সুরা আদ-দাহর এর প্রথম আয়াতটি হচ্ছে:
'কালপ্রবাহে তো মানুষের উপর এমন এক সময় এসেছিল যখন সে উল্লেখযোগ্য কোন কিছুই ছিল না'
নাস্তিকতার বিপক্ষে এ এক মোক্ষম আয়াত। আমি চিন্তা করি, বেকুব, অজ্ঞ ও অসৎ লোকজন কত চালাকি করে নাস্তিকতার প েযুক্তি ফাঁেদ। নাস্তিকরা যেন পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব।
কুরআনে তাই বলা হয়েছে 'মানুষ প্রকৃতপ েক্ষ তার অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত যদিও সে নানান অজুহাতের অবতারনা করে।' মানুষের নিজের সত্তাই যেখানে স্রষ্টার প েকথা বলছে সেখানে তার মন কোন হিসেবে স্রষ্টাকে অবিশ্বাস করে?
উক্ত আয়াতটিতে আবার চোখ বুলাই। 'কালপ্রবাহে তো মানুষের উপর এমন এক সময় এসেছিল যখন সে উল্লেখযোগ্য কোন কিছুই ছিল না'। কুরআন অনেক আগেই বলেছে (যদিও বিজ্ঞান এখন বলছে) পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টির আগে আরও অগনিত, অনির্নেয় সময় পার হয়েছে। অর্থাৎ পৃথিবীতে মানুষ নামক জীবের উদয় হওয়ার আগে কি ছিল? হতে পারে অন্য কোন বুদ্ধিমান প্রাণীর খেলার উঠান? অথবা কোন প্রকৃতির খায়েশ মেটানোর তে? অথবা কোন সমুদ্রের নেচে বেড়ানোর বিছানা? অথবা কোন শ্বাপদের হিংসার ছাই?
কে জানে?
বিজ্ঞানীরা? কিন্তু তাদের ভাবনা তো বহুরূপীর রঙের মতো বদলায়। ডাইনোসোর-ট্রাইনোসর আর ষ্টিভেন স্পিলবার্গের কল্যানে আমরা অতীতের যে চিত্র পেয়েছি তা মধ্যরাতের স্বপ্নের চেয়েও বেশী স্বাপি্নক। কুরআনে অবশ্য পৃথিবীর আদি অতীত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়নি, তাই আমার বক্তব্য স্বল্প।
পৃথিবীর ইতিহাস কত দিনের? বিজ্ঞান বলে কয়েক কোটি বছরের। মানুষের ইতিহাস এক লক্ষ বছরের। কিন্তু পৃথিবীর মানুষদের জানা ইতিহাস মাত্র দশ হাজার বছরের অতীত। তাহলে বাকি নব্বই হাজার বছরের ইতিহাসের বেলায় আমরা কি করব? অন্য কোন প্রত্নতাতি্বক খননের জন্য সবুর করব নাকি কোন জাদুঘরের ধুলিঝাড়া প্যাপিরাসের কপির জন্য প্রতিাক্ষা করব? রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী কবিতার কথা এখানে স্মরন হয়---যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী--মহাকালের কাছে মানুষ নিজেই একটি অধীনস্ত ও ছোট সত্ত্বা। আমরা কেউ নিজের জন্য আলো পানি বাতাস মাটি খাদ্য সৃষ্টি করিনি, আর ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যও এগুলো সৃষ্টি করে রেখে যেতে পারব না। আমরা পৃথিবীতে আসার আগেই ওগুলো আগে থেকেই মজুদ ছিল। কাজেই দুনিয়াতে আমরা কেউ মালিক নই, কেউই proprietor নই, কেউই সৃষ্টিকর্তা নই। সবাই হোটেলে আসা ট্যুরিষ্ট অথবা বেড়াতে আসা ভিনদেশী।
তারপরও বড়ই আশ্চর্য যে মানুষ নিজেকে জমিদার, কর্তা বা সব শক্তির চুড়ান্ত মনে করে। বড়ই বেমানানভাবে মানুষ এ দাবী তোলে যে পৃথিবীতে সে একখন্ড জমির মালিক, কিংবা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সার্বভেীম কর্তা কিংবা রিজিকদাতা। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বার বার বিভিন্ন ভঙ্গিতে বলেছেন দেখ মেঘ থেকে বৃষ্টি, জমি থেকে ফসল, নদী থেকে পানি তোমরা উৎপন্ন কর না আমি করি? কার আদেশে এক জায়গা থেকে বাতাস আরেক জায়গায় যায়, পাহাড়ের পা থেকে ছুটে উঠা জল পেীছে যায় সমুদ্রের কোলে? কিংবা জীববিজ্ঞান নিয়ে আল্লাহ বলেছেন দেখ শুক্রানু ও ডিম্বানুর মিলনে যে মানবভূ্রন তৈরি হয়, তা থেকে একটি বয়স্ক মানুষ সৃষ্টি তোমরা কর না আমি করি? সুরা আর-রাহমানে আল্লাহ বার বার তাই বলেছেন: ফাবি আইয়ি আলা ই রাবি্বকুমা তুকাযি্যবান--তোমরা আল্লাহর কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?
তাই সবচেয়ে আশ্চর্যর্জনক হল মানুষ আল্লাহকে devine guidance হিসেবে মানতে অস্বীকার করে। তাই আবার সেই আয়াতটিই মনে হয়--' 'মানুষ প্রকৃতপ েক্ষ তার অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত যদিও সে নানান অজুহাতের অবতারনা করে।'
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার দ্বীনের উপর অটল থাকার তওফিক দান করুন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


