দিনাজপুরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ফাহিম মাহফুজ বিপুল গতকাল শনিবার দুপুরে বহিরাগতদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের এমএস পর্বের ছাত্র ফাহিম মাহফুজ বিপুল গতকাল দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে গেটের সামনের একটি দোকানে আসলে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি শাখার কর্মচারী মৃনাল দেব গোস্বামীর সাথে তার বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জের ধরে গতকাল দুপুরে মৃনাল তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি ইফতেখার আহমেদ রিয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অরুন কান্তি রায়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এ ব্যাপারে পূর্বে বেশ কয়েকবার তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত ১ জুন তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন গুরুতর আহত হয়। এরপর সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা এই বিরোধের জন্য স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সাংসদের ভাইসহ কয়েকজন বহিরাগত সন্ত্রাসীকে দায়ী করে এবং অবৈধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপ্রবেশ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঐ সাবেক সাংসদের ভাই বিএনপি জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার ও সন্ত্রসীদের নিয়ে ছাত্রলীগের বিরোধকে উস্কানি দিচ্ছে। এ ঘটনার জের ধরে ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান মারুফ ও রেশিম দিনাজপুরে আসে। তারা গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে কোন্দল নিরসন করতে বৈঠকে বসে। দুপুর দেড়টার দিকে ফাহিম কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে আসে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী লাইব্রেরিয়ান ও ছাত্রলীগের কর্মী শহরের বালুবাড়ী এলাকার মৃণাল কুমার গোস্বামী তার কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে বাইরে এসে ফাহিমকে ডাক দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় মৃণাল ফাহিমকে থাপ্পড় মারে। অবস্থা বেগতিক দেখে ফাহিম দৌড়ে পালিয়ে আসতে চাইলে মৃণাল তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ফলে ফাহিম গুরুতর আহত হয়ে পড়ে। পরে ফাহিমের সঙ্গীরা ছুটে আসলে মৃণাল তার সঙ্গীদের নিয়ে পালিয়ে যায়। আহতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িযোগে ফাহিমকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ভিড় জমায়। এ সময় নেমে আসে শোকের ছায়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর চোখ থেকে ঝরছিল অশ্রু। প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে আসে। সবাই চেষ্টা করছিল সহপাঠীকে হারানো শিক্ষার্থীদের সান্ত্বনা দেয়ার। কিন্তু কোন সান্ত্বনাই যেন তাদের চোখের অশ্রু থামাতে পারছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, মৃণাল কুমার গোস্বামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি শাখার একজন কর্মচারী। সে কিভাবে ছাত্রলীগের কর্মী হয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে বারবার অভিযোগ দেয়া হলেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সে চাকরি পেয়েছে ৪ দলীয় জোট সরকারের সময় নিজেকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সাদেকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন কিছু জানাতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. বলরাম রায় জানান, হত্যাকারী মৃণাল কুমার গোস্বামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি শাখার একজন কর্মচারী। তবে সে দীর্ঘদিন ধরে তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত। সাংবাদিকরা এ সময় মৃণাল কুমার গোস্বামীর বিরুদ্ধে লাইব্রেরিয়ান কর্তৃক লিখিত অভিযোগ থাকার পরেও কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি তা জানতে চাইলে তিনি কিছু জানাতে চাননি। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার ময়নুল ইসলাম জানান, আসামিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হবে। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১২ রাত ৩:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


