somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সীমান্ত প্রধান
যতবার মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেছি, ততবারই পুরুষ হয়ে উঠি। তুই শালা একটা ‌‘পুরুষ’ শব্দটি সম্ভবত পৃথিবীর নিকৃষ্ট একটা গালিতে রূপান্তরিত হবে। পুরুষ হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই, আমি লজ্জিত, সত্যি লজ্জিত যে আজও মানুষ হতে পারিনি।

দেরীতে‬ হলেও জাগছে সৌদি নারীরা

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইংল্যান্ডের মেরি ওলস্ট্যানক্রাফট ১৭৯২ সালে বলেছিলেন, ‘নারী কোন ভোগের সামগ্রী বা যৌন জীব নয়। তারা বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। তাই তাদের স্বাধিকার দিতে হবে’।

এছাড়া এই নারী অধিকার বা নারী মুক্তির জন্য ১৭৯৩ সালে ফাঁসির কাষ্ঠেও ঝুলতে হয়েছিল ফ্রান্সের ওলিম্পে দ্যা গগ্সকে। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়া পূর্বে তিনি প্রচণ্ড সাহস নিয়েই বলেছিলেন, ‘নারীর যদি ফাঁসি কাষ্ঠে যাবার অধিকার থাকে, তবে পার্লামেন্টে যাবার অধিকার থাকবে না কেন’?

এছাড়াও তিনি সমগ্র বিশ্বের নারীদের জেগে উঠার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘নারী জেগে উঠো; গোটা বিশ্বে যুক্তির সঙ্কেত ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে। তোমার অধিকারকে আবিষ্কার করো। প্রকৃতির শক্তিশালী সাম্রাজ্য এবং পক্ষপাত, গোঁড়ামি, কুসংস্কার ও মিথ্যা দিয়ে অবরুদ্ধ নয়। সত্যের শিখা পাপ ও অন্যায় দখলের মেঘকে দূর করে দিয়েছে।'

সেদিক থেকে সৌদি নারীরা এই যুগে এসেও জাগতে পারেনি। প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি তাদের অধিকারের ছিটেফোঁটাও। বন্দী থাকতে হয়েছে ঘরের চার দেয়ালে, পুরুষের ইচ্ছেতে। এমন কি তারা এতদিন ভোটাধিকারও প্রয়োগ করতে পারেনি। কট্টর পুরুষ-তন্ত্রের বেড়াজালে থাকতে হয়েছে সেখানকার নারীদের।

এমনকি, সেখানকার কোনো নারী যদি স্বামীর কাছ থেকে তালাক-প্রাপ্ত হয় তারপরও সে নারী নিজ ইচ্ছেতে কিছুই করতে পারতেন না। যা করতে হবে তাও তা স্বামীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই করতে হবে! বিষয়টা ভাবতেই বিস্মিত হতে হয়। আর এতেই বুঝা যায় যে, সব থেকে কট্টর পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব সম্পন্ন রাষ্ট্র সৌদি।

তবে যাই হোক, একটু দেরীতে হলেও এবং অল্প-বিস্তর হলেও শেষ পর্যন্ত পুরুষ-শাসিত সৌদি আরবে ঘটতে যাচ্ছে নারী মুক্তির প্রথম ধাপ। আর এই ধাপ উতরে আসতে পারলে সেখানকার নারীরাও পুরুষ-তন্ত্রের বিরুদ্ধে নিজ অধিকার রক্ষার লড়াইতে অবতীর্ণ হতে পারবে। আর এমনটা চলতে থাকলে একটা সময় ‘কাবা’ নিয়ে বাণিজ্য বন্ধের সময়ও ঘনিয়ে আসবে।

সৌদিতে বিধবা ও বিবাহবিচ্ছেদ নারীদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে পৃথক পরিচয়পত্র। এই পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সেখানকার নারীরা পুরুষদের থেকে আলাদা এবং স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করতে পারবেন। নতুন নিয়মে এখানকার নারীরা শিশুদের স্কুলে ভর্তি করাতে পারবেন। চিকিৎসা-জনিত সুবিধাও ভোগ করবেন পুরুষদের সাহায্য ছাড়াই।

এর আগের নিয়ম অনুযায়ী এ কাজগুলো করতে বিবাহবিচ্ছেদ নারীদের বাধ্যতামূলক স্বামীর থেকে অনুমতি নিতে হতো। আর বিধবাদের ক্ষেত্রে দরকার পড়তো আদালতের অনুমতি।

শুধু তাই নয়, এই পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সে দেশটির নারীরা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর সেখানকার পৌর নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন সৌদির নারীরা।

নারীবাদ প্রতিষ্ঠার মধ্যে নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগটাও একটা অধিকার। পার্লামেন্টে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে পুরুষ-তন্ত্রের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মধ্য দিয়েই পৃথিবীতে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইটা শুরু হয়েছিলো। সেসময় নারীদের ভোট দেয়ার অধিকারও ছিল না। সে হিসেবে কট্টর পুরুষ শাসিত সৌদিতে নারীরা ভোট দিতে পারবে, এটি নারী মুক্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খুব আশাব্যঞ্জক একটি দিক।

বলা যায়, নারী যদি চার দেয়াল থেকে একবার বেরিয়ে আসতে পারে। এবং সে যদি তার মত করে বাইরের জগতটা নিজের মতো করে দেখার সুযোগ পায়, তবে নিশ্চিত সে তার অধিকার নিয়ে সচেতন হবে। সে ক্ষেত্রে সৌদি নারীরাও বাইরে বেরনোর সুযোগ পাচ্ছে। সুযোগ পাচ্ছে চাকরি-বাকরি করারও। সেদিক থেকে আশা করতে পারি, একসময় সৌদি নারীরাও পার্লামেন্টে যাবে। প্রতিনিধিত্বও করবে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় পুরুষ-তন্ত্রের শিকলও ভাঙবে। জয়তু নারী।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:১৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। ভাবনা এক সময় সত্যি হয়ে গেলো।
দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×