somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এদের চিনে রাখুন, এরা ছাত্রলীগ

০৬ ই জুলাই, ২০১১ রাত ২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'এই প্রতিষ্ঠানে সরকারবিরোধী কোন কার্যক্রম সহ্য করা হবে না। সরকারবিরোধী যে কোন কার্যক্রম আমরা আজকের মতোই প্রতিহত করব।'
ঘোষণাটি চবি'র এক ছাত্রলীগ নেতার।

গত ৫ জুলাই মার্কিন কোম্পানি কনকো ফিলিপসের সঙ্গে সরকারের দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। আর সেই মিছিলে হামলা চালায় সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতারা, নেতাকর্মীরা নয় কারন এ সংগঠনটিতে সকলেই নেতৃত্বের দাবিদার! এমনকি, তারা মিছিলে অংশ নেয়া এক ছাত্রীর ওড়না ধরে টানাটানিও করেছেন।
"বাংলাদেশ ছাত্রলীগ"- নামটি শুনতে ছাত্রসংগঠনের মতো শোনালেও এদের কর্মকাণ্ড, আচরণ কিংবা চরিত্র কোনটিই ছাত্রসুলভ নয় বলেই সর্বজনবিদিত এবং সর্বজনস্বীকৃত। এরা পারে না ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে, পারে না কোন অন্যায়ের সোচ্চার কণ্ঠে প্রতিবাদ করতে। পারবে কী করে? দৈনন্দিন কর্মসূচি যাদের শুরু হয় সকালে বগি দখল করে অশ্লীল গান গেয়ে, সারাদিন ঝুপড়িতে তাস-সিগারেটের আড্ডায়, বকেয়া নাস্তায়- গাঁজার পুরিয়ায়... তাদের সময় কোথায় ছাত্র অধিকার নিয়ে ভাবার???

শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির মূলমন্ত্রধারী এই সংগঠনের নেতাদের দৌরাত্ম্যে দেশের প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট, প্রগতির দ্বার রুদ্ধ, আর শান্তি? তার কথা নাইবা বললাম। তাদের ভয়ে সরস্বতী মর্ত্য থেকে বিতারিত; শিক্ষাঙ্গনগুলোতে অ্যারিস, মার্স এদের অধিষ্ঠান।

এই সংগঠনের প্রত্যেকেই সংগ্রামী, প্রত্যেকেই অকুতোভয় লড়াকু। মসিতে না হলেও কিন্তু অসি চালনায় সুদক্ষ! শুধু কি অসি, আরো কত কী!; তাদের এ লড়াই কিন্তু সাধারণ ছাত্রের অধিকার আদায়ের নয় দখলদারিত্বের।
বড্ড অদ্ভূত নজিরবিহীন তাদের এ লড়াই, প্রতিপক্ষ না খাকলেও থেমে থাকে না! যখন প্রতিপক্ষ থাকে না তখন নিজেদের মধ্যেই এরা লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত রাখে; অনভ্যাসে সমরবিদ্যা আবার না হ্রাস পেয়ে বসে!

বছর দুয়েক আগেই সংগঠনমাতা অভিমান করে তার মাতৃত্ব অস্বীকার করে দায়িত্ব হতে সরে যান। বলিহারি অভিমান তার, দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন কবে যে তা ছেড়ে দিতে হল! তিনি এখন ১৭কোটি মানুষের একটা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিযে বসেছেন দেখে কৌতুকবোধ হয়।

চবি'র ১৮হাজার শিক্ষার্থীর উদ্দেশ্যে বলছি, এদের চিনে রাখুন... এরা ছাত্রলীগ। এরা সেই যারা ফি বিরোধী মিছিলে হামলা করেছিল, আজও যারা হামলা করেছে জাতীয় সম্পদ রক্ষার মিছিলে। এরাই অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের পূর্বতনদের অনুসারী হবে, কেউ আবার লেজুড়বৃত্তিয় ক্ষমতাবলে এই শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষক হয়ে বিশিষ্ঠ ছাত্রনির্যাতনকারী প্রক্টর কিংবা ছাত্র উপদেষ্ঠা কিংবা উপাচার্যের ন্যায় শিক্ষককূলের ইউক্যালিপ্টাসও হয়ে বসতে পারেন। ১৮হাজার মিলিত মুষ্ঠিবদ্ধ হাতের কাছে কখনোই এরা অপ্রতিরোধ্য নয়। এখনই এদের প্রতিহত করুন, সোচ্চার হোন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১১ ভোর ৫:০৬
১২টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×