজ এইটার ব্যাতিক্রম হল। ঘরের গিন্নি পরের কথা শুনে চা বন্ধ করে দিলো। অনেক লোক আছে সকালে চা পান না করলে তাদের প্রাতকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয়না। আজমত সাহেব আধাঘন্টা ঝুকেও যখন টয়লেটের বিশেষ কার্য সম্পন্ন করতে পারলেন না, তখন মেজাজ টা স্বাভাবিক থেকে উড়নচন্ডী আকার ধারণ করলো। চোখ দুটো লাল করে গিন্নীর সামনে দাঁড়িয়ে খিচির মিচির করা শুরু করলেন। ভাবখানা এমন যে এই মূহুর্তে টাইফুন আঘাত হানবে তার হাত ধরে। তার গিন্নীও কম যায় না। শারিরীক কসরতের দিক থেকে আজমত সাহেবের থেকে দুই ইঞ্চি লম্বা আর পনেরো কেজি বেশী ওজনের এই মহীলা নিজেকে স্বামীর সেবক বলতে দ্বিধা করেন বরাবর। তার মতে, স্বামীরাই স্ত্রীদের সেবক।
টাইফুন এলোনা। আজমত সাহেব স্বাভাবিক ভাবে বাসা থেকে বেড় হয়ে গলীর দোকান থেকে কড়া লীকারের লাল চা খেয়ে নিলেন। মনের ভিতর একটা বিদ্রোহী ভাব। আজ তিনি বাসায় যাবেন না। সোজা অফিসে যাবেন, রাত্রে হোটেলে থাকবেন। দু একটা দিন শাস্তী না দিলে মেয়ে মানুষ মাথায় উঠে আম পারতে চায়।মনে মনে একশো সাতবার নিজের বাবাকে অপকর্ম করতে চাইলেন। সারা দুনিয়ায় এতো মেয়ে থাকতে এই মেয়েটাকেই তার বাবার চোখে পরেছে।
অফিসের দিকে হাটতে শুরু করলেন তিনি। পিছন থেকে কে একজন বলে উঠলো, এই আজম না!?
আজমত সাহেবের দিলের মধ্যে ঠাস করে একটা আওয়াজ হলো। এই নামে তাকে একজনই ডাকতো। কলেজে থাকাকালীন একটা মেয়ের সাথে তার খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিলো। রীতা। পিছনে তাকালেন আজমত সাহেব। হ্যা রীতাই।
রীতা হাসতে হাসতে এগিয়ে আসলো আজমত সাহেবের দিকে। আহা, হাসিটা সেই আগের মতোই সুন্দর আছে। আজমত সাহেবের মনে আছে, এই মেয়েটা তার খুব ভালো বন্ধু হলেও মনের ভিতর আলাদা একটা জায়গা ছিল এর জন্য। এএকদিন হাত কেটে রক্ত দিয়ে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। এই মেয়েটার জন্যই। তাতে বিশেষ কোন লাভ হয়নি। চিঠির উত্তর দেয়ার আগেই রীতার বিয়ে হয়ে গেছিল দুদিন পরেই। আহা, সেই বিরহ সহ্য করতে না পেরে লজ্জা শরম ভুলে আজমত সাহেব তার বাবাকে চেপে ধরেছিলেন বিয়ে করার জন্য।
আর আজমত সাহবের বাবাও দেরি কপ্রেন নি। সোজা একটা ধুমসী মার্কা মেয়েকে এনে আজমত সাহেবের গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে এক বছরের মাথায় পরপারে জায়গা করে নিয়েছেন। এখন যা যন্ত্রণা সব আজমত সাহেবের।
রীতা হেসে বললো" কেমন আছো, অনেক শুকাইয়া গেছো তুমি!"
আজমত সাহেব রীতার চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বললেন" ভালো না, উষ্ঠা খেয়ে খেয়ে ছাব্বিস বছর কাটলো।"
রীতা আজমত সাহেবের খুব কাছে এসে বললো" এই ছাবিশ বছরে আমাকে একবার ও মনে পরে নাই তাই না!
আজমত সাহেব একটু বিব্রত বোধ করলেন সত্যি , তবে তার এখন ভাল লাগছে। কোথা থেকে একটা ভালো লাগা মনের ভিতর হামাগুড়ী দিয়ে আসলো সেইটা টেরই পেলেন না।
রীতা বলেই যাচ্ছে" তুমি বিয়ে করেছো, আমাকে একবার জানানোর প্র্যোজন মনে করো নাই, আমি কি তোমার খুব পর ছিলাম!?"
আজমত সাহেব বললেন" তোমার বিয়ে হয়েছে শুনে মাথা ঠিক ছিলোনা, হুঠাট করে বিয়ে করে ফেলেছি, তোমাকে দেখানোর জন্য, যে আমার জন্যেও একটা মেয়ে দুনিয়াতে আল্লাহ পাঠিয়েছেন।"
রীতা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটা চিঠি বের করে আজমত সাহেবের সামনে ধরলো।
এই চিঠিটা কি তুমি চেনো?
আজমত সাহেব চিঠিটা হাতে নিয়েই বুঝলেন, এইটা সেই রক্তে লেখা চিঠি। তার ভালবাসার প্রথম ও শেষ চিঠি।
এইটা এখনো তোমার কাছেই আছে?


হুম, গতো ছাবিশ বছরে এইটাই আমার একমাত্র সম্বল ছিলো। এই চিঠিটাই আমাকে বিয়ে করতে দেয়নি। তাই আজো আমি বিয়ে করিনি!।
মানে!?
মানে আমি বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে গেছিলাম। ভেবেছিলাম কিছুদিন পর ত্যোমার কাছে ফিরে আসবো, কিন্তু যখন ফিরলাম তখন তুমি বিয়ে করেই ফেলেছো। তাই তোমার মাঝে আর আসিনি। আছি বেঁচে একা একা। ভালো আছি।

আজমত সাহেব মাটিতে বসে পরলেন। তার মনের ভিতর সত্যি এইবার টাইফুন আসলো। চোখের কোণে পানি আসলো। মাথার উপর কাঁচাপাকা চুলগুলো ঘামের স্রোতে ভিজতে লাগলো। .।.।।।(সংহ্মেপ)।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:০৫
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব চিঠি দিবস ২০২৬: সম্পর্কের মাঝে আবারও চিঠির অনুভূতি।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:২৮



বিশ্ব চিঠি দিবস ২০২৬: সম্পর্কের মাঝে আবারও চিঠির অনুভূতি

বিশ্ব চিঠি দিবস উপলক্ষে এবার বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের কয়েকজনকে নিজের হাতে চিঠি পাঠালাম। ডিজিটাল যোগাযোগের এই সময়ে একটি চিঠি যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট ও বিএনপি কি একে অপরের পরিপূরক?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭


গ্যাস নাই ,বিদ্যুৎ নাই। নিত্যদিনের নানা সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। এভাবে মানুষ বিএনপিকে কতদিন সহ্য করবে? মানুষ সহ্য করতে করতে যখন ধর্যের বাধ সহ্যের বাধ ভেঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×