এক. তিতলি একটা মেয়ের নাম! খুব সুন্দর একটা নাম। হ্যা, প্রথমে আমিও তাই ভাবছিলাম। পরে ভাবলাম মেয়েটার নাম যখন তিতলি রাখা হয়েছে তারমানে নিশ্চয়ই এর একটা সুন্দর অর্থ আছে বৈকি। কোথায় খুজবো কোথায় খুজবো- যখন এই ভাবনাটা কাজ করছে মাথার মধ্যে। হঠাৎ মনে হলো বাংলা অভিধান কাছে নেই তো কি হইছে, গুগল মামা নিশ্চয়ই একটা ভালো সমাধান দিতে পারবে। যেই ভাবা সেই কাজ, শুরু হলো গুগল সার্চিং। অবশেষে একটা অর্থ পেয়েছি। বাংলার ছাত্র নই বলে তার সত্যতা যাচাই বাচাই করার কোন সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে এই অর্থটাকে সঠিক বলে ধরে নিচ্ছি। তিতলি শব্দটার মানে প্রজাপতি। প্রজাপতিদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে উড়ে বেড়ানো।
আমি যে মেয়েটার কথা বলছি সে মেয়েটার মনেও প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ানোর একটা উদ্যমতা সবসময় কাজ করে। সে অনেক ভালোবাসতো স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে। আর সেই ভালো লাগার ইচ্ছেটা সত্যিই এখন বাস্তবে রূপ পেয়ে গেছে৷ এখন সে ইউরোপের অন্যতম একটি শান্তির দেশে বসবাস করছে। স্বাধীনভাবে ঘুরছে, ফিরছে এবং হেসে খেলেই জীবন পার করে দিচ্ছে। মাঝে মধ্যে তাকে খুব মিস করি। কারণ, এই দস্যি মেয়েটাকে যতটুকু কোমল শান্ত বলে মনে হয়, ঠিক ততটুকু সে রাগী ও আবেগপ্রবন। যখন কোমলতার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে তখন সে রেগে পুরোপুরি লাল হয়ে যায়। তখন তাকে একটা আক্রমনাত্মক দানবী মনে হয়।
দুই. সকালে ঘুম উঠেই একটা খবরে চোখ পড়লো। আমাদের সমুদ্র উপকূলের উপর দিয়ে একটি ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে। আমাদের সিলেটসহ প্রায় ১২টা জেলায় এই ঝড় বয়ে যাবে। এ ঝড়টার আঘাত অনেক মারাত্মক হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। আমাদের দেশের আবহাওয়াবিদরা এই ঘূর্ণিঝড়টার নাম দিয়েছেন 'তিতলি'। নামটা শুনেই আমার মনে একটা দুঃশ্চিতা জেগে উঠলো- আমার তিতলিটা কোমল তবে মাঝে মধ্যে রৌদ্রপ্রতীক দানবী৷ তবে কি এই ঘূর্ণিঝড় তিতলিটাও কি আমার তিতলির মতোই। সমুদ্র উপকূল থেকে নিরবতা থেকে ধ্বংসাত্মক হয়ে আঘাত হানবে কি সেও- আশংকাটা বার বার মনে নক দিচ্ছে!
কারণ, আমার তিতলির মধ্যে মুক্তভাবে বেড়ানোর মতো একটা বিষয় আছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় তিতলিটাকে আমার মোটেই খুব শুভ কিছু মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে কোন অসুরের শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে।
তিন. এদিকে সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর নোটিশ দিয়ে জানিয়েছে তিতলি গভীর ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়েছে। এজন্য সমুদ্র উপকূলে চার নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করা হয়েছে। তিতলি শক্তি সঞ্চয় করে খুব দ্রুত ধেয়ে আসছে- এই কথাটা অবশ্যই ভয়ের। কারণ উপকূলের মানুষদের উপরে এখন এমনিতেই আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটা বোঝা চাপিয়ে রাখা। তবে তিতলির মূল আঘাতটি আসবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে।
তিতলির প্রভাবে সকাল থেকেই মেঘের সাজ সাজ রব। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গতকালের ৩২ ডিগ্রি থেকে এক ধাক্কায় কমে ২৬/২৭ এ নেমে এসেছে। আজ সকাল বেলার হিম ঠাণ্ডায় তিতলির পূর্বাভাস সম্পর্কে সবাই জেনে গেছে। আজ সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেয়া হয়েছে। কিছু জায়গায় ভারি বর্ষণও হতে পারে।
আমাদের সিলেটের তো আকাশ অনেকটা মেঘলা। সূর্যও একটু ব্যাকফুটে গেছে। সকাল থেকে ২/৩বার ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়েছে। আর এই বৃষ্টিই কেবল পারবে ঘূর্ণিঝড় তিতলি দুর্বল করতে। এখন দেখা যাক সামনে আমাদের ভাগ্যে কী আছে?
সমুদ্র উপকূলসহ সারাদেশের মানুষদের মঙ্গল কামনা করছি। নিরাপদে কাটুক সকলের দিন।
বুধবার। ১০.১০.২০১৮ ইং

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ২:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



