somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হুজুরের ইংরেজি ডোজ প্রয়োগঃ অতঃপর কার্যকারীতা। পড়ে দেখুন কাজে আসতে পারে

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

--------------------------------------------------------------------------------
১.

ফিরছিলাম হজের সফর শেষে। ৩২ ঘন্টার দীর্ঘ সফর! বিমান আর বাসের সফরে আসে-পাশে অনেক যাত্রী থাকে। আল্লাহর রহমতে ভালোভাবেই ঢাকায় ল্যাণ্ড করলাম। এবার বাসে করে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা। পথে ফুড ভিলেজে বিরতি। জুহর আদায় করে গাড়িতে আসলাম। এখনো কোন যাত্রী আসেনি তাই আবার হোটেলে ঢুকলাম।
.
জুস নিয়ে গেটে আসতেই আমাদের গাড়ি ছেড়ে যাবার ঘোষনা আসলো। দ্রুত আসলাম। গাড়ি পার্কিং করা জায়গা থেকে একটু সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হেল্পার, সুপার ভাইজার নিচে সিগ্রেট টানছে। আমি আর আমার সহযাত্রী হাজি সাব গাড়িতে উঠে বসতে যাব এমন সময় পেছন থেকে শাসানো কণ্ঠে প্রশ্ন -এতক্ষণ কী করলেন?
.
ভেবেছিলাম সুপারভাইজার, তা নয়- একজন যাত্রী। আপাদ মস্তকে ভদ্রতার রেশ আছে বলে অনুমিত হলো। ক্ষুন্ন না করে ভদ্রতার সাথে উত্তর দিলাম ' জ্বী,এইতো একটু কাজ সেরে আসলাম'
গর্জে উঠলেন মধ্য বয়স্ক লোকটি- আপনার কী অধীকার আছে এত যাত্রীর সময় নষ্ট করার??.......এই সেই...(বলতেই ছিল)। আবারও ভদ্রতার সাথেই উত্তর দিলাম, যদিও মনে মনে রাগ হচ্ছিল- আচ্ছা, প্রতিটি গাড়ির নির্দিষ্ট সময় শেষ হলে মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়,এই গাড়িটির ঘোষণা আসার সাথে সাথেই তো আমরা চলে আসলাম। এক সেকেন্ডেও দেরি করি নি। সময় নস্ট করলাম কী করে?
.
উনি দমবার পাত্র নন। পাশে বসা ভদ্রলোকের স্ত্রী হাত টেনেও বসাতে পারছে না। আমাদের কতল করে ছাড়বে- এমন ভাব । বাসের পুরো যাত্রী উনার দম্ভ থামাতে চাইলো,কেউ কেউ চাচা চাচা বলে বসতে বলল, নাহ উনি মানছেই না। আমিও অনুরোধ করলাম, মুরু্ব্বি আপনি আমার বাবার বয়সী প্লিজ ঝগড়া করবেন না, থামুন অনুরোধ করছি'' এই ভাষাতেই আমি রিকোয়েস্ট করলাম। আরো বললাম ' একটা পবিত্র জায়গা থেকে ফিরছি আমি ঝগড়া করতে চাই না' ।
- আরে রাখেন! হুজুর হয়ে, ইসলামের ড্রেস পড়ে ভণ্ডামী সব হুজুররাই এমন। মাথায় পাগড়ি বানলেই হয়??
.
আমার জাতি নিয়ে কটাক্ষ! আর চুপ থাকতে পারলাম না।
৫৫ পার্সেন্ট ভয়েসে বললাম -স্টপ !ইডিয়েট, ইউ আর আ এ্যাবসুলোটলী স্টুপীড! আই থট ইউ আর জেন্টলমেন,নট সো, বি সাইলান্ট এন্ড স্টপ, ইডিয়ট!!' লাউডলীই বললাম। দেখি কি ওসুধে কাজ দিছে। দাঁড়ানো থেকে চাচির কাছে যেয়ে বসেছে।
-ইফ ইউ সে এনিথিং রং, ইউ মাষ্ট আন্ডাসট্যান্ড' - আরেক ডোজ দিলাম। এবার সবাই আমাকে থামার অনুরোধ করল। ইংরেজি টেবলেটে ভালো কাজ দিল।দুই ডোজেই একদম ঠান্ডা। চাচা চুপ! মাথা নিচু। ভেজা বিড়ালের মত।
.

আসলে এই শ্রেনীর লোকেরা আলেমদেরকে যাচ্ছে তাই মনে করে। তাদের অহমটা হলো ইংরেজি।ইংরেজরা পুশ করে গেছে গায়ে গতরে, মননে-মানষে।এ বিদ্বেষ উত্তরাধীকার সূত্রে প্রাপ্ত ! যেহেতু হুজুররা ইংরেজি ব্যবহার করে না তাই ওরা আমাদের মূর্খই মনে করে। কারণ আমরা যে ইলম অর্জন করেছি ঐ লাইনে তো উনারা কিছুই জানে না, মানে মূর্খ। আর মূর্খরা শিক্ষিতের পরিমাপ করবে কিভাবে? কারো ইলম পরিমাপ করারও তো একটা নির্দিষ্ট 'ইলম' থাকা চাই। মাপতে না পেরে অশিক্ষিতই ভেবে বসে। দয়া হয় উনাদের উপর। ন্যুনতম শিক্ষা-দীক্ষা না থাকায়।
.

উনাদের ইংরেজি বিদ্যাটা হলো ফুলা বেলুনের মত। আপনি যদি পীনটা মারতে পারেন তাইলে ফুস করে একটা আওয়াজ দিয়ে চুপসে যাবে। যেমনটা এই মুরুব্বি।এমন ঔষধ অবশ্য বেশবার কাজে দিয়েছে। কিন্তু যারা ইংরেজির পাশাপাশি ইলমে দ্বীন বুঝেছে তারা সত্যিকার মানুষে পরিণত হবার চেষ্টা করেছে।আল্লাহ তাদের ভালো করুন। আর অবুঝদের বুঝ দান করুন। আমার ভাইদের ইংরেজি নামক আলপিন সংগ্রহ করার তাউফিক দান করুন। আমীন।

(বাস থেকে নামার সময় কী ঘটলো ,(উল্টো ফলঃ) ২য় অধ্যায় বাকী থাকলো, জানতে চাইলে কাল ইনশাআল্লাহ) পড়ে দেখুন কাজে আসতে পারে, হুজুরদের ইংরেজি ডোজ
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৩৮
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×