somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের চ্যালেঞ্জ আর শেখ হাসিনার ইন্টারভিউ—চুম্বকের দুই মেরু

৩০ শে অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিনের চ্যালেঞ্জ আর শেখ হাসিনার ইন্টারভিউ—চুম্বকের দুই মেরু



সাংবাদিকতা কখনো কখনো দাবার বোর্ডের মতো—এক চালেই খেলা ঘুরে যায়। খালেদ মহিউদ্দিন সাহেবও হয়তো সেটাই করতে চেয়েছিলেন। তিনি যখন গম্ভীর মুখে ঘোষণা দিলেন—“পশ্চিমা মিডিয়ায় ‘আইনে নিষিদ্ধ’ কারও ইন্টারভিউয়ের একটিও উদাহরণ কেউ দেখাতে পারবেন না”—তখন মনে হচ্ছিল, তিনি যেন এক অভ্রান্ত তত্ত্ব আবিষ্কার করে ফেলেছেন। সাংবাদিকতার ইতিহাসে চূড়ান্ত প্রজ্ঞার এক মাইলফলক স্থাপন হলো বোধহয়!

কিন্তু সমস্যা হলো, ইতিহাস খুবই দুষ্টু জিনিস—ওটা মাঝে মাঝে “চ্যালেঞ্জ” শুনে হাসে। খালেদ মহিউদ্দিনের ঘোষণা ছিল মঙ্গলবারের; শুক্রবারের মধ্যেই শেখ হাসিনার তিনটি ইন্টারভিউ একযোগে ছাপা পড়ল—রয়টার্স, এএফপি আর দ্য ইনডিপেনডেন্টে। তিন মহাদেশের তিন প্রভাবশালী মিডিয়া যেন ঠিক করে ফেলেছিল, “চলো দেখি, কে কাকে ‘আইনে নিষিদ্ধ’ প্রমাণ করে!”

এ যেন “চুম্বক” আর “লোহার টুকরো”র গল্প। খালেদ মহিউদ্দিন সাহেব ছিলেন চুম্বকের মতো আত্মবিশ্বাসী—তিনি বললেন, “আসো, কেউ পারলে দেখাও।” আর শেখ হাসিনার ইন্টারভিউ এসে সেই চুম্বককে টেনে নিয়ে গেল পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত। এ যেন সাংবাদিকতার জগতে মহাকর্ষের উল্টো সংস্করণ—যেখানে “চ্যালেঞ্জ” দেয়ার পর প্রমাণ এসে মুচকি হেসে বলে, “এবার বুঝলে তো?”

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই তিনটি ইন্টারভিউ যেন এক অদ্ভুত কাকতাল। তিন দেশের তিন বিখ্যাত সংবাদ সংস্থা একই সপ্তাহে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করল—এমনটা হয়তো সাংবাদিকতার ইতিহাসে বিরল। কারও চোখে এটা কূটনীতি, কারও চোখে আন্তর্জাতিক সলিডারিটি, আবার খালেদ মহিউদ্দিনের দৃষ্টিতে এটা “পশ্চিমের মিডিয়া লিটারেসির মহাধস”।

তিনি বললেন, “এ কেমন বেআইনি কাণ্ড!”
সত্যিই তো, যখন যুক্তি হারিয়ে যায়, তখন “বেআইনি” শব্দটাই সাংবাদিকের শেষ আশ্রয়।

আরও মজার হলো, তিনি প্রস্তাব দিলেন—সরকার একটা দল পাঠাক অ্যামেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডে, যেন তারা রয়টার্স-এএফপি-ইনডিপেনডেন্টকে “সাংবাদিকতা শেখায়”! ভাবা যায়? আমরা—যাদের নিউজে বানান ভুলে মজে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া, যাদের বিশ্লেষণ হয় কল্পনার বেশি বাস্তবতার কম—তারা নাকি এখন পশ্চিমকে “সাংবাদিকতা” শেখাবে! এটা শুনে হয়তো রয়টার্সের ডেক্সে কেউ বলেছে, “Oh really? Bring popcorn!”

খালেদ মহিউদ্দিন সাহেবের আত্মবিশ্বাস অবশ্য প্রশংসনীয়। তিনি জানেন, “যে হারে বাস্তবতা ধাক্কা দেয়, সে হারে বাচনভঙ্গি শক্ত রাখতে হয়।” তাই শেখ হাসিনার তিনটি ইন্টারভিউ প্রকাশের পরও তিনি পিছু হটেননি। বরং কথার মাধুর্যে তিনি পশ্চিমের মিডিয়াকে ‘অবিবেচক’ ঘোষণা করলেন। যেন বলছেন—“আমি ভুল নই, দুনিয়া ভুল।”

তবে এই ঘটনাটা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক মজার মোড় এনে দিয়েছে। যিনি শেখ হাসিনাকে “অদৃশ্য” ভাবছিলেন, তিনিই তাঁর উপস্থিতির সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ তৈরি করে দিলেন। তাঁর চ্যালেঞ্জটাই যেন হয়ে গেল শেখ হাসিনার গ্লোবাল প্রেস এন্ট্রি কার্ড।

সুতরাং বলা যায়—
খালেদ মহিউদ্দিন সাহেব চমৎকার এক “প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইন” চালিয়েছেন, হয়তো না জেনেই। তাঁর কথা শুনে আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো একযোগে নড়েচড়ে বসল, তারপর দেখল—“Let’s prove the man wrong.”
ফলাফল? শেখ হাসিনার মুখোমুখি তিন মহাদেশ, তিন ভাষা, তিন শক্তিশালী সংবাদমাধ্যম।

শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতার এই ম্যাচে কে জিতলেন, সেটা বলা কঠিন। কিন্তু নিশ্চিতভাবে বলা যায়—
চ্যালেঞ্জটা ছিল বাঙালি, জবাবটা ছিল বৈশ্বিক।
এবং এই দ্বন্দ্বে হারলেও খালেদ মহিউদ্দিন সাহেব ইতিহাসে জায়গা পেয়ে গেছেন—
“যিনি শেখ হাসিনার ইন্টারভিউর বিজ্ঞাপনটা অনিচ্ছায় করে দিয়েছিলেন।”
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ১০:৫৬
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×