somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোরগ লড়াই

২০ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রাইমারীতে ফার্স্ট বয় ছিলাম।
কিন্তু আমাকে কখনো স্কুলের কোন খেলায় নেয়া হত না।
কেন জানি না। হ্যাংলা পাতলা ছিলাম দেখে হয়তো!! বাবা-মা অসন্তুষ্ট ছিলেন, একবার বোধকরি স্কুলে অভিযোগও করেছিলেন। আমি তখন টু বা থ্রীতে পড়ি। বাবা-মা এর অভিযোগেই হয়তো দৌড় প্রতিযোগিতায় আমার নাম দেয়া হইল। নিয়ম ছিলো প্রত্যেক ক্লাস থেকে একজনকে নেয়া হবে, তারপর ফাইনাল দৌড় হবে। তাই আমাদের ক্লাসের সবাইকে দৌড়ে অংশ নিতে দিলো।
দৌড় দিলাম,
ভেবেছিলাম ফার্স্ট হয়েছি,
তাকিয়ে দেখি, ফার্স্ট হয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু আরো একজন আমার সাথে ফার্স্ট হয়েছে।
শিক্ষকরা দুইজনকে নেয়ার পক্ষে ছিলো না, নিয়ম ছিলো না হয়তো। তাই এবার আমাদের দুইজনকে দৌড়াতে বলা হলো।
ওকে। দৌড় দিলাম এবং যথারীতি আবার দুইজনই প্রথম হলাম। কয়েকজন শিক্ষক বিরক্তই হ'ল মনে হয়। যাই হোক, সময় স্বল্পতার কারণে আর দৌড়াইতে বলে নাই। কিন্তু আমাদের থেকে কাকে নিবে নিবে এ নিয়ে বাকচিতের মাঝে হুট ঐ ছেলেটাকেই নিয়ে নিলো।

আমি অবাক হলাম, খুব অবাক। ছোট্ট মনে এত্তো এত্তো কষ্ট পেয়েছি যে বলে বোঝাবার নয়। বিষয়টা আমার কাছে এতোটাই কষ্টদায়ক ছিলো যে প্রায় তিন যুগ পরে আজো আমি ভুলতে পারি নাই।
সেবার আর কোন খেলায় আমার নাম ছিলো না। পরের বছর আবার মা-বাবা স্কুলে বললেন যেন আমাকে কোন খেলায় নেয়া হয়। মনে মনে ভাবছিলাম, হয়তো এবারও দৌড়ে নিবে। কিন্তু খেলার দিন জানলাম আমাকে নেয়া হয়েছে মোরগ যুদ্ধে।

মোরগ যুদ্ধ কিভাবে খেলে সেটাই জানতাম না আমরা অনেকে। তো শিক্ষকরা শিখিয়ে দিলো আমাদেরকে বাম হাত দিয়ে পিছন দিক থেকে বাম পায়ের পাতা ধরে রাখতে হবে, আর ডান হাত দিয়ে শরীরের পিছন দিকে বাম হাতের কনুই এর কাছে ধরে রাখতে হবে। এক গোল দাগের ভিতরে সসব খেলোয়াড় থাকবে। খেলার শুরুর সময় থেকে মিউজিক বাজবে, আর মিউজিক এর তালে এক পা দিয়ে নেচে নেচে অন্যদেরকে ধাক্কা দিয়ে দাগের বাইরে নিয়ে যেতে হবে, অথবা ভিতরে ফেলে দিতে হবে। এর মাঝে একবারও পা ছাড়া যাবে না, দুই পায়ে দাঁড়ানো যাবে না ইত্যাদি।

