somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিনলিপি

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৩ তারিখ ইমতিয়াজ স্যারের এসাইনমেন্ট প্লাস প্রেজেন্টেশন, তাও আবার বাংলায়। অনেকদিন হলো বাংলায় academic writing এর থেকে দূরে আছি। যাই হোক, সাথে কাগজ আর কলম নিয়ে সাহস করে পড়তে বসলাম। লিখার চেষ্টা তো অন্তত করতে হবে! কিন্তু, বিধি বাম, কাগজ-কলম হাতে নিতেই খটোমটো আর্টিকেলটা পড়ার ইচ্ছেটা উবে গেল। তাই বলে কিন্তু লিখা থেমে থাকল না. বিক্ষিপ্ত মনের অবিন্যস্ত রচনা ফুটে উঠল কাগজে. Research Methodology এর article synopsis লিখা না হোক একটা দিনলিপি ত লিখা হল. এই বা কম কিসে......

ইদানীং বুঝতে পারি না, আমি পথে চলেছি নাকি পথই আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। হাটতে হাটতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে পা, মনের সেই অবকাশ নেই। অবিরত এই হাঁটার গন্তব্য আমার জানা আছে ঠিকই কিন্তু পথ, সে তো নেই চেনা। যেদিন থেকে এপথে পা বাড়ালাম সেইদিনই বুঝেছিলাম এ বড় একমুখী রাস্তা, পিছনে ফেরার পথ নেই কোন; ছিল না কোনোকালেই। পথচলা যখন শুরু করেছি শেষ তো করতেই হবে। কর্দমাক্ত বন্ধুর পথের অপার্থিব শীতলতা যতটা না দেহকে, তার চেয়েও বেশী মনকে রক্তাক্ত করে তুলছে বারংবার। অন্তহীন এ রাস্তা দেখে মাঝে মাঝে হার মেনে যেতে চাইছে মন। ভয় হয় কখন যেন মন বিদ্রোহী হয়ে বলে উঠে, “জাহান্নামে যাও তুমি তোমার পথ ধরে। আমায় নিচ্ছ কেন সাথে?” মনটাকে কিছু ছেলেমানুষি লোভ দেখিয়ে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি অবিরাম। পাছে সে বিদ্রোহী না হয়ে উঠে। অবশ্য একটু আশাও কিন্তু আছে, আমার এই মনটাকে যতোটা চিনি আমি তাতে জানি বন্ধুর পথ চলতে তারও ঢের ভালো লাগে। তাই এ মনের বিদ্রোহ করার অবকাশ কম। তাছাড়া যাত্রা শুরু থেকে তো পথ চলছি অন্ধকারেই। যতটুকু আলো পেয়েছিলাম একদা সেও তো এসেছিলো বজ্রের রূপে, আমায় পুড়িয়ে মারবে বলে। প্রচণ্ড বজ্র আর ঝড় যখন আমাকে ক্ষতবিক্ষত করছিল তার সেই অবিরত ঝলসানির মাঝেই এক ঝলক দেখেছিলাম দূর দিগন্তের, দেখেছিলাম দুরের সেই আবছা অবয়ব। দেখতে পারিনি শুধু তার পথ, দেখতে পাইনি শুধু তার সবিস্তার বর্ণনা। জানিনা কি সেই অন্ত শেষের পুরস্কার, ফাঁসিকাঠ না রাজ্যপাট?
রাস্তার ক্রমাগত মোড় চলতে চলতে ভুলে গেছি দিক, হারিয়ে ফেলছি নিজের অস্তিত্ব। ভুলে গেছি কখন শুরু হয়েছিলো এই সর্বনাশা পথচলা, পথ চলতে চলতে ভুলতে বসেছি সময়। কবি একদিন বলেছিলেন, সময় কোথায় সময় নষ্ট করার মতো? কিন্তু যে আমি হারিয়েছি পথের হদিশ, সময়ের দিশা; তার আর সময় কি আর কিই বা অসময়? শুধু বুঝছি এখনও অনেক রাত, পথও তো ঢের বাকি। যদিও এতদিন ধরে চলেছি অন্তহীন পথ তবু কানের পাশে কে যেন বলে গেল, “সবে তো শুরু, যেতে হবে অনেক দূর। শুধু তো রাতের হিম শীতলতাই পেলে। বাকি রয়েছে এখনও সকালের চোখ ধাঁধানো ঝলসানি, দুপুরের প্রখর উষ্ণতা আর আরেকটা দিনশেষের অন্তহীন অপেক্ষা। এখনো বিক্ষত হওনি তুমি, যতোটা প্রাপ্য তোমার।”
প্রাপ্য কি শুধু আমারই, হে পথ? নিজের অজান্তেই যখন পথচলা শুরু করেছিলাম, ফেরালে না কেন আমায়? কেন তুমি হয়ে ওঠনি বন্ধুর, থামিয়ে দাওনি আমার চলার গতি? ফিরিয়ে দাওনি কেন সেদিন আমায় দেখিয়ে উষর মরুভূমি, সুগভীর খাদ, অজেয় পর্বত অথবা অথৈ সাগর। কেন আমার চোখে লাগিয়ে দাওনি দৃষ্টিভ্রম, কেন আমায় ঠেলে ফেলনি তোমার সীমার বাইরে? হয়তোবা পথেরও অজান্তে এই পথিক হেতে এসেছে বহুদূর। পথেরও কীইবা করার ছিল? অনেকের চলার পথ যে একটাই, কিন্তু গন্তব্য তো এক নয়। অন্য সবার সাথে পথ চলতে চলতে নিজের অজান্তেই চলা শুরু করে দিলাম পথের অনাবিষ্কৃত এক অংশে, তখনই হয়তো শিউরে উঠেছিল পথ। আচ্ছা, জড়েরও কি নিজস্ব জগত থাকে? তা নইলে পথের ডাকে সাড়া দিয়ে কিভাবে আকাশ ঢেকে যায় আঁধারে? বজ্র কিভাবে বারকেবার আছড়ে পড়ে আমার শরীরে? কেনই বা ঝড় হারিয়ে দিতে চায় আমায়? সূর্যই বা হুমকি দেয় কেন ঝলসে দেবার? সকাল কেন বলে আমার চোখ ধাধিয়ে দেবে নতুন আলোয়? জেনেছিলাম ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মতো যখন ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে আসে দিন, সূর্যের লালিমা তখনই নাকি খুব গাড় হয়। এই পথ চলতে চলতে যত রক্ত ঝরিয়েছি আমি, শুধু পশ্চিম নয় সমগ্র আসমান আজ রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারত লোহিত সাগরে। বৃষ্টি নয়, আকাশ থেকে ঝরতে পারত আমারই রক্ত। কিন্তু হায়! হয়তোবা কোন সৃষ্টিছাড়া নিয়মহীনের সঙ্গ দেয়না প্রকৃতিও।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×