somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষুদে হকার (গল্প-৩)

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় চলন্ত বাসটায় লাফ দিয়ে উঠে পড়লো ছেলেটা। কোন মতে তাল সামলে নিয়েই পলিথিনে মোড়ানো অনেকগুলো থেকে একটা কাগজ বের করে.....
"অ্যাই পেপার..পেপার..পেপার ...
বাংলাদেশ প্রতিদিন! আমাদের সময়!
আইয়্যে পেপার ...পেপার লন ...."
বলে তারস্বরে চিৎকার করা শুরু করলো।
কানটা ঝালাপালা হওয়ার উপক্রম! সকাল
সকাল মেজাজ খারাপ হওয়ার জন্য এই
চিল্লাচিল্লিই যথেষ্ট।

তবে নাফিসের মেজাজ খারাপ
হতে বাঁধা দিলো ছেলেটার প্রচন্ড
মায়াবী চেহারা! বয়স বড়জোর ছয় কি সাত। বড় বড় চুল বেয়ে টপটপ করে পানি ঝরছে। গোটা শরীর ভিজে চুপচুপে। ছোকরা আষাঢ়ে বৃষ্টির কবলে পড়েছে!
-ভাই প্যাপার...
ক্ষুদে হকারের কন্ঠে নাফিসের ভাবনার তার
ছিঁড়ে গেলো!
-না..না লাগবেনা।
গোলগাল চোখ দুটোতে নিষ্প্রাণ আঁকুতি! যেন বলছে,
"নেননা ভাই একটা পেপার "
উপেক্ষা করা হলো মায়া মায়া চোখ জোড়ার অনুরোধ! কলেজে যাওয়ার সময় পেপার কিনবো? খেয়ে দেয়ে কাজ নেই!
চুপচাপ বসে রইলো নাফিস।

***

-শালা ...হারামীর বাচ্চা!
আমারে পুরা ভিজায়া দিছস!
অপর সারিতে বসা এক ভদ্রলোকের চিৎকারে পাশ ফিরে তাকালো নাফিস।
ঘটনা বোঝার আগেই পেপারসুদ্ধ
ছেলেটা নাফিসের গায়ে এসে পড়লো।
"কি হইছে আঙ্কেল?" জিজ্ঞেস করলো সে।
"আরে হারামজাদা আমার প্যান্ট
ভিজিয়ে দিছে! ময়লা পানিগুলি সব ফালাইছে ...এই যে..."
ভদ্রলোকের দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকাতেই ওনার হাঁটুর উপর তিন চার আঙুলের
মতো জায়গা ভেজা দেখতে পেল নাফিস।
ভদ্রলোকের পাশে হেলান
দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো বোধহয় ছেলেটা।
পেপার মোড়ানো পলিথিনের পানি গড়িয়ে পড়াতেই বিপত্তি!
ক্ষুদে হকারের গাল লাল হয়ে আছে।
নেমে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

"এই..এদিকে আয়।"
নাফিস ডাক দিলো ছেলেটাকে।
"প্যাপার লাগবো?"
"সকালের খবর থাকলে দে।"
"আছে ..এই লন"
পেপার নিয়ে টাকা দিলো নাফিস।
"ভাংতি নাই? পাঁচ টেকার প্যাপার
নিয়া পঞ্চাশ টেকা দেন ক্যা?"
"নাই তোর কাছে ভাংতি?"
"পাইতিরিশ টেকা আছে"
"নাস্তা করিস।"
ত্রিশ টাকা নিয়ে বাকি টাকা পিচ্চির হাতে দিয়ে বললো নাফিস। ছেলেটাকে আলতো করে চড় মারতে গিয়ে হাতে যেন ছ্যাকা খেলো সে!
"কিরে! তোর শরীর এতো গরম কেন?"
"বিষ্টিতে ভিজ্যা জ্বর আইছে মনে কয়!"
বললোহকার বালক।
পাশ থেকে এক ভদ্রলোক বলে উঠলো,
'ব্যাঙের আবার সর্দি!'
নাফিস ওদিকে ভ্রুক্ষেপ করলো না।
ওষুধ কেনার কথা বলে আরো কিছু টাকা গুঁজে দিলো ছেলেটার হাতে।
চোখমুখে একরাশ আনন্দ নিয়ে ছেলেটা বাসথেকে নেমে গেলো।

***

বেশ কয়েকদিন পর.....
থার্মোমিটার মুখে শুয়ে আছে নাফিস। বাসায় ডাক্তার এনেছে আব্বু। অথচ যন্ত্র বলছে জ্বর মাত্র ১০০ ডিগ্রি!
সেদিন শখ করে বৃষ্টি বিলাসের অনুপাতে সামান্যই বলা যায়। তবুও একটু কিছু হলেই আব্বু ডাক্তার এনে টেনে হুলস্থুল কান্ড ঘটায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।


***
ব্যতিক্রম হয়নি আরো একটি জায়গায়।
মধুবাগের ছোট্ট বস্তিটার জীর্ণশীর্ণ এক
ঘরে জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে ছয় কি সাত বছরের
একটি বালক। বড় বড় চুলগুলো ভিজে আছে উদ্বিগ্ন মায়ের ঢেলে যাওয়া শীতল পানিতে। গোল গোল চোখ দুটো যেন আগুনের ফুলকি হয়ে আছে।
মেললেই পুড়ে যাবে মানুষের মাঝে ভেদাভেদ তৈরি করে দেয়া মুখোশ পরা ভদ্রলোকগুলো।

তবে সুখের বিষয় এই যে, ছোট্ট বালকটা আর চোখ খুলে তাকায় না। পুড়িয়ে দেয়া হয়না গরীব বিদ্বেষী স্যুট টাই
পরা ভদ্রলোকদের।

***

প্রতিদিন শত শত খবরের কাগজে ছাপা হবে আকর্ষণীয় সব গরম গরম খবর।
শুধু অপ্রকাশিত থেকে যাবে ক্ষুদে হকারের
সাদামাটা ছোট্ট গল্পটা।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:৩৩
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মীয়তা বজায় রাখা ইসলামে ফরজ

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:১৪

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা (সিলাতুর রাহিম) একটি মৌলিক নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। এটি কেবল সামাজিক শিষ্টাচার নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশিত ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুরআন ও হাদীসে বারবার আত্মীয়তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ইলিশ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৬


ইলিশ!ইলিশ!! রূপালী ইলিশ, কোথায় তোমার দেশ? 
ভোজন রসিকের রসনায় তুমি তৃপ্তি অনিঃশেষ। 

সরষে- ইলিশ, ইলিশ-বেগুন আরও নানান পদ
যেমন তেমন রান্না তবুও খেতে দারুণ সোয়াদ

রূপে তুমি অনন্য ঝলমলে ও চকচকে।
যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×