জীবনে তখনো কখনো কারো সাথে মারামারি করিনি, ধাক্কা ধাক্কি করিনি, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়াতো দূরের কথা। যাই হোক, খেলাতে নাম দিয়েছে যেহেতু, সেহেতু খেলতেতো হবেই। মিউজিক বাজলো, শুরু হলো খেলা,
কেউ আমাকে ধাক্কা দেয়, কোন মতে পড়ে যাওয়ার হাত থেকে নিজেকে সেভ করি। আরো কয়েকজন আমাকে ধাক্কা দেয়ার চেষ্টা করলো, নিজেকে শুধু পড়ে যাওয়ার হাত থেকে সেইভ করে গেলাম। এর মধ্যে কয়েকজন পড়ে আউট হয়েছে। আমি কাউকে ধাক্কা দিবো কখন, নিজেকে ধাক্কা থেকে বাঁচাতেই ব্যস্ত ছিলাম। কাউকে ধাক্কা দেই নাই। শুধু ঘুরছি, মাথা ভন ভন করে ঘুড়াচ্ছে।

হঠাৎ গান থেমে গেলো শোরগোলও শুনি। কিন্তু আমি তখনও লাফাচ্ছি, পড়ে যাওয়া যাবে না। দুইজন টিচার এসে আমাকে থামালেন। অবাক হয়ে শুনলাম আমি নাকি ফার্স্ট হয়েছে। তাকিয়ে দেখি ঐ গোল চিহ্নিত ঘরের ভিতরে আমি ছাড়া আর কেউ নাই।
আমি প্রথম হলাম, শিক্ষা জীবনে অংশ নেয়া একমাত্র খেলায় আমি প্রথম হয়েছিলাম। পুরষ্কার হিসেবে একটা স্টীলের বোল পেয়েছিলাম। অদ্ভুৎ ভাবে সেটা এখনো আছে, টিকে আছে, ভালোমতই। ঐ বোল আমাকে সেই খেলাটা ভুলতে দেয় নাই।
কিন্তু ঐ খেলাতে আমি কাউকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেই নাই, আসলে কোন ক্ষেত্রেই আমিমি কখনো কাউকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই নাই।

কিন্তু কিন্তু ধাক্কা দিয়ে অন্যকে ফেলে নিজে জিতে যাওয়ার এই শিক্ষাটা আমরা কেন শিশুদের শিখাই?

যদি এমন কোন খেলা থাকতো যেখানে প্রথমে সবাই পরাজিত, খেলায় জিতবে সেই যে যত বেশী জনকে দাঁড় করাতে পারবে, সবাই জিতবে।
আহা...
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:৩৫
৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাধু সাবধান!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১

রোমান সাম্রাজ্যের পম্পেই এবং বর্তমান বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা, সংস্কৃতি ও সময়কাল সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও, মানুষের সামাজিক আচরণ এবং নৈতিক স্খলনের কিছু ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। নিচে পম্পেইয়ের সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেম....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১০



সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেমঃ সমর্থনের জায়গা থেকেই কিছু কঠিন কথা.....

ছয় মাস খুব দীর্ঘ সময় নয়- কিন্তু একটি সরকারের দিকনির্দেশনা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কিছুটা ধারণা পাওয়ার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইলিয়াস কাঞ্চন

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৩



আমার ছোটোবেলায় ইলিয়াস কাঞ্চন সুপারহিরো। খুব সম্ভবত জীবনে প্রথম হলে দেখা সিনেমা ছিলো জবরদোস্ত। ইলিয়াস কাঞ্চন ও ওয়াসিম নায়ক। তিনবার দেখেছিলাম। বাড়ির কাছে হল। সেভাবে কড়াকড়ি ছিলো না। ছোটো বাচ্চা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "শিউলি গাছ"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

শিউলি গাছ

- মঞ্জুর চৌধুরী

১.

"কাকু ভাল আছেন?"
অনিরুদ্ধ সেন শিউলিতলা থেকে ফুল কুড়াচ্ছিলেন। তাঁর উঠানের সামনে সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা শিউলি গাছটার নিচে সাদা ফুল বিছিয়ে আছে। কমলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পাঠের সওয়াব

লিখেছেন শিমুল মামুন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬


লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এর ফজিলত ও সওয়াব অনেক বেশি। আমলটি করার ব্যাপারে হাদিসে অনেক বর্ণনা এসেছে।

সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফ হয়
আবদুল্লাহ ইবনে আমর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×