somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপি–জামায়াত–এনসিপি-আওয়ামী লীগ একে অপরকে চাপে রাখার খেলায়

২৭ শে অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
বিএনপি–জামায়াত–এনসিপি-আওয়ামী লীগ একে অপরকে চাপে রাখার খেলায়



বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এমন এক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে—যেখানে সবাই একে অপরের দরজায় কড়া নাড়ছে, কিন্তু কেউ কাউকে সম্পূর্ণ ভরসা করতে পারছে না।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী আর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এই তিন দল এখন এক অদ্ভুত ভারসাম্যের খেলায় ব্যস্ত। একদিকে জোটের দরজা খোলা, অন্যদিকে ভেতরে ভেতরে চলছে কে কাকে ছাড়িয়ে যাবে তার প্রতিযোগিতা।

বিএনপি: আন্দোলনের পর এবার নির্বাচনী মাঠে পূর্ণ মনোযোগ
বিএনপি এখন আন্দোলনের হাওয়া থেকে অনেকটাই সরে এসে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে মনোযোগী। দলীয় সূত্র বলছে, ২০০ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত, এই মাসেই প্রার্থীরা পাবেন ‘গ্রিন সিগন্যাল’।
দলটি বুঝে গেছে—রাজনীতির বাস্তবতা বদলে গেছে। এখন ময়দানে না নামলে মাঠ হারাতে হবে।
তবে জোটের প্রশ্নে তারা এখনো বলছে—“দরজা খোলা আছে, কিন্তু তালা লাগাইনি।”
অর্থাৎ কারও সঙ্গে জোটে যাবে কি না, তা নির্ভর করছে শেষ মুহূর্তের সমীকরণের ওপর।

জামায়াত: নতুন মুখ, নতুন ভাবমূর্তি
জামায়াতে ইসলামী এবার চাইছে পুরনো বিতর্কের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে। তাই এবার তাদের ৮০ শতাংশ প্রার্থীই নতুন মুখ—তরুণ, শিক্ষিত, পেশাজীবী, এমনকি কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়ও।
তারা এখন নিজেদের বলছে “নতুন প্রজন্মের জামায়াত”।
তবে একইসঙ্গে বিএনপির ছায়ায় ঢাকতে চায় না দলটি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষায়—

“এখনো সময় আসেনি, নির্বাচন ঘনালে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
অর্থাৎ তারা পর্যবেক্ষণে আছে, সময় বুঝে পদক্ষেপ নেবে।

এনসিপি: দুই দিকেই খোলা দরজা, তৃতীয় শক্তির হিসাব
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন রাজনীতির এক নতুন মুখ। দলটি এখনো কোনো জোটে যায়নি, কিন্তু বিএনপি ও জামায়াত—দুই দিকেই যোগাযোগ রাখছে।
তাদের খসড়া প্রার্থী তালিকা তৈরি হচ্ছে ১৫০–১৬০ আসনে, এবং দলীয় সূত্র বলছে—২০টি আসনে বিএনপির সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা নিয়েও আলোচনা চলছে।
ঢাকার যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা—এই এলাকাগুলোকে তারা নিজেদের “জুলাই আন্দোলনের হটস্পট” বলে দাবি করছে।

কিন্তু এনসিপি নেতারা পরিষ্কার করে বলছেন—
[“কয়েকটা আসনের বিনিময়ে আমরা কারও কোলে বসব না।”
অর্থাৎ জোট নয়, প্রভাব—এই শব্দটাই এখন এনসিপির রাজনৈতিক অভিধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চাপে রাখার রাজনীতি: কে কাকে ছাড়াবে?
এখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতা একধরনের সূক্ষ্ম চাপের খেলায় পরিণত হয়েছে।
->> বিএনপি চায় জামায়াত ও এনসিপিকে পাশে রাখতে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণও রাখতে।
->> জামায়াত চায় বিএনপির ছায়া থেকে বেরিয়ে নতুন ইমেজে ভোটে নামতে।
->> এনসিপি চায় দু’পক্ষকেই ব্যবহার করে নিজেদের ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে।
তিন পক্ষের এই মানসিক দ্বন্দ্বই এখন রাজনীতির সবচেয়ে রোমাঞ্চকর থ্রিলার।

মধ্যপন্থী চার দলের সম্ভাবনা
এনসিপি শুধু বিএনপি–জামায়াত নয়, আরও তিনটি দলের সঙ্গে মধ্যপন্থী জোটের চিন্তা করছে—গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
এই চার দল যদি এক প্ল্যাটফর্মে আসে, তাহলে তা হবে এক নতুন কেন্দ্রীয় বল—যা ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয়ের জন্যই সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

আওয়ামী লীগও আসি আসি করছে...
এদিকে আওয়ামী লীগও পিছিয়ে নেই।
দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা না হলেও মাঠে নামাবে তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে চেষ্টা, গোপনে দলীয় মনোনয়ন–বোর্ড সক্রিয়, আর স্থানীয় পর্যায়ে “প্রার্থী চেনার” কাজ করছে তৃণমূল।
তবে আওয়ামী লীগের জন্য চাপ বাড়ছে—একদিকে সরকারি কর্মকাণ্ডের সমালোচনা, অন্যদিকে বিরোধী রাজনীতির পুনর্জাগরণ।
প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন তাদের জন্য দ্বিমুখী চাপের রাজনীতি তৈরি করছে।

শেষ কথা: অনিশ্চয়তার দিগন্ত
এখন প্রশ্ন একটাই—শেষ পর্যন্ত কী হবে?
বিএনপি–জামায়াত–এনসিপি কি এক হবে, নাকি আলাদা পথে হাঁটবে?
আর আওয়ামী লীগ কি আগের মতোই সহজে মাঠ দখলে রাখবে?

রাজনীতির মাঠে এখনো কেউই নিশ্চিত নয়।
বস্তুত, কে জিতবে, কে হারবে—এখনই কেউ বলতে পারছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন,

“এই নির্বাচনের গল্প শেষ মুহূর্তেই লেখা হবে—আর সেটা হয়তো আগের সব হিসাব উল্টে দেবে।”
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ১০:৫২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×