somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ সহজ করতে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। ১৮৫০ সালের মধ্যে ইংরেজি ও উর্দুকে ব্রিটিশ ভারতের সরকারি কাজের অন্যতম ভাষা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

যখন সোহরাওয়ার্দী আর শরৎচন্দ্র বসু "বঙ্গভূমি" করতে চাইলে জিন্নাহ বাধা দেয় না। কিন্তু হিন্দু মহাসভা নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী প্রতিবাদ করে বাংলা ভাগ করে ফেললো। কংগ্রেসও শ্যামা প্রসাদকে বাংলা ভাগকে সমর্থন করেছিল। আজকের পশ্চিমবঙ্গকে তারা বাংলার সংগে দিতে মোটেও রাজি ছিলোনা।

জিন্নাহ কখনোই বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় নাই। কিন্তু সেই ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা আমাদেরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে! জিন্নাহ বহু ভাষাভাষী পাকিস্তান রাষ্ট্রের সরকারি কাজের জন্য একটা ভাষা নির্বাচন করেছেলেন সেটা হলো উর্দু।

জিন্নাহ বলেছিলেন "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি আরেকটাবার ব্যাখ্যা করেছি। এই প্রদেশের অফিশিয়াল ব্যবহারের জন্য এই প্রদেশের লোকজন যেমনটা চায় তেমন এক ভাষা তারা পছন্দ করতে পারে। এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। দেশের লোকজন নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের পছন্দমত ভাষা পছন্দ করে নিবে। যাইহোক লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের মধ্যে অন্তর যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত ভাষা অবশ্যই উর্দু হতে হবে অন্য কিছু নয়। সুতরাং রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু এবং অবশ্যই উর্দু যা এমন একটি ভাষা যা উপমহাদেশের লাখ লাখ মুসলমানদের নিবিড় পরিচর্যার বেড়ে উঠেছে পাকিস্তানের প্রতিটি কোনায় কোনায়।

অথচ আমাদেরকে কী শেখানো হলো? আমাদের শেখানো হলো ওরা আমাদের মুখের ভাষা বাংলা কেড়ে নিতে চায়! তারা আমাদের শেখালো রাস্ট্রভাষা ও মাতৃভাষা একই। তারা আমাদের জিন্নাহর বক্তব্যের এই অংশটুকু কাঁটছাট করে ভুল বোঝাতে লাগলো।


জিন্নাহ তার ভাষনের একপর্যায়ে আরো বললেন:
যদিও তারা তাদের চেষ্টা থেকে নিরস্ত রাখছে না প্রতিটা দিন একগাদা মিথ্যা বানোয়াট ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে যাতে দেখানো যায় যে মুসলমানদের মধ্যে সৌহার্দ্য নেই এবং তাদেরকে আইন বিরোধী কাজকামে উদ্বুদ্ধ করা যায় সাম্প্রতিকালের ভাষা বিষয়ক বিতর্কের কথায় ধরুন আমি অতি দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি আপনাদের অনেকেই প্রাদেশিকতাবাদের পাতা ফাদে পা দিয়ে ফেলেছেন। আপনাদের মনে কি এটা কখনো জাগে না যে প্রদেশের পত্রিকা সমূহের কাছে পাকিস্তান কেবল একটি অভিশাপের নাম তারাই ভাষার ব্যাপারে আপনাদের অধিকার শেখাতে আসছে এটা কি মনে হয় না যে অতীতে যে মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে কিংবা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে হুট করে ভাষার বিষয়ে সে এখন আপনাদের ত্রাতা হিসেবে আবর্ভূত হচ্ছে আপনাদেরকে অধিকার সচেতন হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখাচ্ছে এই ফিফথ কলামিষ্ট থেকে সাবধান হন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি আরেকটা বার ব্যাখ্যা করেছি এই প্রদেশের অফিশিয়াল ব্যবহারের জন্য এই প্রদেশের লোকজন যেমনটা চায় তেমন এক ভাষা তারা পছন্দ করতে পারে। এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। দেশের লোকজন নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের পছন্দমত ভাষা পছন্দ করে নিবে। যাই হোক লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের মধ্যে অন্তরযোগের জন্য ব্যবহৃত ভাষা অবশ্যই উর্দু হতে হবে। অন্য কিছু নয়। সুতরাং রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু এবং অবশ্যই উর্দু যা এমন একটি ভাষা যা উপমহাদেশের লাখ লাখ মুসলমানদের নিবিড় পরিচর্যার বেড়ে উঠেছে। পাকিস্তানের প্রতিটি কোনায় কোনায়। যে ভাষা অন্য যেকোনো প্রাদেশিক ভাষার চেয়ে লোকে ভালো বুঝতে পারবে। মুসলমানদের কৃষ্টি এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং অন্যান্য ইসলামী রাষ্ট্রের ভাষাগুলোর মোটামুটি কাছাকাছি রয়েছে।

ভারতীয় ইউনিয়ন থেকে উর্দুর বিতরণ এমনকি অফিশিয়াল ব্যবহার থেকে উর্দুকে বাদ রাখা বিনা কারণে ঘটেনি। ভাষা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে যারা জল খোলা করতে চাইছে ব্যাপারটা তাদের অজানা নয়। এ ঝামেলা স্বীকার না করে উপায় নেই। যদিও তারা স্বীকার করবে না। কেননা তা তাদের মনোবাসনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের ভাষা বিতর্ক সৃষ্টির একমাত্র কারণ মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন তৈরি এবং অবাঙালি মুসলমানদের প্রতি ঘৃণার প্রচারণা প্রদান করা। অবশ্য ভাষা বিতর্কে আপনাদের প্রধানমন্ত্রী করাচি থেকে ফিরে যে স্পষ্ট বয়ান দিয়েছেন যে বাঙালিরা ইচ্ছে করলে বাংলাকে অফিশিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ বানাতে পারে শুনে তারা তাদের কর্মপরিকল্পনা পরিবর্তন করেছে এখন তারা চাচ্ছে বাংলাকে পুরো পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বানাতে এবং আরেকটি মুসলমান রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর দাবিকে তারা অগাহ্য করছে তারা বলছে বাংলা এবং উর্দু দুটোকে রাষ্ট্রভাষা করতে এ বিষয়ে আপনাদের ভুল করা উচিত নয় রাষ্ট্রের একক স্বার্থে কেবল একটা রাষ্ট্রভাষা থাকতে পারে এবং আমার মতে তা উর্দু হতে পারে। এ বিষয়ে অনেক আলোচনা করেছি আমাদের শত্রুদের এবং কিছু সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ্দের ব্যাপারে। তাই আপনাদের সতর্ক করছি। আপনারা যারা জীবনের বিস্তীর্ণ পথে হাঁটতে যাচ্ছেন তারা নিজেদেরকে এইসব মানুষ থেকে দূরে রাখবেন। যারা আরো কিছুদিন পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন তারা নিজেদেরকে স্বার্থান্বেষী রাজনীতিবিদদের বলির পাঠা হতে দিবেন না।


ভিডিওটি সম্পূর্ণ দেখুন নিজেই বুঝতে পারবেন কীভাবে আমাদেরকে দখলদার ভারতীয় বয়ান মন মনন ও মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৩


৫ আগস্ট ২০২৪: জনঅভ্যুত্থান, নাকি নেপথ্যে ক্ষমতার আরেক সমীকরণ?

একটি সরকার পতনের দিনকে আমরা কীভাবে পড়ব- জনতার বিজয় হিসেবে, নাকি রাষ্ট্রক্ষমতার নেপথ্যে ঘটে যাওয়া এক জটিল ক্ষমতা- হস্তান্তর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×